• ই-পেপার

প্রায় ১২ ঘণ্টা পর কুড়িগ্রামের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

টঙ্গীতে অপহরণ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ২ যুবক

অনলাইন ডেস্ক
টঙ্গীতে অপহরণ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ২ যুবক
অপহরণ চক্রের গ্রেপ্তাররা; ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুরের টঙ্গীতে দুই যুবককে অপহরণ করে আটকে রেখে নির্যাতন, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে সহোদর দুই বোনসহ অপহরণ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে অপহরণের শিকার দুই যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ এ তথ্য জানায়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, টঙ্গী পশ্চিম থানার বড় দেওড়া ফকির মার্কেট এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে তারেক হোসেন (১৯), একই এলাকার আতাউর রহমানের মেয়ে আফসানা আক্তার আঁখি (২৮) এবং তার বোন নদী (২৬)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, শেরপুর জেলার ফটিয়ামারী এলাকার বাসিন্দা সালেহীন মিয়া (২৮) বর্তমানে টঙ্গীর বড় দেওড়া এলাকায় বসবাস করেন। বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি বন্ধু টিটু মিয়ার সঙ্গে আশুলিয়ার গৌরিপুরে একটি ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।

গত ১৬ জুন রাতে প্রশিক্ষণ শেষে বাসায় ফেরার পথে টিটু মিয়ার ফোন পেয়ে বড় দেওড়ার একটি ভবনের কক্ষে যান সালেহীন। সেখানে প্রবেশ করার পর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনি কক্ষে টিটুকে আহত অবস্থায় দেখতে পান। পরে অভিযুক্তরা দুজনের চোখ বেঁধে ভবনের ছাদে নিয়ে যায় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

একপর্যায়ে সালেহীনের পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা এবং টিটু মিয়ার পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরে উভয় পরিবারের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। এরপরও আরো টাকার জন্য চাপ অব্যাহত রাখা হয়।

পরদিন ১৭ জুন সকালে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথা বলে সালেহীনকে আশুলিয়ার গৌরিপুরে নেওয়া হয়। সেখানে সুযোগ বুঝে তিনি নিজেকে অপহরণের শিকার বলে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন ও ট্রেনিং সেন্টারের কর্মীরা এগিয়ে এসে সঙ্গে থাকা এক অভিযুক্তকে আটক করেন।

খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সালেহীন মিয়া ও আটক ব্যক্তিকে হেফাজতে নেয়। পরে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরো দুইজনকে গ্রেপ্তার করে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

যমুনা নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ ২ শিশুর লাশ উদ্ধার

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি
যমুনা নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ ২ শিশুর লাশ উদ্ধার
ছবি: কালের কণ্ঠ

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে যমুনা নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজের ৭ ঘন্টা পর দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধায় উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের রাধানগর সানসেট পয়েন্ট এলাকার যমুনা নদী থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় পরিবার ও এলাকার শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

​উদ্ধার হওয়া শিশুরা হলো, পিংনা ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের ফিরোজ মিয়ার ছেলে ইসমাইল মিয়া (৭) একই এলাকার শামীম মিয়ার ছেলে ওসমান (৮)। তারা দুইজনই স্থানীয় পিংনা নুরানি মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র।ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে,  বৃহস্পতিবার দুপুরে পিংনা রাধানগর সানসেট পয়েন্ট এলাকায় তিন শিশু একসঙ্গে যমুনা নদীতে গোসল করতে নামে। গোসলের একপর্যায়ে নদীর তীব্র স্রোতে দুই শিশু তলিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান। এসময় সঙ্গে থাকা অন্য শিশুদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও ততক্ষণে শিশু দুটি পানিতে তলিয়ে যায়। ​পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে জামালপুরের ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ৪ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে নদী থেকে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করে। 

নিহত শিশু ওসমান গণির বাবা শামীম মিয়া জানান, দুপুরে ওসমান গণিসহ তিন বন্ধু বাড়ীর পাশে সানসেট পয়েন্ট সংলগ্ন যমুনা নদীতে গোসলে নামে। তার একটু পরেই গোসল শেষ করে দ্রুত বাড়ীতে আসতে বলে রাস্তায় চলে আসি। আধাঘন্টা পরেই জানতে পাই ছেলে ওসমান গণিসহ দুইজন নদীতে নিখোঁজ হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে সন্ধার দিকে দুইজনের লাশ উদ্ধার করেছে। 

জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের লিডার শহিদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, ‘যমুনা নদীতে গোসলে নেমে দুই শিশু নিখোঁজের সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। দুইজন ডুবুরি দীর্ঘ ৪ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

এ ব্যাপারে তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে গোসলে নেমে দুই শিশু নিখোঁজ হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল চেষ্টা চালিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে লাশের সুরতহাল রিপোর্টের পর কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পটুয়াখালীতে জমকালো প্রচারণায় বিসিক মেলা উদ্বোধন, ৩০ স্টলের ১৭টি ফাঁকা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
পটুয়াখালীতে জমকালো প্রচারণায় বিসিক মেলা উদ্বোধন, ৩০ স্টলের ১৭টি ফাঁকা
ছবি: কালের কণ্ঠ

পটুয়াখালীতে জমকালো প্রচারণার মধ্য দিয়ে ১০ দিনব্যাপী বিসিক উদ্যোক্তা মেলা ও ক্রেতা-বিক্রেতা সম্মেলন শুরু হয়েছে। তবে মেলার শুরুতেই নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উপেক্ষার অভিযোগ উঠেছে। এতে ৩০টি স্টলের মধ্যে ১৭টিই ফাঁকা পড়ে রয়েছে। 

স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত না করে অন্য জেলা থেকে উদ্যোক্তা নিয়ে এসে মেলায় অংশ নেওয়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, মেলার জন্য নির্ধারিত ৩০টি স্টলের মধ্যে মাত্র ১৩টি স্টলে স্থানীয় উদ্যোক্তারা পসরা সাজিয়ে বসেছেন। বাকি ১৭টি স্টল পুরোপুরি শূন্য।

​স্থানীয় ব্যবসায়ী নাজমুল হোসেন বলেন বলেন, মেলার মূল উদ্দেশ্য স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা হলেও এবার তাদের মূল্যায়নই করা হয়নি। স্থানীয় প্রকৃত উদ্যোক্তাদের বাদ দিয়ে বাইরের জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীদের স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে মেলা প্রাঙ্গণেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। 

অন্যদিকে, মেলায় এসে কাঙ্ক্ষিত পণ্যের অভাব এবং চরম অব্যবস্থাপনা দেখে হতাশ হয়ে ফিরছেন সাধারণ ক্রেতারা। ​বিসিক কর্তৃপক্ষের তদারকি ও সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। 

মো. সাইদুর রহমান নামের এক ক্রেতা বলেন, মেলার প্রকৃত উদ্দেশ্য সফল করতে হলে দ্রুত ফাঁকা স্টলগুলো স্থানীয় প্রকৃত উদ্যোক্তাদের মাঝে বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন। এখানে প্রয়োজনীয় পণ্য-সামগ্রীও নেই।

​তবে মেলা প্রাঙ্গণের এই শূন্যতা ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইলে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেন পটুয়াখালী বিসিকের উপ-পরিচালক। তিনি মেলা প্রাঙ্গণের বাস্তবতা অস্বীকার করে বলেন, আমাদের সকল স্টল স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কোনো স্টল ফাঁকা নেই।

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আজ মেলার উদ্বোধন করেছি। কিন্তু উদ্যোক্তারা কোথায়? তারা আশপাশে নাই। এটি দুঃখজনক। আজ সকল স্টলের মানুষের আশা উচিত ছিল।

মধুমতি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন : ড্রেজারসহ আটক ১

মধুখালী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
মধুমতি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন : ড্রেজারসহ আটক ১
ছবি : কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের মধুমতি নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় একটি বাল্কহেড, একটি ড্রেজার ও একটি আনলোডার মেশিন জব্দসহ একজনকে আটক করেছে প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মধুখালী উপজেলার গয়েশপুর ঘাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন মধুখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিক দত্ত।

অভিযানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে নড়াইল জেলার বুড়িখালী গ্রামের মো. বেলায়েত মোল্লা (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

এ সময় বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি বাল্কহেড, একটি ড্রেজার ও একটি আনলোডার মেশিন জব্দ করা হয়।

পরে জব্দ করা এসব যন্ত্রপাতি কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাকিব হোসেন চৌধুরী ইরানের জিম্মায় রাখা হয়। আটক ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতিক দত্ত বলেন, ‘যোগদানের পর থেকেই নিয়মিতভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’