• ই-পেপার

নান্দাইল

উপবৃত্তি পায় ৬১ শিক্ষার্থী, ক্লাসে উপস্থিতি সর্বোচ্চ ১০

  • হাজিরা খাতায় উপস্থিতি শতভাগ
  • ঠিকমতো হয় না পাঠদান
  • রয়েছে শ্রেণিকক্ষ সংকট

ওসমানী মেডিক্যালে ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
ওসমানী মেডিক্যালে ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন
সংগৃহীত ছবি

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্নরত নার্সিং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ওয়ার্ড বয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বেসরকারি নার্সিং কলেজের ইন্টার্ন শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুই ওয়ার্ড বয়ের দীর্ঘদিনের ইভ টিজিংয়ের প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে হাসপাতালের আউটডোর ভবনের নিচতলার সার্জিক্যাল মাইনর অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) ড্রেসিং রুমে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন—সুরমা নার্সিং কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিদ (২১), আল-আমিন নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী রবিউল আউয়াল শুভ (২৩) এবং ওয়েসিস নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী প্রীতম রঞ্জন দাস (২৩)। আহতদের ওসমানী হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ওসমানী হাসপাতালে ইন্টার্নশিপে থাকা বেসরকারি নার্সিং কলেজের দুই ছাত্রীর সঙ্গে হাসপাতালের আউটসোর্সিং স্টাফ ওয়ার্ড বয় জামাল ও অঞ্জন সরকার অশোভন আচরণ করেন। তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ইন্টার্ন শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ইন্টার্ন অ্যাসোসিয়েশনের কয়েকজন শিক্ষার্থী সার্জিক্যাল মাইনর ওটির ড্রেসিং রুমে যান। সেখানে নার্সিং স্টাফের উপস্থিতিতে কথোপকথনের একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে মারামারিতে রূপ নেয়। এ সময় ওটি কক্ষের কাচ ও কিছু চিকিৎসা সরঞ্জাম ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওয়ার্ড বয় জামাল ও অঞ্জন সরকার দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রীদের বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি আগেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বুধবার একই ধরনের ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে তারা হামলার শিকার হন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন করেন এবং হাসপাতালের পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দেন।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ) ডা. মোহাম্মদ বদরুল আমিন বলেন, ঘটনার পরপরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে হাসপাতালের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

জামালপুরে ২ এইচএসসি পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুরে ২ এইচএসসি পরীক্ষার্থী বহিষ্কার
প্রতীকী ছবি

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে এইচএসসি পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখার দায়ে দুই পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা চলাকালে উপজেলার হাতীভাঙ্গা আফরোজা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে শিক্ষার্থী সোলেমান মিয়া ও হাতীভাঙ্গা মোফাজ্জল মিয়া মেমোরিয়াল কলেজ কেন্দ্রে শিক্ষার্থী হৃদয় হাসানকে বহিষ্কার করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানা গেছে, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দুই পরীক্ষার্থীর কাছে মোবাইল ফোন থাকার বিষয়টি শনাক্ত হয়। পরে পরীক্ষার বিধিমালা অনুযায়ী তাদের বহিষ্কার করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ জহুরুল হোসেন বলেন, পরীক্ষার হলে ফোন সঙ্গে রাখার দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত কেন্দ্র পরিদর্শন করা হবে।

কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করে ছুরি নিয়ে থানায় স্কুলছাত্র

থানার সামনে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ

ভোলা প্রতিনিধি
কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করে ছুরি নিয়ে থানায় স্কুলছাত্র
ছবি: কালের কণ্ঠ

ভোলার লালমোহনে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করে ছুরি নিয়ে থানায় আত্মসমর্পণ করেছে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্র। ছুরিকাঘাতের সময় কলেজছাত্রের সঙ্গে থাকা মো. আরমান ও মো. আশরাফ নামের আরো দুই কলেজছাত্র আহত হয়েছেন। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের স্বণির্ভর সড়ক সংলগ্ন বালুর মাঠে এ ঘটনা ঘটে।   

মৃত কলেজছাত্রের নাম মো. ইব্রাহিম খলিল নয়ন (১৮)। তিনি লালমোহন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সালাউদ্দিনের ছেলে ও লালমোহন ডা. আজহার উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। আর হত্যাকারীর নাম আব্দুল্লাহ আল মানিক। সে উপজেলার লালমোহন ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ফুলবাগিচা এলাকার মো. আলাউদ্দিনের ছেলে এবং পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল ওহাব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। 

স্থানীয়রা জানায়, দুপুরের দিকে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের স্বণির্ভর সড়ক এলাকায় স্কুলছাত্র আব্দুল্লাহ আল মানিকের সঙ্গে কলেজছাত্র ইব্রাহিম খলিল নয়নের বাগবিতণ্ডা হয়। এ সময় মানিক ইব্রাহিম খলিল নয়নকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান কলেজছাত্র মো. আরমান ও মো. আশরাফ। এ সময় তাদেরও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে মানিক। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইব্রাহিম খলিল নয়নকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া মো. আরমান ও মো. আশরাফের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যালে পাঠানো হয়। ঘটনার পর স্কুলছাত্র মানিক হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি নিয়ে থানায় আত্মসমর্পণ করে।

এ ঘটনায় দুপুর ৩টার দিকে ইব্রাহিম খলিলের সহপাঠীরা লালমোহন থানার সামনে ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। এতে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (লালমোহন সার্কেল) সত্যজিৎ কুমার ঘোষ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার মূল অভিযুক্ত আটক রয়েছে। 

সত্যজিৎ কুমার ঘোষ আরো বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে আরো যারা জড়িত রয়েছে, তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হবে।


 

এইচএসসির প্রথম দিনে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে অনুপস্থিত ১ হাজার ১২৭ পরীক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
এইচএসসির প্রথম দিনে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে অনুপস্থিত ১ হাজার ১২৭ পরীক্ষার্থী
সংগৃহীত ছবি

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথমপত্র পরীক্ষায় বিভাগের চার জেলার ৯৬টি কেন্দ্রে মোট ১ হাজার ১২৭ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। তবে কোনো পরীক্ষার্থী বা পরিদর্শককে বহিষ্কার করা হয়নি।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীনের সই করা দৈনন্দিন তথ্য বিবরণীতে এসব তথ্য জানানো হয়।

তথ্য অনুযায়ী, বোর্ডের অধীন ৯৬টি কেন্দ্রে মোট ৫৭ হাজার ১৭৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৬ হাজার ৪৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। অনুপস্থিত ছিলেন ১ হাজার ১২৭ জন। অনুপস্থিতির হার ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সিলেট জেলার ৩৭টি কেন্দ্রে ২৫ হাজার ১৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৭৩ জন অনুপস্থিত ছিলেন। এ জেলায় অনুপস্থিতির হার ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

হবিগঞ্জ জেলার ২০টি কেন্দ্রে ১০ হাজার ১৮০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৩৯ জন অনুপস্থিত ছিলেন। অনুপস্থিতির হার ছিল ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

মৌলভীবাজার জেলার ১৭টি কেন্দ্রে ১১ হাজার ৩২৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৫৮ জন অনুপস্থিত ছিলেন। এ জেলায় অনুপস্থিতির হার ২ দশমিক ২৮ শতাংশ।

সুনামগঞ্জ জেলার ২২টি কেন্দ্রে ১০ হাজার ৬৫০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৫৭ জন অনুপস্থিত ছিলেন। এ জেলায় অনুপস্থিতির হার ছিল ২ দশমিক ৪১ শতাংশ।

শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, প্রথম দিনের পরীক্ষায় কোনো পরীক্ষার্থী বা পরিদর্শককে বহিষ্কার করা হয়নি। জেলা প্রশাসকদের পাঠানো প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সব পরীক্ষাকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং কোথাও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।