• ই-পেপার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির সাবেক এমপির জানাজায় মানুষের ঢল

ঈশ্বরগঞ্জে আ. লীগের অপতৎপরতা নিয়ে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ঈশ্বরগঞ্জে আ. লীগের অপতৎপরতা নিয়ে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন
সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে উপজেলায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অপতৎপরতা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সংবাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) ঈশ্বরগঞ্জ সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ প্রেস ক্লাবের হলরুমে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহব্বায়ক ও ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এ কে এম হারুন অর রশিদ।

বক্তব্যে বিএনপি নেতা এ কে এম হারুন অর রশিদ বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে পলাতক ফ্যাসিস্টদের অপতৎপরতা, বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, যুবলীগের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে পরিকল্পিতভাবে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই সংঘটিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর গুপ্তভাবে বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। শুধু তাই নয়, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নামে কুৎসা রটনা করা হচ্ছে। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমাদের ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিস্টরা নিজের নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির মালামাল সরিয়ে তার দায় বিএনপি ও বর্তমান সরকারের ওপর চাপানোর পাঁয়তারা করছে। কিন্তু আপনারা সাংবাদিকরা জাতির বিবেক, আমরা বিষয়টি প্রথমে আপনাদের অবগত করলাম। ভবিষ্যতে এ ফ্যাসিস্টদের এসব অপতৎপরতা রুখে দিতে প্রস্তত ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এসময় বক্তব্য রাখেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ভূঁইয়া মনি। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপি নেতা মনি বলেন, বিগত ১৭ বছর আমাদের বিনা কারণে অসংখ্য মামলা, বাড়িঘরে হামলা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুট করে আমাদের নেতাকর্মীদের নির্যাতন করেছে। কিন্তু ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বহালতবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা কিন্তু কিছুই বলছি না। কিন্তু আমাদের এই উদারতাকে যদি দুর্বলতা মনে করে নিষিদ্ধ ফ্যাসিস্টরা ষড়যন্ত্র করে তাহলে আমরা আর ছাড় দেব না।

এসময় উপজেলা বিএনপি সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ভুঁইয়া মনি, যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রাজ্জাক ভুঁইয়া হীরা, যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এ কে এম হারুন অর-রশীদ, যুগ্ম আহ্বায়ক শরীফ জায়েদী, যুগ্ম আহ্বায়ক সাহজাহান জয়পুরী উপস্থিত ছিলেন। 

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সাঈদুল হক, সদস্য সচিব নূরে আলম জিকু, যুগ্ম আহ্বায়ক হায়দার আলী, মেহেদী হাসান রুবেল, সালাউদ্দিন খুররম, নুরুন্নবী, সুজন,  ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মিন্টু, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিক, সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন সরকার, উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মোজাম্মেল হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফরহাদ হোসেন চকদার, সদস্য সচিব হারুন অর রশীদ, যুগ্ম আহ্বায়ক রনি রহমান, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক নওশাদ, সদস্য সচিব রেদোয়ান আহমদে রিজনসহ বিভিন্ন নেতারা।

গোসল করতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু

নোয়াখালী প্রতিনিধি
গোসল করতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় গোসল করতে নেমে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে উপজেলার রামনারায়ণপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আজম উদ্দিনের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো একই এলাকার আব্দুল মান্নানের দুই মেয়ে রোকেয়া (৯) ও রহিমা (৭)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে বসতঘরের পাশের পুকুরে গোসল করতে যায় দুই বোন। এক পর্যায়ে ছোট বোন রহিমা ঘাট থেকে পা পিছলে পানিতে পড়ে যায়। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে বড় বোন রোকেয়াও পানিতে ডুবে যায়। দীর্ঘ সময় তাদের কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পরে একই বাড়ির বেলাল নামের এক ব্যক্তি পুকুরে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ভাসমান অবস্থায় রহিমাকে দেখতে পান। এরপর বাড়ির লোকজনের সহায়তায় দুই বোনকে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। 

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীতে নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীতে নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
গৃহবধূ ফাহিমা আক্তার রিফা। সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় ফাহিমা আক্তার রিফা (১৮) নামের এক নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২০ জুন) বিকেলে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের সোমপাড়া গ্রাম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৯ মার্চ সাহাপুর ইউনিয়নের তফদার বাড়ির মো. সালাউদ্দীনের মেয়ে ফাহিমা আক্তার রিফার সঙ্গে একই ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামের আমজাদ বেপারী বাড়ির মৃত কবির হোসেনের ছেলে ও সৌদি প্রবাসী ফয়সাল আহমেদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল বলে জানা গেছে।

শুক্রবার রাতে শ্বশুরবাড়ির নিজ কক্ষে রিফাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন রিফার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাত। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে সৌদি আরব থেকে তার স্বামী ফয়সাল পরিবারের সদস্যদের রিফাকে নিয়ে যেতে বলেছিলেন। পরে মেয়ের সঙ্গে কথা বললে তাকে আতঙ্কিত মনে হয়। কিছুসময় পর সেখানে গিয়ে তারা রিফার মরদেহ দেখতে পান।

নিহতের দেবর আকাশ জানান, সৌদি প্রবাসী ভাইয়ের ফোন পেয়ে তিনি রিফার কক্ষের সামনে যান। সেখানে গিয়ে ঘরের দুটি দরজাই ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে রিফাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে নামিয়ে উদ্ধার করা হয়।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

তিনি আরো জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযান, ইয়াবাসহ সাজাপ্রাপ্ত ৫ আসামি গ্রেপ্তার

বুড়িচং- ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযান, ইয়াবাসহ সাজাপ্রাপ্ত ৫ আসামি গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় পুলিশের বিশেষ চারটি পৃথক অভিযানে ৬৪০ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারি, একটি চুরি মামলার এক পলাতক আসামি এবং মাদক সেবনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিনজনকে সাজাসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) ভোর থেকে দিনব্যাপী ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের বিভিন্ন টিম উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এসব অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ জানায়, প্রথম অভিযানে ভোর আনুমানিক ৪টা ৪০ মিনিটে ব্রাহ্মণপাড়া থানার এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে উপজেলার ১ নম্বর মাধবপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের বডু মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মো. রফিকুল ইসলামের (৪৪) বসতঘরের শয়নকক্ষ থেকে ৬৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

একই দিনে পরিচালিত দ্বিতীয় অভিযানে এসআই মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন চুরি মামলার পলাতক আসামি মো. ইনজামুল হক ওরফে ইনজামুল হাসানকে (২১) গ্রেপ্তার করেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার রাণীয়া এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে মামলায় পলাতক ছিলেন।

এদিকে তৃতীয় অভিযানে ব্রাহ্মণপাড়া থানার এএসআই (নিরস্ত্র) মো. মুছার নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদক সেবনের অপরাধে জুয়েল মিয়াকে (২৯) তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

চতুর্থ অভিযানে এএসআই (নিরস্ত্র) মো. কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদক সেবনের দায়ে সিরাজুল ইসলামকে (৫৫) তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং মাইন উদ্দিনকে (৩৩) এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন বলেন- মাদক, চুরি, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ দমনে ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরো জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক মাদক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং গ্রেপ্তারকৃত সব আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।