• ই-পেপার

নাশকতা প্রতিরোধে সাভারে ছাত্রদলের মোটরসাইকেল শোডাউন

ফরিদপুরে মাদক কারবারি সন্দেহে গণপিটুনি, প্রাইভেট কারে আগুন

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে মাদক কারবারি সন্দেহে গণপিটুনি, প্রাইভেট কারে আগুন
সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে মাদক কারবারি সন্দেহে মামুন মোল্লা (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি ও তার ব্যবহৃত প্রাইভেট কারে আগুন দেওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তবে ঘটনার পর পুলিশি তল্লাশিতে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার না হওয়ায় পুরো ঘটনাকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের মালিখালী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মামুন মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। অপরদিকে তার পরিবারের দাবি, অতীতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলার শিকার করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সন্ধ্যার দিকে মামুন মোল্লা একটি প্রাইভেট কার নিয়ে এলাকায় আসলে কয়েকজন তাকে মাদক ব্যবসায়ী বলে চিহ্নিত করে। একপর্যায়ে সেখানে লোকজন জড়ো হয়ে তাকে মারধর করে। পরে উত্তেজিত জনতা তার ব্যবহৃত প্রাইভেট কারে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত মামুনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

মামুনের বাবা মানিক মোল্লা বলেন, আমার ছেলে ফরিদপুর আদালতে একটি মামলার হাজিরা দিয়ে বাড়িতে এসেছিল। দুপুরে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঢাকায় যাওয়ার জন্য আত্মীয়ের প্রাইভেট কার নিয়ে বের হয়। পথে তাকে আটক করে মারধর করা হয় এবং গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। অথচ তার কাছে কোনো মাদক ছিল না।

তিনি দাবি করেন, তার ছেলে অতীতে মাদকাসক্ত থাকলেও অনেক আগেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তিকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে শাস্তি দেওয়া সমর্থনযোগ্য নয়।

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মামুনের বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। স্থানীয়রা তাকে মারধর করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। তবে তার কাছ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার হয়নি। গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ঘটনার পর এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে, মাদকবিরোধী ক্ষোভ কতটা ন্যায়সঙ্গত আর আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কতটা গ্রহণযোগ্য। আইনজীবী ও সচেতন মহল বলছেন, কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত কি না, তা নির্ধারণের একমাত্র এখতিয়ার আদালতের। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে মারধর করা কিংবা তার সম্পত্তি ধ্বংস করা আইনের চোখে অপরাধ।

আশুলিয়ায় শিশু ধর্ষণকারী বিদেশ সরকার গাইবান্ধা থেকে গ্রেপ্তার

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
আশুলিয়ায় শিশু ধর্ষণকারী বিদেশ সরকার গাইবান্ধা থেকে গ্রেপ্তার
বিদেশ সরকার

সাভারের আশুলিয়ায় ৬ বছর বয়সী এক শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি বিদেশ সরকারকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে র‍্যাব-৪, সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর আরমান হোসেন হৃদয় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানান। এর আগে মঙ্গলবার ভোর রাতে গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাহপুর উপজেলার দশুলিয়া গুচ্ছগ্রাম এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেপ্তারকৃত বিদেশ সরকার ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার শিমুলিয়া ইউনিয়নের মৃত বাবুলাল সরকারের ছেলে। তিনি তামা-কাশার দোকানে কাজ করেন, পাশাপাশি বাংলা মদ বানিয়ে বিক্রি করেন বলে জানান স্থানীয়রা।

র‍্যাব জানায়, আশুলিয়ার লালারটেক এলাকার ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ১৭ জুন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর প্রতিবেশী বিদেশ সরকারের ছেলের সঙ্গে শিশুটি খেলতে যায়। এসময় বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে বিদেশ সরকার শিশুটিকে পাশের রণজিৎ সরকারের বাড়ির একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে শিশুটি তার পরিবারের সদস্যদের ঘটনা জানালে তার বাবা বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

র‍্যাব-৪, সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর আরমান হোসেন হৃদয় জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর আসামিকে গ্রেপ্তারে ছায়া তদন্ত শুরু হয়। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামির অবস্থান সনাক্তের মাধ্যমে র‌্যাব-৪, র‌্যাব-১ এবং র‌্যাব-১৩ এর একটি যৌথ আভিযানে গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাহপুর থানাধীন দশুলিয়া গুচ্ছগ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার আসামিকে আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান র‍্যাবের এই কর্মকর্তা।

অন্যদিকে শেরপুর সদর থানায় দায়েরকৃত শিশু অপহরণ ও ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির মামলার প্রধান আসামি নাজিম মিয়াকে (২০) র‌্যাব-৪ এর সহযোগিতায় আশুলিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৪। তবে এ ঘটনায় অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শেরপুর সদর থানায় হস্তান্তরের পাশাপাশি অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধারে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে আবাদি জমির ঘাটতিসহ ৫ চ্যালেঞ্জ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে আবাদি জমির ঘাটতিসহ ৫ চ্যালেঞ্জ
ছবি: কালের কণ্ঠ

কৃষির উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশি অর্থায়ন ও বিদেশি ঋণে পরিচালিত হচ্ছে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প, যার ব্যয় প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, খাদ্যশস্য উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনা, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো, কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি করা ও উন্নয়ন এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। 

বর্তমান সরকার বেশ গুরুত্ব দিয়েই এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে রূপরেখা অনুযায়ী বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২০২৩ সালের জুলাই থেকে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে ২০২৮-এর জুন নাগাদ।

তবে প্রকল্প বাস্তবায়নকে মোট পাঁচটি বিষয়কে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, নতুন আবাদযোগ্য জমির ঘাটতি ও কৃষি জমির পরিমাণ কমে যাওয়া। এছাড়া রয়েছে, উত্তম কৃষি চর্চায় প্রয়োজনীয় জনবল পদায়ন এর প্রত্যয়ন কার্যক্রম আরম্ভ করা, উত্তম কৃষি চর্চায় প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান না থাকা, ফিজিক্যাল কার্ডের পরিবর্তে ভার্চ্যুয়াল কার্ড সংক্রান্ত ক্রয় প্যাকেজ পুন:নির্ধারিণের জন্য ডিপিপি সংশোধন, ল্যাবরেটরিতে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলের অভাব।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রোগ্রাম অন অ্যাগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্টারপ্রেনরশিপ এন্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রোগ্রামের আওতায় ‘পার্টনার কংগ্রেস’ এ এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলা হলরুমে সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ পার্টনার কংগ্রেস আয়োজন করে।

সদর উপজেলা কৃষি অফিসার শাহানা বেগমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মুনসী তোফায়েল হোসেন, সদর উপজেলা সমবায় অফিসার আজিজুল হক, সদর উপজেলা বিআরডিবির চোয়ারম্যান আলী আজ্জম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন, সাধারণ সম্পাদক মো. বাহারুল ইসলাম মোল্লা, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন। অনুষ্ঠানে পার্টনার নানা তথ্য উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত কৃষি অফিসার সালমা সুলতানা। 

জেলার আখাউড়া উপজেলাতেও মঙ্গলবার দুপুরে পার্টনার কংগ্রেস আয়োজন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাপসী রাবেয়ার সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপ-পরিচালক মো. মোস্তফা এমরান হোসে। আয়ে এ বিষয়ে নানা তথ্য উত্থাপন করা হয়। প্রকল্পের আওতাধীন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সারাদেশেই একইভাবে পার্টনার কংগ্রেসের আয়োজন করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল প্রকল্পটি অনুমোদন হয়। ওই বছরের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিবে প্রায় ১১৫ কোটি টাকা ও বাকি প্রায় ৫৭৫ কোটি টাকা বিদেশি ঋণ থেকে ব্যয় করা হবে। আটটি বিভাগ, ১৪টি কৃষি সম্প্রসারণ অঞ্চলের ৪৯৫টি উপজেলাকে প্রকল্প এলাকার আওতায় আনা হয়েছে।

সূত্র জানায়, এ প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা হলো- উত্তম কৃষি চর্চা প্রত্যয়নসহ ফল ও সবজি আবাদী জমির পরিমাণ বৃদ্ধি করা, উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনসহ আবাদ জমির পরিমাণ বৃদ্ধি করা, দানাদার শষ্য (ধান ব্যতীত) ডাল ফসল, তেলবীজ ও উদ্যান ফসলের জাত উদ্ভাবনসহ আবাদী জমির পরিমাণ বাড়ানো, উন্নত ও দক্ষ সেচ প্রযুক্ত ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন আবাদী জমি সেচের আওতায় আনা, কৃষি স্মার্ট কার্ড এর মাধ্যমে কৃষি পরিসেবা দিয়ে ডিজিটাল কৃষিসেবা সম্প্রসারণসহ আরো কিছু বিষয়। ইতিমধ্যেই উত্তম কৃষি চর্চায় লক্ষ্যমাত্রার ১০ লাখের মধ্যে দুই লাখ কৃষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ২৮ হাজার ৫৯৫টি কৃষি স্কুলের মধ্যে ১৪ হাজার বাস্তবায়িত হয়েছে। ১০টি ল্যাবরেটরি অ্যাক্রিডিটেশন এর মধ্যে দু’টির বাস্তবায়ন হয়েছে। কৃষক স্মার্ট কার্ড পলিসি২০২৫ এর খসড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এক লাখ হেক্টর জমিতে উন্নত ও দক্ষ সেচ প্রযুক্তির সম্প্রসারণের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে সাত হাজার ৩৮ হেক্টরে পূরণ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্র দুই লাখ হেক্টরের মধ্যে ১.৬ লাখ হেক্টর জমিতে নতুন জাত প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। ৯০৫০ মেট্রিক টন ধানবীজ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ৯৮২ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে। এছাড়াও আরো কিছু কার্যক্রম বাস্তবায়নের তথ্য পার্টনার কংগ্রেসে তুলে ধরা হয়।

নবীনগরে যুবলীগ নেতা ‘টাইগার সোহেল’ ফের গ্রেপ্তার, এলাকায় স্বস্তি

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
নবীনগরে যুবলীগ নেতা ‘টাইগার সোহেল’ ফের গ্রেপ্তার, এলাকায় স্বস্তি
মো. সোহেল মিয়া ওরফে টাইগার সোহেল। সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনোদপুর ইউনিয়নের কড়ইবাড়ি গ্রামের আলোচিত যুবলীগ নেতা মো. সোহেল মিয়া ওরফে টাইগার সোহেলকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে জিনোদপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় স্বস্তি বিরাজ করছে।

তার বিরুদ্ধে নবীনগর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের এমপি এবাদুল করিম বুলবুলের আশ্রয় প্রশ্রয়ে যুবলীগ নেতা সোহেলের উত্থান হয়। সেসময় তিনি এমপির প্রভাবে জিনোদপুর বাজার কমিটির সভাপতিও নির্বাচিত হন।

এক পর্যায়ে তিনি এলাকায় মারামারি, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, মাদক, নারী কেলেঙ্কারিসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ার পর এলাকায় নিজেকে ‘টাইগার সোহেল’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া শুরু করেন। এলাকায় তাকে মাদকের গডফাদারও বলা হয়।

আওয়ামী লীগ আমলে তিনি জিনোদপুর ইউনিয়ন যুবলীগের ‘সভাপতি’ প্রার্থী হওয়ারও ঘোষণা দেন।

এদিকে রাতে এলাকার একাধিক লোকজন মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে জানান, মাদকসহ নানা অপরাধের গডফাদার খ্যাত টাইগার সোহেল আবারও গ্রেপ্তার হওয়ায় গোটা এলাকায় স্বস্তি বিরাজ করছে। তার বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর।

এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম চৌধুরী রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, মো. সোহেল মিয়া ওরফে টাইগার সোহেল একজন যুবলীগ নেতা ও চিহ্নিত অপরাধী। তার বিরুদ্ধে মারামারি, মাদক, চাঁদাবাজি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। বুধবার তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আদালতে পাঠানো হবে।

এর আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর স্থানীয় হাসান মিয়ার বাড়িতে ডাকাতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সোহেল মিয়া।