• ই-পেপার

কোহলি-বুমরাহকে নিয়ে ভারতের দল ঘোষণা

হেনরির বোলিং তোপে বড় হার ইংল্যান্ডের

ক্রীড়া ডেস্ক
হেনরির বোলিং তোপে বড় হার ইংল্যান্ডের

দ্বিতীয় টেস্টে নিউজিল্যান্ডের পেসার ম্যাট হেনরির বোলিং তোপে বড় ব্যবধানে হারল ইংল্যান্ড। হেনরির ক্যারিয়ারসেরা বোলিং নৈপুণ্যে  ২৫৩ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে কিউইরা। 

ওভালে ৪৬৩ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ম্যাচের শেষ দিনে মাত্র ২০৯ রানে অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। শেষ দিনে মাত্র ৪৮ মিনিটের ব্যবধানে ইংল্যান্ডের বাকি ৫ উইকেট একাই তুলে নেন ম্যাট হেনরি। 

প্রথম ইনিংসে ৮০ রানে ৫ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ২৯ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করেন তিনি। এর মাধ্যমে ম্যাচে ১০৯ রানে ১১ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের কোনো বোলারের পক্ষে সর্বকালের সেরা ম্যাচ ফিগারের রেকর্ড গড়েন তিনি।

পঞ্চম দিনের শুরুতে ইংল্যান্ডের স্কোর ছিল ১৮২-৫। কিন্তু হেনরির নিখুঁত লাইন-লেন্থের সামনে তারা স্রেফ উড়ে যায় জো রুট। দিনের নিজের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই রুটকে (৭৭) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন হেনরি।

রুটের বিদায়ের দুই বল পরেই আর্চারকে শূন্য রানে বোল্ড করেন। নিজের পরের ওভারে ম্যাথু ফিশার ও জশ টাঙ্গিকে টানা দুই বলে ফিরিয়ে কিউইদের জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান হেনরি। 

শেষ পর্যন্ত জর্ডান কক্সকে একটি চমৎকার ইন-সুইঙ্গিং ইয়র্কারে বোল্ড করে ইংল্যান্ডের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন কিইউ পেসার। 

এই দুর্দান্ত জয়ের ফলে লর্ডসে প্রথম টেস্ট হারের পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে নিউজিল্যান্ড। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে ট্রেন্ট ব্রিজে শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় ও শেষ টেস্টটি এখন রূপ নিয়েছে অঘোষিত ফাইনালে।

হোয়াইটওয়াশ এড়াতে পারল না টাইগাররা

ক্রীড়া ডেস্ক
হোয়াইটওয়াশ এড়াতে পারল না টাইগাররা
ছবি : এপি

হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়ান্টিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। ব্যাটিং বিপর্যয়ে কোনো রকম শতক পার করে ১১০ রানের মামুলি লক্ষ্য দিয়েছে স্বাগতিকরা। জবাবে মারকুটে মিচেল মার্শের ঝোড়ো অর্ধশতকে উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় সফরকারীরা। 

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১০৯ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেট ও ৫৪ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া।

মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে ব্যাটিংয়ে নেমে মিশেল মার্শের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে পাওয়ারপ্লে তে ১ উইকেট হারিয়ে ৫৩ রান করে অজিরা। নবম ওভারে মার্শকে সাজঘরে পাঠান পেসার শরিফুল ইসলাম। ততক্ষণে মার্শের ২৮ বলে ৬০ রানের ঝোড়ো ইনিংস অজিদের জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যায়।

দলীয় স্কোর ২ উইকেটে ৮৮ রান। তারপর ১৩ বলে ১৫ রানে কনোলি সাজঘরে ফিরলেও জয় থেকে ১০ রান দূরে অজিরা। 

১১ তম ওভারে ব্যাট করতে নেমে পরপর দুই বলে দুই ছয় মেরে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যায় টিম ডেভিড। ৭ উইকেটের বড় জয়ে টি-টুয়েন্টি সিরিজে স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশ করলো অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশের হয়ে ১টি করে উইকেট নিয়েছেন নাসুম আহমেদ, শরীফুল ইসলাম ও রিশাদ হোসেন।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ১১ রানের মধ্যে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারায় স্বাগতিকরা। অদ্ভুত রান আউটে কাটা পড়েছেন তানজিদ হাসান তামিম।

 

সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন করেছেন হতাশ। দুজনেই অজি বোলারদের সামনে বেশ ভুগেছেন। ৯ বলে ১ রান করেছেন সাইফ, আর ইমন ১ রান করতে খেলেছেন ১৩ বল। নুরুল হাসান সোহান ও শামীম হোসেন পাটোয়ারী তেমন কিছুই করতে পারেননি। ৮ বলে ৬ রান করেছেন সোহান। আর ৫ বল খেলে রানের খাতা খুলতে পারেননি শামীম।

তবে বাংলাদেশকে লড়াকু সংগ্রহ এনে দিয়েছেন অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। প্রথমে রিশাদ হোসেনকে নিয়ে লড়াই করেছেন তিনি। ১৪ বলে ১৬ রান করে রিশাদ ফেরার পর শরীফুল ইসলাম দিয়েছেন তাকে সঙ্গ। শেষ পর্যন্ত ৫১ বলে ৬১ রানে অপরাজিত ছিলেন হৃদয়।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন স্পেন্সার জনসন, নাথান এলিস ও অ্যাডাম জাম্পা।

সমালোচনার জেদেই ভালো কিছু করার তীব্রতা তৈরিতে সাহায্য করেছে—বেলিংহাম

ক্রীড়া ডেস্ক
সমালোচনার জেদেই ভালো কিছু করার তীব্রতা তৈরিতে সাহায্য করেছে—বেলিংহাম

বিশ্বকাপের আগে ফর্মহীনতায় দলে জায়গা নিয়েই ছিলো সংশয় ইংল্যান্ডের তরুণ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহামের। সব ছাপিয়ে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়ে প্রথম ম্যাচেই নিজের জাত চেনান তিনি। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বড় জয়ে দুর্দান্ত ১ গোলে করে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছেন ২২ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়। ফর্মহীন ও বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার সমালোচনায় দলের হয়ে দুর্দান্ত কিছু করার জেদই সেরাটা বের করে আনবে বলে জানান এই তরুণ মিডফিল্ডার।   

ইএসপিএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইনজুরির কারণে গেল বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের আন্তর্জাতিক ক্যাম্পগুলো মিস করায় পরেও বেলিংহামের দলে অন্তর্ভুক্তি ও ফর্ম নিয়ে গণমাধ্যমে অনেক সমালোচনা হয়। 

টমাস টুখেলের অধীনে অ্যাস্টন ভিলার ফর্মের তুঙ্গে থাকা মিডফিল্ডার মর্গান রজার্স ১০ নম্বর পজিশনের জন্য বেলিংহামের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। টুখেল নিজেও ম্যাচের আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন দলে কারো স্থান নিশ্চিত নয়। এই তীব্র অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতাই বেলিংহামকে তার সেরাটা দিতে বাধ্য করেছে বলেন মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বিবিসি স্পোর্টসকে বেলিংহাম জানিয়েছেন, সমালোচনাগুলোই তার মনে বাড়তি ফোকাস এবং ভালো কিছু করার তীব্রতা তৈরিতে সাহায্য করেছে।

ক্রোশিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত দলীয় পারফরম্যান্স ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা সব কিছু ঠিকঠাক করে নিয়েছিলাম। কিন্তু প্রথমার্ধে ভালো খেললেও কিছুটা অগোছালো থাকায় বলের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ ছিলাম। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা সব কিছু সুন্দরভাবে একত্রিত করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পেরেছিলাম বলে যোগ করেন তিনি।

ইংল্যান্ড দলের নতুন কোচ টমাস টুখেলের অধীনে প্রথম ম্যাচেই এমন পারফরম্যান্স প্রতিপক্ষ দলগুলোর জন্য ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠিক যখন দলের প্রয়োজন হয়, তখনই বেলিংহাম ত্রাতা হিসেবে হাজির হন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার মাইকা রিচার্ডস।

কারখানার শ্রমিক থেকে বিশ্বকাপে জার্মানির ‘হিরো’

ক্রীড়া ডেস্ক
কারখানার শ্রমিক থেকে বিশ্বকাপে জার্মানির ‘হিরো’
ছবি : রয়টার্স

টানা দুই আসরের গ্রুপ পর্বের ভূত তাড়িয়ে আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জার্মানি। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই পুনরুত্থানের নেপথ্যে রয়েছেন এমন একজন, যার জীবনের গল্প যেকোনো সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। একসময় বেঁচে থাকার তাগিদে দিনে ৮ ঘণ্টা কারখানায় হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতেন, আর ফুসরত মিললেই বুট জোড়া পায়ে গলিয়ে নেমে পড়তেন ফুটবল মাঠে। আজ সেই ডেনিজ উন্দাভের জোড়া গোলেই আইভরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে জার্মানির নতুন নায়ক বনে গেছেন তিনি।

অথচ কয়েক মাস আগেও জার্মানির বিশ্বকাপ দলে এই স্ট্রাইকারের জায়গা পাওয়া নিয়ে ছিল চরম অনিশ্চয়তা। এমনকি খোদ কোচ জুলিয়ান নাগেলসমানের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছিলেন প্রকাশ্য এক বচসায়।

ঘটনার সূত্রপাত এক ম্যাচে বদলি নেমে উন্দাভের শেষ মুহূর্তের এক গোলকে কেন্দ্র করে। ম্যাচ শেষে উন্দাভ গণমাধ্যমে দাবি করেন, ‘আমি শুরুর একাদশে খেলার যোগ্যতা রাখি।’ শিষ্যের এমন মন্তব্যে চটে গিয়ে জার্মান কোচ নাগেলসমান সংবাদমাধ্যমের সামনেই পাল্টা তোপ দাগেন, ‘শুরু থেকে খেললে হয়তো ওই গোলটিই করতে পারতেন না উন্দাভ।’

সেই বিতর্কের মোক্ষম জবাবটা উন্দাভ জমিয়ে রেখেছিলেন মাঠের জন্য। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে তার অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের পর সুর বদলাতে বাধ্য হয়েছেন খোদ নাগেলসমানও। ম্যাচ শেষে জার্মান বস স্বীকার করেন, উন্দাভকে শুরুর একাদশে রাখার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন তিনি।

নাগেলসমান বলেন, ‘কেন আমি ওর ছন্দ নষ্ট করব? দুই ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে দুই ম্যাচেই গোল করেছে। তবে (পরের ম্যাচে) ওকে শুরু থেকেই খেলানো হতে পারে।’

উন্দাভের এই সাফল্যের পেছনের গল্পটা কিন্তু মোটেও রূপালি পর্দার মতো মসৃণ ছিল না। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ভের্ডার ব্রেমেন একাডেমি থেকে তাকে ছুড়ে ফেলা হয়েছিল। অজুহাত ছিল, ছোটখাটো গড়নের কারণে ফুটবলে তার কোনো ভবিষ্যৎ নেই। সেই প্রত্যাখ্যান ও অপমান চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছিল কিশোর উন্দাভকে।

তবে দমে যাননি তিনি। নতুন উদ্যমে নিজেকে গড়ে তোলেন। ১৭ বছর বয়সে পরিবারের মায়া ত্যাগ করে পাড়ি জমান জার্মানির চতুর্থ বিভাগের ক্লাব হাভেলসেতে। সেখানে সপ্তাহে পেতেন মাত্র ১২০ পাউন্ড! ফুটবল থেকে পাওয়া এই সামান্য অর্থে জীবন চালানো অসম্ভব ছিল। ফলে পেটের তাগিদে বেছে নিতে হয়েছিল কারখানার শ্রমিকের কাজ।

বেলজিয়ান গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে উন্দাভ বলেছিলেন, ‘ভোর ৪টার দিকে ঘুম থেকে উঠতাম। সরাসরি চলে যেতাম কারখানায়, সেখানে ৮ ঘণ্টা কাজ শেষ করে যেতাম অনুশীলনে। বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ৮টা বেজে যেত। পরদিন আবার একই রুটিন। বেঁচে থাকার জন্যই আমাকে কাজটা করতে হয়েছে। শুধু ফুটবল থেকে পাওয়া টাকায় তখন চলা সম্ভব ছিল না।’

২০২০ সালে বেলজিয়ামের ক্লাব ইউনিয়ন সেন্ট-জিলোয়াজে যোগ দেওয়ার পর থেকেই মূলত উন্দাভের ভাগ্যের চাকা ঘুরতে শুরু করে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এই ফরোয়ার্ডকে।