• ই-পেপার

চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারের পর পুলিশের ওপর হামলা করে ছিনিয়ে নিল মালিকপক্ষ

এক বছর পর ৯০ বছরের বৃদ্ধ বাবাকে ফিরে পেলেন ছেলে

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
এক বছর পর ৯০ বছরের বৃদ্ধ বাবাকে ফিরে পেলেন ছেলে

দিনাজপুরের হাকিমপুর হিলি চারমাথা মোড়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায় ৯০ বছরের বৃদ্ধ মতিউর রহমানকে। বিষয়টি গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের পর খোঁজে পেলেন তাঁর পরিবারকে। ছেলে রহিদুল ইসলামের হাতে বাবা মতিউর রহমানকে তুলে দেন হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নেস্ট-এর সদস্যরা। রহিদুল ইসলাম জানান, এক বছর আগে তার বাবা হারিয়ে যান।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ৯টার দিকে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন মতিউর রহমানকে ছেলের কাছে তুলে দেওয়া হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নেস্ট-এর সভাপতি মো. ফয়সাল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ডা. আ. মালেক, থানার এসআই লক্ষিকান্ত রায় প্রমুখ।

হাসপাতালে ভর্তি রোগী আব্দুর রহিম বলেন, আমি আগে থেকে হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। গত বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ, সাংবাদিক ও নেস্ট-এর ফয়সাল ইসলাম এবং মালেক ভাইসহ অনেকে এই বৃদ্ধকে হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে দেখি তার কেউ নেই। আমি নিজে অসুস্থ হয়েও বৃদ্ধ ব্যক্তিকে বাবা মনে করে গোসল করা, খাবার খাওয়া এবং তার পায়খানা পরিষ্কার করেছি। আমি ছুটি নিয়ে বাড়িতে গিয়েছিলাম। বৃদ্ধ ব্যক্তিকে দেখার জন্য হাসপাতালে এসে দেখি তার ছেলে এসেছে। পরে এখানকার ওসি এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ছেলেরা বৃদ্ধ মতিউর রহমানকে তার ছেলে রহিদুল ইসলামের হাতে তুলে দেন।

নেস্ট-এর সভাপতি মো. ফয়সাল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মুঠোফোনে জানতে পারি, হিলি চারমাথা মোড়ে রাস্তার পাশে এক বৃদ্ধ ব্যক্তিকে কেউ ফেলে রেখে গেছে। সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় ওসিকে বিষয়টি জানাই। এরপর ওসি জাকির হোসেন দুইজন পুলিশ সদস্যকে পাঠিয়ে দেন। পরে তাদের সঙ্গে নিয়ে মতিউর রহমানকে হাসপাতালে ভর্তি করাই। আজ হাসপাতালে ওসি জাকির হোসেনসহ আমরা বৃদ্ধকে তার ছেলে রহিদুল ইসলামের হাতে তুলে দেই।

বৃদ্ধ মতিউর রহমানের ছেলে রহিদুল ইসলাম বলেন, আমার বাড়ি রংপুর জেলার গংগাচড়া উপজেলায়। এক বছর আগে আমার বাবা হারিয়ে যান। তিনি অন্ধ ছিলেন। গতকাল গণমাধ্যমের সংবাদ ও ফেসবুকে জানতে পারি, হিলি হাসপাতালে আমার বাবা ভর্তি আছে। আজ সকালে এখানে পৌঁছে বাবাকে দেখে আমি খুশি। রাতে ওসি জাকির হোসেন ও নেস্ট স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা আমার বাবাকে হাতে তুলে দেন এবং যাওয়ার খরচ বাবদ ওসি জাকির হোসেন ১৫০০ টাকা দেন।

ওসি মো. জাকির হোসেন জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জানতে পারি, একজন অন্ধ বৃদ্ধকে হিলি চারমাথা মোড়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে গেছে। পরে পুলিশ সদস্যসহ স্থানীয় নেস্ট স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের মাধ্যমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করায়। আজ তার ছেলে রহিদুল ইসলাম হাসপাতালে পৌঁছায়। সংবাদ আমি নিজে পুলিশ নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে বৃদ্ধ মতিউর রহমান এবং তার ছেলে রহিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলি। পরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নেস্ট-এর সদস্যদের উপস্থিতিতে তার ছেলের হাতে বৃদ্ধ বাবাকে তুলে দেওয়া হয়।

পিরোজপুরে বেড়াতে এসে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের

পিরোজপুর প্রতিনিধি
পিরোজপুরে বেড়াতে এসে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের
সংগৃহীত ছবি

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরে ডুবে দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার ভেচকি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই শিশু হলো আব্দুর রহমান (৮) ও তার ছোট ভাই আব্দুর রহিম (৩)। তাদের বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলায়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েক দিন আগে দুই ভাই পরিবারের সঙ্গে মঠবাড়িয়ার ভেচকি গ্রামে তাদের নানাবাড়িতে বেড়াতে আসে। শুক্রবার বিকেলে তারা বাড়ির উঠানে খেলাধুলা করছিল। সন্ধ্যার দিকে তাদের খুঁজে না পেয়ে স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে শিশু দুজনকে দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে তাদের উদ্ধার করে দ্রুত মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. সৌমিত্র সিনহা রায় বলেন, হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দুই শিশুকেই মৃত পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পানিতে ডুবে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শনিবার দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
শনিবার দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
সংগৃহীত ছবি

জরুরি মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য শনিবার (২০ জুন) চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও চুয়াডাঙ্গা জেলার বেশকিছু এলাকায় দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। শুক্রবার (১৯ জুন) নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও চুয়াডাঙ্গার ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি থেকে পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বেশকিছু এলাকায় শনিবার টানা ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না। এ বিষয়ে নেসকো চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী মো. জুলফিকার আলীর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোট ৭ ঘণ্টা চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়ক প্রশস্তকরণে শিবগঞ্জ ৩৩ কেভি লাইন স্থানান্তরের কাজ করা হবে। ফলে এই সময়ে নেসকো চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ দপ্তরের আওতাধীন এলাকায় গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বার্থে সাময়িক এই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে নেসকো কর্তৃপক্ষ।

এদিকে বিদ্যুৎ লাইনের পার্শ্ববর্তী গাছপালা কর্তন কাজের জন্য শনিবার চুয়াডাঙ্গার বেশকিছু এলাকায় টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। চুয়াডাঙ্গা ওজোপাডিকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চুয়াডাঙ্গার বড়বাজার ফিডার ও নিউ মার্কেট ফিডারের আওতাধীন এলাকায় ১১ কেভি লাইনের পার্শ্ববর্তী গাছপালার শাখা-প্রশাখা কর্তন কাজের জন্য শনিবার সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোট ৯ ঘণ্টায় বেশকিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

এই এলাকাগুলো হলো- রড়বাজার ফিডারের দৌলোদিয়ার সরদার পাড়া, দৌলোদিয়ার স্কুল পাড়া, দৌলোদিয়ার ফায়ার সার্ভিস পাড়া ও দৌলোদিয়ার বঙ্গজ পাড়া এবং নিউ মার্কেট ফিডারের বড়বাজার নিউমার্কেট এলাকা, মুক্তি পাড়া, থানা রোডের দুই পাশ, দৌলোদিয়ার দক্ষিণ পাড়া ও দৌলোদিয়ার কোরিয়া পাড়া এলাকা। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করা হবে।

সাময়িক এ অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের সহযোগিতা কামনা করেছে চুয়াডাঙ্গা ওজোপাডিকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে লুট, র‍্যাব পরিচয়ধারী চক্রের ৫ সদস্য আটক

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে লুট, র‍্যাব পরিচয়ধারী চক্রের ৫ সদস্য আটক
সংগৃহীত ছবি

র‍্যাব পরিচয়ে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। 

এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত তিনটি ভুয়া র‌্যাব পরিচয়পত্র, পাঁচটি র‌্যাব লেখা কালো জ্যাকেট, পাঁচটি ক্যাপ, একটি মাইক্রোবাস, ছয়টি নম্বরপ্লেট, একটি ওয়াকিটকি সেট, একটি পিস্তলের কভার, একটি খেলনা পিস্তল এবং তিন জোড়া হ্যান্ডকাফ উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) কেরানীগঞ্জের কমদতলী এলাকায় ঢাকা জেলা ডিবি (দক্ষিণ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (দক্ষিণ) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম সুমন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—আশরফুল ইসলাম ওরফে আপেল (৩৮), সুমন (৩৬), সারোয়ার হোসেন সাগর (৩৫), সুমন ওরফে ক্যাপ সুমন (৩৫) এবং কাঞ্চন (৩৫)।

ওসি সফিকুল ইসলাম সুমন জানান, গত বৃহস্পতিবার আশুলিয়া থানায় র‌্যাব পরিচয়ে ডাকাতির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের হয়। মামলার পর ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (দক্ষিণ) অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মামলার আসামিরা একটি টয়োটা মাইক্রোবাসে করে সাভারের আকরাইন এলাকা থেকে খাগান বাজারের দিকে যাচ্ছেন। পরে ডিবির একটি দল আকরাইন বাজার মোড়ে অবস্থান নিয়ে সন্দেহভাজন গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি চালায় এবং পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।

তিনি আরও জানান, আশুলিয়ার ইউসুফ মার্কেট এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রদীপ কর্মকার দোকান বন্ধ করে প্রায় তিন ভরি স্বর্ণ, ৪০ ভরি রুপা ও নগদ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে র‌্যাব পরিচয়ধারী একটি দল তাঁর গাড়ি থামিয়ে চোখ বেঁধে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। পরে তার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার, রুপা ও নগদ টাকা লুট করে ভবানীপুর এলাকায় তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

ডিবি পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে র‌্যাব ও ডিবি পুলিশের পরিচয়ে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। আশুলিয়া থানায় দায়ের করা ডাকাতি মামলায় তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।