রাজধানী ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় আগামী ২৮ জুন (রবিবার) জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে। এদিন ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রায় ১২ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং অপুষ্টিজনিত ঝুঁকি কমাতে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) পৃথক সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫৪টি স্থায়ী ও ১ হাজার ৮৫১টি অস্থায়ী কেন্দ্রে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। প্রতি কেন্দ্রে দুজন করে মোট ৩ হাজার ৮১০ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে ১৮৩ জন প্রথম সারির ও ১০৩ জন দ্বিতীয় সারির সুপারভাইজার কর্মসূচি তদারকি করবেন।
অন্যদিকে ডিএসসিসি এলাকায় ১ হাজার ৭৬০টি কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একযোগে ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। এ কার্যক্রমে প্রায় ৩ হাজার ৬৫৪ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং ১৫০ জন সুপারভাইজার দায়িত্ব পালন করবেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (১ লাখ আইইউ) এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (২ লাখ আইইউ) খাওয়ানো হবে।
ডিএসসিসির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬০৬ জন এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৯৩২ জন শিশুসহ মোট ৫ লাখ ৯০ হাজার ৫৩৮ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
ডিএনসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী, বস্তিবাসী এবং বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশন এলাকায় অবস্থানরত শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল নিশ্চিত করতে চারটি অ্যাম্বুল্যান্সের মাধ্যমে বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ক্যাম্পেইনের দিনসহ পরবর্তী চার দিন এসব এলাকায় শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
এ ছাড়া কর্মজীবী অভিভাবকদের সুবিধার্থে ডিএনসিসির স্থায়ী কেন্দ্রগুলোতে ক্যাম্পেইনের দিনসহ পরবর্তী চার দিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান বলেন, “ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জাতীয় এই কর্মসূচি সফল করতে গণমাধ্যমসহ সব অংশীজনের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।”
সভায় জানানো হয়, সরকারের সরবরাহকৃত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত পরীক্ষাগারে পরীক্ষিত এবং শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ। এ বিষয়ে কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দিয়ে নির্ধারিত সময়ে শিশুদের নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে এসে ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
দুই সিটি করপোরেশনই শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে নগরবাসীর সর্বাত্মক অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কামনা করেছে।




