• ই-পেপার

মসজিদে ইমামের ঝুলন্ত মরদেহ, পাশে চিরকুট

গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল যুবকের, আহত ২

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল যুবকের, আহত ২

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার পোনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় শাহিদ মাতুব্বর (৩২) নামে এক যুবকের প্রাণ গেল। এ ঘটনায় আরো দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। 

বুধবার (২৪ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে একটি অজ্ঞাতনামা দ্রুতগামী যানবাহনের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শাহিদ মাতুব্বর ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার উত্তর কান্দি গ্রামের রুস্তম মাতুব্বরের ছেলে। আহতরা হলেন—নগরকান্দা উপজেলার দফা গ্রামের মো. আলী ফকিরের ছেলে মো. এমদাদুল ফকির (৩২) এবং সালথা উপজেলার ইউসুফদিয়া গ্রামের নুরু মোল্লার ছেলে সেকেন্দার মোল্লা (৩২)।

কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, বুধবার ভোরে পোনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি অজ্ঞাতনামা দ্রুতগামী যানবাহন একটি নসিমনকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে নসিমনে থাকা শাহিদ মাতুব্বর ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং আরো দুজন আহত হন।

পরে পথচারীরা সড়কের পাশে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে আহতদের উদ্ধার করে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চুনারুঘাট

পাহাড়ি ঢলে সেতু ধস, বিচ্ছিন্ন ২ চা বাগান

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
পাহাড়ি ঢলে সেতু ধস, বিচ্ছিন্ন ২ চা বাগান
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে সেতু ধসে লস্করপুর ও কাপাই চা বাগানের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

কয়েক দিনের টানা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার লস্করপুর ও কাপাই চা বাগানের সংযোগসড়কের সেতু ধসে পড়েছে। রবিবার (২১ জুন) ও সোমবার (২২ জুন) টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সেতুর দুই প্রান্তের অ্যাপ্রোচসহ মাঝের অংশ ধসে পড়ে। ফলে দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ দুই চা বাগানের প্রায় আট হাজার মানুষের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া দুটি চা বাগানের উৎপাদিত চা পাতা পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেমে এসেছে স্থবিরতা। সংগ্রহ করা কাঁচা চা পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১৫ বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাগানের সড়কে সেতুটি নির্মাণ করে। লস্করপুর ও কাপাই চা বাগানের প্রায় ২ হাজার শ্রমিক পরিবারের আট হাজার মানুষ এ সেতু ব্যবহার করতেন। কাপাই চা বাগানের শিক্ষার্থীরা লস্করপুরে অবস্থিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে এই সেতু দিয়েই। কাপাই বাগানের উৎপাদিত চা পাতাও লস্করপুর কারখানায় নেওয়া হয় এ পথেই।

চুনারুঘাট পাইকপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওয়াহেদ আলী মাস্টার জানান, কাপাই চা বাগানে প্রায় ৫০০ শ্রমিক ও দুই হাজার বাসিন্দা এবং লস্করপুর চা বাগানে প্রায় এক হাজার ৫০০ শ্রমিকসহ প্রায় ছয় হাজার মানুষের বসবাস। সেতু ধসে দুই বাগানের প্রায় ৮ হাজার মানুষই এখন ভোগান্তিতে পড়েছেন।

তিনি আরো জানান, বৃষ্টি হলেই সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের পাহাড়ি এলাকার পানি সেতুর নিচের ছড়া দিয়ে নেমে আসে। কয়েক বছরে ছড়াটি ছোট নদীর রূপ নেওয়ায় সেতুটি ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। কিন্তু মেরামতের উদ্যোগ না নেওয়ায় রবিবার ও সোমবার রাতের ঢলে দুই প্রান্তের অ্যাপ্রোচসহ মাঝের অংশ ধসে যায়। এতে চা পাতা পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে। দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমিক ও তাদের পরিবার। কাপাই চা বাগানের শ্রমিকরা উপজেলা সদরেও যেতে পারছেন না।

লস্করপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. সাজ্জাদুল হক বলেন, ‘কাপাই বাগানের চা পাতা এখন কয়েকটি বাগান ঘুরে মহাসড়ক হয়ে কারখানায় আনতে হচ্ছে। এতে সময় ও ব্যয় দুটিই বেড়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের চলাচলেও চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। সেতুর মাঝের পিলারও ভেঙে পড়েছে। তাই এটি মেরামত করে ব্যবহার উপযোগী করা সম্ভব নয়। সেখানে নতুন সেতু নির্মাণই একমাত্র সমাধান।’

চুনারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী বলেন, ‘সেতুটি ধসের সঙ্গে সঙ্গেই সরজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানানো হয়েছে। আপাতত মেরামত করে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজন ও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছ।’

চুনারুঘাট উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক জানান, চা বাগান কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। নতুন সেতু নির্মাণের জন্য সদর দপ্তরে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হবে।

যশোর

ঝোপ থেকে সন্ত্রাসী ‘চশমা সাইদের’ গলাকাটা লাশ উদ্ধার

যশোর অফিস
ঝোপ থেকে সন্ত্রাসী ‘চশমা সাইদের’ গলাকাটা লাশ উদ্ধার

যশোরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলার আসামি সাইদ সরদার ওরফে ‘চশমা সাইদকে’ (৩২) গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (২৪ জুন) সকালে যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামের নিজ বাড়ির পাশের একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত সাইদ সরদার রঘুরামপুর গ্রামের নয়া সরদারের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, চাঁদাবাজি, হত্যাচেষ্টা ও মাদক-সংক্রান্তসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সকালে বাড়ির পাশের ঝোপের মধ্যে রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা সাইদ সরদারের গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। মরদেহের পাশেই একটি ধারালো চাকু পড়ে ছিল। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের ধারণা, মাদক ব্যবসা কিংবা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মমিনুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।

টঙ্গীতে ছিনতাইকারী সন্দেহে পিটুনি, তরুণ নিহত

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর
টঙ্গীতে ছিনতাইকারী সন্দেহে পিটুনি, তরুণ নিহত
ছবি : কালের কণ্ঠ

টঙ্গী-আব্দুল্লাহপুর ফ্লাইওভারের নিচে পিটুনিতে এক অজ্ঞাতনামা ছিনতাইকারীর (২২) মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সকাল ৭টার দিকে টঙ্গী স্টেশন রোড থেকে ফ্লাইওভারে ওঠার সিঁড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এদিন সকাল ৭টার দিকে টঙ্গী স্টেশন রোড থেকে ফ্লাইওভারে ওঠার সিঁড়িতে জনতা ছিনতাইকারী সন্দেহে অজ্ঞাতনামা ওই তরুণকে পিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।

টঙ্গী পূর্ব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিল্লুর রহমান কালের কণ্ঠকে সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’