যশোরের কেশবপুরে চিংড়া ধর্মপুর দারুস সুন্নাহ আলিম মাদরাসায় গোপনে গভর্নিং বডির পকেট কমিটি করায় অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলামের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। মঙ্গলবার সকালে মাদরাসার সামনে এলাকাবাসী ওই মানববন্ধন করে। মানববন্ধনে অংশ নেন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা, দাতা, অভিভাবকসহ এলাকার সর্বস্তারের মানুষ।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাফেজ রাহাজউদ্দিন, জমিদাতা আব্দুল হামিদ, অভিভাবক আশুরা খাতুন, রিমা খাতুন প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, ‘মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম গোপনে প্রতিষ্ঠাতা, দাতাসহ মাদরাসা শুভানুধায়ীদের বাদ রেখে রাতের আঁধারে পকেট কমিটি করে অনুমোদনের জন্য মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণ করেছেন। যাদের নাম পাঠানো হয়েছে তাদের অনেকেই কিছু জানেন না। এ কারণে মাদরাসার অধ্যক্ষের অবসারণের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে। গোপনে পকেট কমিটি করার বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।’
বক্তারা আরো বলেন, ‘মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরিত ওই কমিটি বাতিলসহ অধ্যক্ষের অবসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখা হবে।’
মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান হাফেজ রাহাজউদ্দিন বলেন, ‘যে মাদরাসাকে এলাকার মানুষ আগলে রেখেছেন, সেখানে অধ্যক্ষ নিজের একক আধিপত্য বজায় রাখতে গোপনে পকেট কমিটি গঠন করেছেন। আমরা এই অবৈধ কমিটি মানি না এবং দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করছি।
জমিদাতা আব্দুল হামিদ তাঁর বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এলাকার ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা গ্রহণের জন্য আমরা পৈতৃক জমি দান করেছি। কোনো ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়। কমিটি গঠনে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এই জালিয়াতির বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন ছাড়ব না।’
মানববন্ধনে এলাকার নারী অভিভাবকরাও অংশ নিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বক্তব্যে অভিভাবক আশুরা খাতুন ও রিপা খাতুন বলেন, ‘এলাকার অভিভাবকদের বাদ রেখে যিনি মাদরাসার কমিটি করতে পারেন তার কাছে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ নয়। সে কারণে আমরা এমন অধ্যক্ষকে মাদরাসায় দেখতে চাই না।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও ফোন না ধরায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে মাদরাসার উপাধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘মাদরাসার সামনে মানববন্ধনকারীরা তাদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। কমিটি গঠনের বিষয়ে অধ্যক্ষ মহোদয় ভালো বলতে পারবেন।’





