• ই-পেপার

হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তারের আবেদন

আপিল বিভাগের রায়

প্রাথমিকে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পথ খুলল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রাথমিকে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পথ খুলল
সংগৃহীত ছবি

দেশের ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘প্রধান শিক্ষক’ পদে নিয়োগ, শিক্ষকদের পদোন্নতি, বদলি, প্রেষণ নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে দীর্ঘদিনের সেই জটিলতার নিরসন হলো।

আজ বৃহস্পতিবার ৬ বছর আগে দেওয়া হাইকোর্টের এসংক্রান্ত রায় বাতিল করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। এর ফলে ২০১৩ সালে জাতীয়করণ ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগ, শিক্ষকদের পদোন্নতি, বদলি বা প্রেষণের ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে আর কোনো বাধা থাকছে না বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।  

জানা যায়, ২০১৩ সালে সরকার ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অধিগ্রহণ করে। ওই বছরের ৯ জানুয়ারি রাজধানীর প্যারেড গ্রাউন্ডে এক শিক্ষক মহাসমাবেশে তৎকালীন সরকার প্রধান শেখ হাসিনা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের ঘোষণা দেন। পরে ১৯৭৪ সালের প্রাথমিক বিদ্যালয় (অধিগ্রহণ) আইনের ৬ ধারার ক্ষমতাবলে সরকার ওই বছর ৯ সেপ্টেম্বর ‘অধিগ্রহণকৃত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি নির্ধারণ) বিধিমালা’ শিরোনামে বিধিমালা প্রণয়ন করে। ওই বিধিমালার আলোকে অধিগ্রহণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে ওই বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ‘জাতীয়করণ’ করা হয়েছে বলে গণ্য করা হয়। ফলে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরিও ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত হয়। কিন্তু জটিলতা তৈরি হয় এসব শিক্ষকদের পেনশন, সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেলের সুবিধা দেওয়ার দেওয়া নিয়ে। বিধিমালার ২(গ) বিধিতে বলা আছে, ‘অধিগ্রহণ বা জাতীয়করণের’ তারিখের আগে এই সব প্রাথমিকের শিক্ষকরা যত দিন চাকরি করেছেন (কার্যকর চাকরিকাল), তার অর্ধেক সময় ধরে সে অনুযায়ী পেনশন, সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল সুবিধা দেওয়া হবে। তবে তা চার বছরের কম হলে ‘কার্যকর চাকরিকাল’ হিসেবে গণ্য করা হবে না।

২০১৭ সালে ২(গ) এবং ৯(১) বিধির একটি অংশবিশেষ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন কিছু শিক্ষক।

৯(১) বিধিতে বলা আছ, ‘বিধি ৪-এর অধীন কোনো শিক্ষকের নিয়োগ প্রদানের তারিখ হইতে কার্যকর চাকুরীকালের ভিত্তিতে শিক্ষক পদে তাহার জ্যেষ্ঠতা গণনা করা হইবে এবং উক্ত তারিখের অব্যবহিত পূর্বে নিয়োগ বিধির অধীন শিক্ষক পদে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সর্বশেষ ব্যক্তির নিচে উক্ত শিক্ষকের অবস্থান নির্ধারিত হইবে।’

প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। ৯(১) বিধির ‘এবং উক্ত তারিখের অব্যবহিত পূর্বে নিয়োগ বিধির অধীন শিক্ষক পদে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সর্বশেষ ব্যক্তির নিচে উক্ত শিক্ষকের অবস্থান নির্ধারিত হইবে’ অংশটি কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয় রুলে। চূড়ান্ত শুনানির পর হাইকোর্ট ৯(১) বিধির এই অংশ অবৈধ ঘোষণা করে ২০১৯ সালের ১১ মার্চ রায় দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন (লিভটু আপিল) করে সরকার। ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর লিভটু আপিল মঞ্জুর করে সরকারকে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি দেন সর্বোচ্চ আদালত। পাশাপাশি হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়। পরে ২০২৩ সাল সরকার আপিল করে। পাশাপাশি ২০১৩ সালে প্রণীত বিধিমালার অধীনে জাতীয়করণ করা ওইসব বিদ্যালয়ে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরাও আপিল বিভাগে আবেদন করেন। শুনানি শেষে সরকারের আপিল মঞ্জুর করে গতকাল রায় দিলেন সর্বোচ্চ আদালত।

আদালতে আপিলের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ অনীক রুশদ হক, আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন ও মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রমজান আলী শিকদার।

রায়ের পর নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারলে বলেন, ‘আইনি জটিলতার কারণে সারা দেশে প্রায় ৩২ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ছিলেন না। অনেক ক্ষেত্রে হয়তো স্থানীয় আয়োজনে একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারের যে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া, বদলি করার যে ব্যাপার আছে, এই মামলার কারণে এত দিন তা কার্যকর হচ্ছিল না। প্রধান শিক্ষকের পদ খালি ছিল। সরকার নিয়োগ দিতে পারছিল না। নানা রকম জটিলতা। আজকের রায়ের পর সেই জটিলতা নিরসন হবে। সরকার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারবে। একটা শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।’

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্থান থাকবে ওপরে। আর অধিগ্রহণ করা বেসরকারি স্কুল থেকে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের স্থান থাকবে নিচে। এটাই আজ প্রতিষ্ঠিত হলো।’

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অধিগ্রহণ করার পর হাইকোর্টের রায়ের কারণে নতুন করে ৫ হাজার ৮০৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা সৃষ্টি হয় বলে কালের কণ্ঠকে জানান আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ।

দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে ৬ টুকরা, স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে ৬ টুকরা, স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড
ছবি: কালের কণ্ঠ

পাঁচ বছর আগে ঢাকার মহাখালী এলাকায় স্বামীকে হত্যার পর ৬ টুকরা করার দায়ে স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে প্রাণদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকার ষোড়শ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নিপু। দণ্ডপ্রাপ্ত ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পী নিহত ময়না মিয়ার প্রথম স্ত্রী।

অতিরিক্ত পিপি খন্দকার শফি নেওয়াজ নাসির বলেন, “হত্যার দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া লাশ গুমের দায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তাকে তিন মাস বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে।”

আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাহিমুল করিম আকন্দ বলেন, ‘রায় ঘোষণার সময় আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ৩০ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মহাখালীর আমতলী এলাকায় একটি ড্রাম থেকে এক ব্যক্তির মাথাবিহীন দেহ উদ্ধার করে বনানী থানা পুলিশ। একই দিন রাত ১১টার পর মহাখালী বাস টার্মিনালের এনা কাউন্টারের কাছে একটা ব্যাগের মধ্যে উরু থেকে খণ্ডিত দুইটি পা এবং কাঁধ থেকে খণ্ডিত দুইটি হাতের অংশ উদ্ধার করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ। দুই দিনে আলাদা আলাদা স্থান থেকে লাশের ৬ টুকরো উদ্ধার করা হয়। রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগ। 

এরপর মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয় ফাতেমাকে। পরে ফাতেমা পুলিশকে জানায়, পারিবারিক কলহ, টাকা-পয়সা বণ্টন ও একাধিক বিয়েকে কেন্দ্র করে ময়না মিয়া ওরফে শাকিলের সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয়। এক পর্যায়ে ফাতেমা পরিকল্পনা করে তার অটোরিকশাচালক স্বামীকে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে নিস্তেজ করেন এবং পরবর্তীতে গলা কেটে লাশ ৬ টুকরা করেন। একটি লাল রঙের কাপড়ের ব্যাগে মাথা, শরীরের মূল অংশকে একটি নীল রঙের পানির ড্রামে এবং খণ্ডিত দুই পা ও দুই হাতকে একটি বড় কাপড়ের ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখেন ফাতেমা। এরপর ১৩০০ টাকায় রিকশা ভাড়া করে প্রথমে আমতলী এলাকায় শরীরের মূল অংশ ফেলে দেন, পরবর্তীতে মহাখালী এনা বাস কাউন্টারের সামনে খণ্ডিত দুই হাত, দুই পা ভর্তি ব্যাগ রেখে দিয়ে চলে আসেন বাসায়। সেখান থেকে খণ্ডিত মাথা রাখা ব্যাগটি নিয়ে বনানী ১১ নম্বর ব্রিজের পূর্ব পাশ থেকে গুলশান লেকে ফেলে দিয়ে বাসায় আসেন তিনি।

এ ঘটনায় ময়না মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ১ জুন মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর ফাতেমা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর কাজী শরীফুল ইসলাম ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর ফাতেমাকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন। 

২০২৩ সালের ১২ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে আদালত। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আত্মপক্ষ শুনানিতে আসামি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। এরপর নিজের পক্ষে নিজেই সাফাই সাক্ষ্য দেন তিনি। মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ আদালত ফাতেমার সাজার রায় ঘোষণা করে।

সাবেক এমপি আশিকা সুলতানা রিমান্ড শেষে কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাবেক এমপি আশিকা সুলতানা রিমান্ড শেষে কারাগারে
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান–ছবি : সংগৃহীত

রাধানীর মিরপুর মডেল থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার নীলফামারী-৩ আসনের (সংরক্ষিত) সাবেক সংসদ সদস্য মোছা. আশিকা সুলতানার রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দ্বিতীয় দফায় ছয়দিনের রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক আল মামুন হোসেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত ২৫ জুন রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ঢাকার মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বর থেকে আশিকা সুলতানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর দ্বিতীয় দফার গত ২৯ জুন ফের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১৯ জুন মিরপুর এক নম্বরের এপেক্স শোরুম সংলগ্ন বাটা শোরুমের সামনের রাস্তায় আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের ৪০ থেকে ৫০ জন সরকারবিরোধী মিছিল করে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে উপস্থিত আসামিরা তাদের কাছে থাকা বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন রেখে পালিয়ে যায়। পরে ভিডিওতে দেখা যায় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে তারা মিছিল করেছে। ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করে।

অনলাইন জুয়া বন্ধে আইন

সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড, ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক
সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড, ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা

দেশে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে জুয়ার অর্থ লেনদেন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরিচালিত জুয়ার বিস্তার রোধে নতুন আইন প্রণয়ন করেছে সরকার। বুধবার (১ জুলাই) আইনটি জারি করে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই আইনটি কার্যকর হয়েছে।

নতুন আইনে প্রথমবারের মতো অনলাইন জুয়া, অনলাইন বেটিং, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল বেটিং, ফ্যান্টাসি বেটিং, ই-স্পোর্টস বেটিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ডিজিটাল ওয়ালেট, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ম্যাচ ফিক্সিং এবং স্পট ফিক্সিংয়ের মতো ডিজিটাল অপরাধের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এসব কার্যক্রমের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত থাকাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সার্ভার, ক্লাউডভিত্তিক অবকাঠামো, ভিপিএন বা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত মাধ্যম ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা, বেটিং পরিচালনা, অ্যাকাউন্ট খোলা বা ব্যবহার, জুয়ার অর্থ জমা, উত্তোলন কিংবা স্থানান্তর করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। 

বিদেশি অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি, এজেন্ট বা সহযোগী হিসেবেও কাজ করা যাবে না। আইনে সাধারণ জুয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড অথবা দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড অথবা ১ কোটি টাকা জরিমানা করা যাবে। 

অনলাইন বেটিং, বুকমেকার হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা, ভিপিএন বা মিরর সাইট ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা কিংবা ডিজিটাল অবকাঠামোর মাধ্যমে জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও ১ কোটি টাকা জরিমানা এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।  আদালত দোষী ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অথবা স্থায়ীভাবে সংশ্লিষ্ট খেলাধুলা বা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে অযোগ্যও ঘোষণা করতে পারবেন।

জুয়ার বিজ্ঞাপন, প্রচারণা, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা রেফারেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে জুয়ার প্রসারে অংশ নিলে গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ইনফ্লুয়েন্সার, শিল্পী, খেলোয়াড় কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড অথবা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট অথবা অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র ও বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তবে সংঘবদ্ধভাবে অথবা অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে।

আইনে জুয়ার অর্থ ব্যাংক, এমএফএস, ডিজিটাল ওয়ালেট, হাওলা, হুন্ডি কিংবা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে স্থানান্তর, গোপন বা বৈধ করার চেষ্টাকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর সম্পৃক্ত অপরাধ (পেডিকেট ওফেন্স) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।  ফলে এ ধরনের অপরাধে সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনও বিচার করা হবে।

নতুন আইনে আদালতকে অপরাধে ব্যবহৃত বা অপরাধলব্ধ ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, ডোমেইন, সিম, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ডিভাইসসহ সংশ্লিষ্ট সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। জুয়ার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত ভবন, অফিস, কল সেন্টার, সার্ভার অবকাঠামো বা অন্য কোনো সম্পত্তিও আদালতের আদেশে বাজেয়াপ্ত করা যাবে।

কোনো কোম্পানি, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, হোস্টিং প্রোভাইডার বা পেমেন্ট গেটওয়ে এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট পরিচালক, ব্যবস্থাপক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দায়ী করা যাবে। পাশাপাশি আদালত ওই প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, লাইসেন্স বা কার্যক্রম স্থগিত কিংবা বাতিলের নির্দেশ দিতে পারবেন।

আইনে বলা হয়েছে, অনলাইন জুয়া ও সাইবার স্পেস ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধের বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনালে হবে। অন্যান্য অপরাধের বিচার হবে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী। এসব অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপস অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিচে নন, এমন পুলিশ কর্মকর্তা এসব অপরাধ তদন্ত করবেন। 

আদালতের অনুমতি নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযুক্তের ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট বা ক্রিপ্টো ওয়ালেট সাময়িকভাবে ফ্রিজ করতে পারবেন।

আইনে সরকারকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিপ প্যাকেট ইনস্পেকশন (ডিপিআই), ট্রানজ্যাকশন মনিটরিং সিস্টেম, ডেটা অ্যানালিটিক্সসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন জুয়া শনাক্ত ও প্রতিরোধের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। 

একই সঙ্গে জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট ডেটাবেজ, এনআইডি-সিম-এমএফএস লিংকিং সিস্টেম, বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন এবং ফেসিয়াল রিকগনিশনভিত্তিক যাচাই ব্যবস্থা চালুর সুযোগ রাখা হয়েছে।

আইন বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), নির্বাচন কমিশন, সিআইডি, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।  পাশাপাশি, আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, গবেষণা, বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনারও বিধান রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন আইন কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে ঔপনিবেশিক আমলে প্রণীত পাবলিক গ্যামলিং এ্যাক্ট, ১৮৬৭ আনুষ্ঠানিকভাবে রহিত হলো। তবে পূর্ববর্তী আইনের অধীনে চলমান মামলা ও কার্যক্রম নতুন আইনের বিধান অনুযায়ী অব্যাহত থাকবে।