• ই-পেপার

সোমবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ

ঢাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

অনলাইন ডেস্ক
ঢাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় দুপুরের মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টি ঝরতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে তাপমাত্রা কমতে পারে বলেও সংস্থাটি পূর্বাভাস দিয়েছে। 

সোমবার সকাল ৭টা  থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

এতে বলা হয়েছে, আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থেকে মেঘলা থাকতে পারে। হালকা বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্বদিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি দিনের তাপমাত্রা সাধারণত সামান্য কমে যেতে পারে।

এদিকে সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৬ শতাংশ।

খিলগাঁওয়ে কলেজ ছাত্রকে কুপিয়ে জখম

নিজস্ব প্রতিবেদক
খিলগাঁওয়ে কলেজ ছাত্রকে কুপিয়ে জখম

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে এক কলেজ ছাত্রকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে স্থানীয় কয়েকজন যুবক। আহত শিক্ষার্থীর নাম সৌরভ শাহরিয়ার (১৮)। তিনি খিলগাঁও মডেল কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী।

রবিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে খিলগাঁও তিলপাপাড়া এলাকার লাকি ফার্মেসীর সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় সৌরভকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, সন্ধ্যায় তিলপাপাড়া লাকি ফার্মেসীর সামনে সৌরভ তার কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে বসে ছিলেন। এ সময় স্থানীয় যুবক আরাফাত, ফাতিন ও সোলেমানসহ কয়েকজন আকস্মিকভাবে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সৌরভের বাম কাঁধে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

তবে ঠিক কী কারণে সৌরভের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ বা প্রত্যক্ষদর্শীরা।

আহত শিক্ষার্থীর বাবা শুভ মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে ওদের কোনো পূর্বশত্রুতা ছিল না। ওরা এলাকার বকাটে ছেলে। ঘটনার সময় ওরা আমার ছেলের মোবাইল ফোনটি টানাটানি করেছিল, কিন্তু নিতে পারেনি। এরপরই তাকে কুপিয়ে জখম করে।’

ঢামেক হাসপাতালের সামনে ফুটপাত থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢামেক হাসপাতালের সামনে ফুটপাত থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বাগান গেটের সামনের ফুটপাত থেকে এক নবজাতক কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার বিকেলে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

আজ বিকেলে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে শাহবাগ থানা-পুলিশের একটি দল ঢামেক হাসপাতালের বাগান গেটের সামনের ফুটপাতে যায়। সেখানে কালো কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় ওই নবজাতকের মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মো. লাভলু আহমেদ বলেন, ‘৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে আমরা বিকেলে ঘটনাস্থলে যাই। সেখান থেকে ফুটপাতে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় মৃত নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয়।’

এসআই লাভলু আহমেদ আরো জানান, উদ্ধার হওয়া নবজাতকটির বয়স আনুমানিক এক দিন হতে পারে। কে বা কারা মৃত নবজাতকটিকে সেখানে ফেলে গেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

জনপরিসর নিয়ে শিল্প ও স্থাপত্য প্রদর্শনীর উদ্বোধন করল ব্রিটিশ কাউন্সিল

অনলাইন ডেস্ক
জনপরিসর নিয়ে শিল্প ও স্থাপত্য প্রদর্শনীর উদ্বোধন করল ব্রিটিশ কাউন্সিল

রাজধানীর বেঙ্গল শিল্পালয়ে ‘সহাবস্থানের স্থাপত্য: বঙ্গীয় বদ্বীপে জনপরিসরের স্থানিক আখ্যান’ শীর্ষক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। 

আজ রবিবার (২৮ জুন) প্রদর্শনীটি শুরু হয়েছে, যা আগামী ২৫ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

শিল্প ও স্থাপত্যের সমন্বয়ে আয়োজিত এ আন্ত বিষয়ক প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে, কীভাবে নারীবাদী নৈতিকতা, জলবায়ু-সংবেদনশীল পরিকল্পনা এবং জনসম্পৃক্ততা বঙ্গীয় বদ্বীপে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক জনপরিসর গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে পারে। 

প্রদর্শনীতে স্থানীয় উপকরণ, কারুশিল্পের ঐতিহ্য এবং পরিবেশ-সংবেদনশীলতাকে গুরুত্ব দিয়ে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপত্যকর্ম স্থান পেয়েছে। এর মাধ্যমে স্থাপত্যকর্মের সঙ্গে মানুষ, স্থান ও প্রকৃতির পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়গুলো নতুনভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ব্রিটিশ কাউন্সিলের উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড (ওয়াও) বাংলাদেশ গ্র্যান্টস প্রোগ্রামের সহায়তায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্থপতি সাইকা ইকবাল মেঘনা ও শুভ্র শোভন চৌধুরী। প্রদর্শনীটির কিউরেটরিয়াল দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী এবং খ্যাতিমান শিল্পী ও কলা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ওয়াকিলুর রহমান।

প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। উদ্যোগটির প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘জনপরিসর, নগর পরিকল্পনা ও স্থাপত্যকে বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে। ঢাকা ও বিভাগীয় শহরগুলোর মাস্টার প্ল্যানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এ পরিকল্পনা জেলা ও উপজেলা শহরেও সম্প্রসারণ করা হবে। প্রতিটি সরকারি প্রকল্পে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি এবং তাদের যথাযথ অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। শহরকে বৃষ্টি, পানি ও জলবায়ুর বাস্তবতার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে, এগুলোকে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখলে চলবে না।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ও ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জেমস গোল্ডম্যান বলেন, ‘সহাবস্থানের স্থাপত্য প্রদর্শনীতে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি আনন্দিত। শিল্প, স্থাপত্য ও উদ্ভাবনী চিন্তার সমন্বয়ে আয়োজিত এই প্রদর্শনী বঙ্গীয় বদ্বীপে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল জনপরিসর গড়ে তোলার নতুন ভাবনা তুলে ধরেছে। ব্রিটিশ কাউন্সিলের উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড (ওয়াও) কর্মসূচি এ ধরনের উদ্যোগকে সবসময় সমর্থন করে আসছে যা যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাওয়া খাতগুলোর মধ্যে একটি। পাশাপাশি, এটি বাংলাদেশে জলবায়ু-সংবেদনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ায় ব্রিটিশ কাউন্সিলের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ।’

ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস বলেন, ‘এই প্রকল্পের অংশ হতে পেরে আমরা আনন্দিত। সৃজনশীল অর্থনীতি, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা এ উদ্যোগের লক্ষ্য। শিল্পক্ষেত্রে এই দিকগুলোকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকে ব্রিটিশ কাউন্সিল। বিশেষ করে নকশা, স্থাপত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে সমাজকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে এবং বিভিন্ন মত ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, শিল্প ও স্থাপত্য কে কাজে লাগিয়ে কীভাবে সবার জন্য অভিন্ন জনপরিসর তৈরি করা যায় তা নিয়ে নতুনভাবে সবাইকে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করবে এ প্রদর্শনী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তব্য দেন স্থপতি, শিক্ষাবিদ এবং বেঙ্গল ইনস্টিটিউট ফর আর্কিটেকচার, ল্যান্ডস্কেপস অ্যান্ড সেটেলমেন্টসের মহাপরিচালক অধ্যাপক কাজী খালিদ আশরাফ। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এই ইনস্টলেশনটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর নির্মাণ–প্রক্রিয়া। এটি একটি সম্মিলিত প্রক্রিয়া। স্থাপত্যও মূলত সম্মিলিতভাবে গড়ে ওঠে। পোড়ামাটির টালি থেকে শুরু করে স্থানীয় উপকরণ, কারুশিল্প এবং এটি নির্মাণে যুক্ত মানুষের অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে এটি উপকরণ ও নির্মাণশৈলী নিয়ে এক ধরনের অনুসন্ধান। একই সঙ্গে এটি বর্ষা, বদ্বীপ ও জনপরিসরের মধ্যে একটি নতুন সংলাপের সূচনা করে। স্থাপনা, ভূদৃশ্য ও মানুষের মধ্যে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলারও সুযোগ তৈরি করে।’

শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমে লিঙ্গসমতা এগিয়ে নেওয়া এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ব্রিটিশ কাউন্সিলের চলমান অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন এ উদ্যোগ। একই সঙ্গে এটি নারী-নেতৃত্বাধীন সৃজনশীল উদ্যোগ এবং বিভিন্ন শাখার মধ্যে সহযোগিতাকে উৎসাহিত করে। আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সমাজ গড়ে তোলা এবং সৃজনশীল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার বৃহত্তর প্রচেষ্টারও অংশ এ আয়োজন।