দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার আলিহাট ইউনিয়নের ধাওয়ানশীপুর (ধাওয়া) ও কোকতাড়া গ্রামের সংযোগ সড়কটি সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় শত শত মানুষ।
দুই গ্রামের একমাত্র সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকায় বর্ষা মৌসুমে তো বটেই, হালকা বৃষ্টিতেও যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, ধাওয়ানশীপুর থেকে কোকতাড়া পর্যন্ত সড়কটি কাঁচা ও খানাখন্দে ভরা থাকায় বৃষ্টি হলেই কাদায় পরিণত হয়। এতে মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, এমনকি হেঁটে চলাচলও দুরূহ হয়ে পড়ে।
জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচনের সময় সড়ক সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হলেও দীর্ঘদিনেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা কাদা মাড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। ধানবোঝাই অটোরিকশা ও চার্জার ভ্যানগুলোকে গর্ত পার করতে গিয়ে একাধিক ব্যক্তি মিলে ধাক্কা দিতে হচ্ছে।
হিলি পৌর শহরের ছাতনী চৌমুহনী বাজার থেকে ধান নিতে আসা অটোচার্জারচালক মোবাশ্বের হোসেন বলেন, মহাজনের ধান নিতে এসে বিপদে পড়েছি। একটি ধানবোঝাই গাড়ি ৪–৫ জন মিলে গর্ত পার করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ভাড়া অনুযায়ী কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
আরেক চালক রায়হান বলেন, ধান নিতে এসে রাস্তায় চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে নিজেরাই অস্থায়ীভাবে রাস্তা সংস্কার করে ধান নিয়ে যাচ্ছি। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।
ধাওয়ানশীপুর থেকে কোকতাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আঞ্জুয়ারা খাতুন বলেন, অনেক দিন ধরে রাস্তার এই অবস্থা। সামান্য বৃষ্টি হলেই স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হয়। অনেক শিক্ষার্থী তখন স্কুলে আসে না।
ছাতনী চৌমুহনী বাজারের ধান ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদ বলেন, রাস্তাটির কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। দ্রুত সংস্কার হলে ভাড়া কমত এবং কৃষকরাও তাদের ধানের ন্যায্য মূল্য পেতেন।
কোকতাড়া গ্রামের ধান বিক্রেতা জামান আলী বলেন, শুধু ধান বিক্রি নয়, রাস্তার বেহাল দশার কারণে আমাদের গ্রামের ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিতেও সমস্যা হয়। প্রতি মণ ধান প্রায় ১০০ টাকা কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তাই দ্রুত রাস্তার সংস্কার চাই।
এ বিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. কামরুল হাসান বলেন, এডিপি প্রকল্পের অর্থায়নে ধাওয়া গ্রামের মাসুদের দোকান থেকে কোকতাড়া গ্রামের দিকে ৪১০ মিটার ইটের সলিং নির্মাণের টেন্ডার হয়েছে। খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে। ভবিষ্যতে ১০ ফুট প্রস্থে সড়কটি পাকাকরণের লক্ষ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
আলিহাট ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দীপংকর শাহা রিপন বলেন, বর্ষা শুরু হওয়ায় দু-এক দিনের মধ্যে সড়কটিতে রাবিশ বা ইটের টুকরা ফেলে চলাচল উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আলিহাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ইমরান আলী বলেন, কোকতাড়া থেকে ধাওয়ানশীপুর সড়কে এডিপি প্রকল্পের আওতায় ইটের সলিং নির্মাণের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হবে।
তবে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, যেকোনো প্রকল্পের আওতায় হলেও কোকতাড়া থেকে ধাওয়ানশীপুর পর্যন্ত পুরো সড়কটি দ্রুত পাকাকরণ বা ইটের সলিং করে স্থায়ী সমাধান করা হোক, যাতে সারা বছর নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত হয়।






