• ই-পেপার

লাকসামে অর্ধলক্ষ শিশু পাবে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল

তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, ড্রেজার-বাল্কহেডসহ আটক ১৫

ভোলা প্রতিনিধি
তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, ড্রেজার-বাল্কহেডসহ আটক ১৫
সংগৃহীত ছবি

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় দুইটি ড্রেজার ও তিনটি বাল্কহেডসহ ১৫ জনকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. সালমান বিন শওকত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে কোস্ট গার্ড ভোলা বেইসের সদস্যরা বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাঁসেরচর সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে দুইটি ড্রেজার, তিনটি বালুবাহী বাল্কহেড এবং ১৫ জনকে আটক করা হয়।

পরে ভোলা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আটক ব্যক্তিদের ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— মো. স্বপন (৪৮), মো. জাহাঙ্গীর আলম (২২), মো. মেহেদী হাসান (২৪), মো. আল-আমিন (২৬), মো. রাসেল (৩২), মো. আব্দুল বাসেদ (৫০), মো. সুমন (২০), মো. নোমান (১৯), মো. জসিম হাওলাদার (৪০), মো. কবির হোসেন (৩৫), মো. মফিজুল (৫৬), মো. ইসমাইল (৩৫), মো. রিয়াদ (২০), মো. আলমগীর (৪০) ও মো. রাসেল (২৫)। তাদের বাড়ি ভোলা, বরিশাল ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, জব্দ করা ড্রেজার ও বাল্কহেডগুলোর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

লেফটেন্যান্ট মো. সালমান বিন শওকত বলেন, নদী ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি ফসলি জমি এবং বসতভিটা রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ডের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

শিশু জায়ান হত্যার বিচারের দাবিতে পটিয়ায় মানববন্ধন

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
শিশু জায়ান হত্যার বিচারের দাবিতে পটিয়ায় মানববন্ধন
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের পটিয়ায় পাঁচ বছরের শিশু জায়ান আবরার হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে পটিয়া থানার মোড় এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নিহত শিশুর পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ‘জায়ান হত্যার বিচার চাই’, ‘খুনিদের ফাঁসি চাই’ এবং ‘শিশু হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’—এমন নানা স্লোগান দেন। এ সময় তাদের হাতে বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার দেখা যায়।

সমাবেশে নিহত শিশুর মা জোবাইদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার নিষ্পাপ শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। পৃথিবীর আর কোনো মাকে যেন এমন শোক বয়ে বেড়াতে না হয়।’

নিহত জায়ানের বাবা মো. শাহজাহান বলেন, ‘আমার সন্তানকে আর ফিরে পাব না। তবে যারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ দ্রুত সময়ের মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিদের গ্রেপ্তার করেছে। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ফরিদ আহমদ, মফিজুর রহমান, নাজিম উদ্দীন, জমির উদ্দীন আজাদ, ছাত্রদল নেতা আলী হোসেনসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। বক্তারা বলেন, শিশু জায়ান হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। তারা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর এবং দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান।

একই কর্মসূচি থেকে সম্প্রতি গোবিন্দারখীল এলাকায় নিহত ব্যবসায়ী আবুল কাশেম হত্যার বিচার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিও জানানো হয়।

পরে নিহত শিশুর বাবা-মা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমানের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন।

স্মারকলিপি গ্রহণকালে ইউএনও ফারহানুর রহমান বলেন, ‘শিশু জায়ান হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। কোনো অপরাধী যাতে আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে পার পেয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে পটিয়া পৌরসদরের পূর্বপাড়া এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় শিশু জায়ান আবরার। দীর্ঘ ৩৬ ঘণ্টা পর প্রতিবেশীর বাড়ির পেছন থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর ঘটনার নৃশংসতার বিষয়টি সামনে আসে। মামলার তদন্তে গ্রেপ্তার আসামিদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

পিরোজপুরে মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ওষুধ কম্পানির কর্মকর্তা নিহত

পিরোজপুর প্রতিনিধি
পিরোজপুরে মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ওষুধ কম্পানির কর্মকর্তা নিহত
মহাদেব বিশ্বাস। সংগৃহীত ছবি

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক ওষুধ কম্পানির কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে উপজেলার শিয়ালকাঠী চৌরাস্তা এলাকায় কাউখালী-ভান্ডারিয়া সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই কর্মকর্তার নাম মহাদেব বিশ্বাস (৪৫)। তিনি ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের মেডিক্যাল প্রমোশন অফিসার (এমপিও) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি পিরোজপুর ও ভান্ডারিয়া অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করতেন। তার বাড়ি মাগুরা সদর উপজেলায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মহাদেব বিশ্বাস মোটরসাইকেলে করে পিরোজপুর থেকে ভান্ডারিয়ার দিকে যাচ্ছিলেন। শিয়ালকাঠী চৌরাস্তা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের সরাসরি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ছবি ছড়িয়ে পড়লে সহকর্মীরা নিহত ব্যক্তিকে শনাক্ত করেন বলে জানা গেছে।

কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, দুর্ঘটনাকবলিত দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। কী কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।

কেরানীগঞ্জে মুমূর্ষু প্রতিবন্ধীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলেন ইউএনও

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
কেরানীগঞ্জে মুমূর্ষু প্রতিবন্ধীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলেন ইউএনও
ছবি: কালের কণ্ঠ

কেরানীগঞ্জ উপজেলার কদমতলী পয়েন্ট এলাকায় রাস্তার পাশে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকা এক প্রতিবন্ধীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. উমর ফারুক।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত ছুটে যান ইউএনও উমর ফারুক। সেখানে গিয়ে তিনি মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকা ওই ব্যক্তিকে দেখতে পান এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন।

ইউএনও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে একজন দুর্বৃত্ত ওই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ব্যবহার করে ভিক্ষাবৃত্তি করত। পরে সুযোগ বুঝে তাকে অসুস্থ অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পরে প্রশাসনের সহযোগিতায় তাকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ইউএনও উমর ফারুক বলেন, ‘মানবিক দিক বিবেচনায় দ্রুত তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।