• ই-পেপার

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পোস্ট-বাজেট সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত

স্বাস্থ্যনীতি শক্তিশালী করতে ‘হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ’-এর যাত্রা শুরু

স্বাস্থ্যনীতি শক্তিশালী করতে ‘হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ’-এর যাত্রা শুরু

দেশের স্বাস্থ্যখাতে নাগরিক অংশগ্রহণ, গবেষণাভিত্তিক নীতিনির্ধারণ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ওয়েলবিং কেয়ার ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে “ডায়লগ অন হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ ২০২৬” শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত এ সংলাপে দেশের স্বাস্থ্যখাতের নীতিনির্ধারক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, শিক্ষাবিদ, তরুণ নেতৃত্ব এবং ২০টিরও বেশি স্বাস্থ্যবিষয়ক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়েলবিং কেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মো. রাজিকুল হাসান এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের গভর্নিং বডির সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান রাজিব।

গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেন জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের সিনিয়র ফ্যাকাল্টি ডা. হালিদা হানুম আখতার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আব্দুল হামিদ, একই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক শাফিউন নাহিন শিমুল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্কুল হেলথ প্রোগ্রামের সহকারী পরিচালক মো. আসিফ ইকবাল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও গবেষণা) ডা. মোহাম্মদ জাকারিয়া রানা, সেরাক-বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক এস. এম. শাইকাত, ইটস হিউনিটি ফাউন্ডেশন -এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. আদনান হোসাইন, ক্যান্সার অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন অফ বাংলাদেশ -এর প্রতিষ্ঠাতা ডা. মোহাম্মদ মাসুমুল হক এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশ -এর ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট (কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য ও মানসিক স্বাস্থ্য) ডা. এ.এন.এম. এহতেশাম কবির।

অনুষ্ঠানে “হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ” নামে একটি নাগরিকভিত্তিক স্বাস্থ্য সংলাপ প্ল্যাটফরমের ধারণা, কাঠামো ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন ওয়েলবিং কেয়ার ফাউন্ডেশনের গভর্নিং বডির সদস্য মাহমুদুল হাসান। তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার বাস্তব চিত্র, স্থানীয় জনগণের মতামত এবং গবেষণালব্ধ তথ্যকে সমন্বিত করে একটি কার্যকর জাতীয় প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসন থেকে ৩০০ জন ‘হেলথ পার্লামেন্ট মেম্বার’ নিয়ে একটি জাতীয় নেটওয়ার্ক গঠন করা হবে। তাঁরা নিজ নিজ এলাকার স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব সমস্যা, নাগরিকদের মতামত, স্থানীয় চাহিদা ও সেবার সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে গবেষণাভিত্তিক সুপারিশ প্রণয়ন করবেন এবং তা সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও সরকারি সংস্থার কাছে উপস্থাপন করবেন। এর মাধ্যমে জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে জনগণের অংশগ্রহণ আরও কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

আলোচকরা বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজ এবং তরুণদের সমন্বিত অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তাঁরা মনে করেন, স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব সমস্যা সম্পর্কে স্থানীয় পর্যায় থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং সেগুলো গবেষণার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে নীতিনির্ধারকদের কাছে উপস্থাপন করা গেলে স্বাস্থ্যখাতে আরও কার্যকর ও টেকসই সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, ‘হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ সরকারের বিকল্প নয়; বরং সরকারের স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়নে একটি সহায়ক নাগরিক প্ল্যাটফরম হিসেবে কাজ করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের পক্ষে প্রতিটি এলাকার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ক্ষুদ্র সমস্যা জানা সম্ভব হয় না। তাই স্থানীয় পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণাভিত্তিক সুপারিশ সরকারের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে তা স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের জাতীয় উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, একাডেমিক প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন প্রয়োজন’। সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এ ধরনের একটি বৃহৎ প্ল্যাটফরমকে টেকসই করা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের সিনিয়র ফ্যাকাল্টি ডা. হালিদা হানুম আখতার বলেন, ‘বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে জ্ঞান, দক্ষতা ও গবেষণার ঘাটতি নেই। দেশের গবেষকরা আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে নিয়মিত গবেষণা প্রকাশ করছেন। তবে গবেষণা, নীতিনির্ধারণ এবং বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, সেটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁর মতে, হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ সেই ব্যবধান দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

বক্তারা আরো বলেন, এ উদ্যোগ সরকারের সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ -ইউ এইচ সি ) অর্জনের লক্ষ্য এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এস ডি জি -৩) বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত নীতি সংলাপ, স্বাস্থ্য বাজেট বিশ্লেষণ, গবেষণা, অ্যাডভোকেসি, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং তরুণদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী নাগরিকভিত্তিক স্বাস্থ্য আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাস্থ্যসমতা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

আলোচকরা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জোরদারের আহ্বান জানান। তাঁদের মতে, অংশীজনদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা, নিয়মিত গবেষণা এবং তথ্যভিত্তিক সুপারিশের মাধ্যমে হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ দেশের স্বাস্থ্যনীতি উন্নয়নে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

গোলটেবিল আলোচনা শেষে হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয় এবং এর লোগো উন্মোচন করা হয়। উপস্থিত অতিথিরা উদ্যোগটিকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, গবেষণাভিত্তিক ও নাগরিক-অংশগ্রহণমূলক জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানটি হেল্প দা ফিউচার-এর সহ-আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ফার্মাসিউটিক্যাল স্টার্টআপ মাই ফার্মা লিমিটেড  ছিল পাওয়ার্ড বাই পার্টনার । সহযোগী হিসেবে ছিল এডুড্রাইভ , আয়ুশকান্দি আই হসপিটাল এবং বিশ্বনাথ আই হসপিটাল। কমিউনিটি পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল জেসিআই ঢাকা ডিপ্লোমেটস, ডিজিটাল মিডিয়া ফোরাম (ডিএমএফ) এবং ইয়ুথ কানেক্ট।

অনুষ্ঠানে ডিজিটাল মিডিয়া ফোরাম (ডিএমএফ)-এর সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

ওমেরা এলপিজির ব্যতিক্রমী রিটেইলার ক্যাম্পেইনের গ্র্যান্ড উইনার্স নাইট অনুষ্ঠিত

ওমেরা এলপিজির ব্যতিক্রমী রিটেইলার ক্যাম্পেইনের গ্র্যান্ড উইনার্স নাইট অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় এলপিজি ব্র্যান্ড ওমেরা এলপিজি আয়োজন করেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ রিটেইলার এনগেজমেন্ট ক্যাম্পেইন ‘‘ওমেরার রঙে দোকান সাজাই, বিজয়ীর বেশে বিদেশ যাই’’-এর গ্র্যান্ড Winner's Night 2026।

ওমেরা এলপিজি সবসময়ই রিটেইলার্স-দের উদ্ভাবনী চিন্তা ও সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করে। সেই ভাবনা থেকেই ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে শুরু হয় ব্যতিক্রমী এই ক্যাম্পেইন। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রিটেইলার্স-দের ওমেরা এলপিজির ব্র্যান্ডিং উপকরণ ও সিলিন্ডার ব্যবহার করে নিজেদের Retail Shop সাজিয়ে ছবি পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়। ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল রিটেইলার্স-দের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে দেশজুড়ে ওমেরা এলপিজির ব্র্যান্ড ভিজিবিলিটি আরও শক্তিশালী করা এবং Retail Network-এর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বকে আরো সুদৃঢ় করা। প্রাথমিকভাবে তিন মাসের জন্য পরিকল্পিত হলেও সারাদেশের রিটেইলার্স -দের অভূতপূর্ব সাড়া, উৎসাহ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে ক্যাম্পেইনের সময়সীমা আরও এক মাস বাড়িয়ে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত পরিচালিত হয়।

চার মাসব্যাপী এই আয়োজনে দেশের ৬৪ জেলা থেকে ৩,৫০০-এরও বেশি Retailer অংশগ্রহণ করেন, যা বাংলাদেশের এলপিজি শিল্পে Retailer Engagement-এর ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই ক্যাম্পেইনে জাতীয় পর্যায়ে Top 10 Winner-দের পাশাপাশি দেশের ৬৪ জেলার সেরা Retailer-দের সম্মাননা প্রদান করা হয়। জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষ তিন বিজয়ী হলেন—

  • চ্যাম্পিয়ন: জামালপুরের MS Raisha Trading-এর স্বত্বাধিকারী আরিফুল ইসলাম রাসেল।
  • ১ম রানার-আপ: মৌলভীবাজারের Arif Sound & Lighting-এর স্বত্বাধিকারী মো. আরিফুল ইসলাম।
  • ২য় রানার-আপ: হবিগঞ্জের Tofazzal Diner Aroth-এর স্বত্বাধিকারী মো. রুবেল।

চ্যাম্পিয়ন পুরস্কার হিসেবে বিজয়ী পেয়েছেন দুইজনের বিদেশ ভ্রমণের আকর্ষণীয় ট্যুর প্যাকেজ। এছাড়াও বিজয়ীদের জন্য ছিল মোটরসাইকেল, বিদেশ ভ্রমণ, বিভিন্ন হোম এপ্লিয়েন্স এবং আকর্ষণীয় গিফট হ্যামপার। ক্যাম্পেইনজুড়ে সাপ্তাহিক ও মাসিক বিজয়ীদেরও সম্মাননা হিসেবে প্রদান করা হয়েছে বিভিন্ন আকর্ষণীয় উপহার। 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওমেরা এলপিজির সিইও তানজীম চৌধুরী, সিওও মাথীন্দ্র ডি জয়সা, সিএফও আতিয়ার রহমান, প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত বিজয়ী রিটেইলার্স এবং ওমেরা এলপিজির সেলস টিম-এর সদস্যরা।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, মনোজ্ঞ আয়োজন এবং নৈশভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এই সন্ধ্যায় ওমেরা এলপিজির Management তাদের Retail Partners-দের আন্তরিক সহযোগিতা ও আস্থার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে এই অসাধারণ সাফল্যের পেছনে নিরলসভাবে কাজ করা Field Sales Team-এর অবদানও বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

‘ওমেরার রঙে দোকান সাজাই, বিজয়ীর বেশে বিদেশ যাই" শুধু একটি ক্যাম্পেইন নয়; এটি ছিল রিটেইলার্স -দের সঙ্গে ওমেরা এলপিজির আস্থা, সম্পৃক্ততা ও অংশীদারিত্বের এক অনন্য যাত্রা। দেশজুড়ে হাজারো Retail Shop-এ ওমেরা এলপিজির ব্র্যান্ড উপস্থিতি নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই উদ্যোগ বাংলাদেশের এলপিজি শিল্পে Retailer Engagement ও Brand Visibility-এর ক্ষেত্রে একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।

ওমেরা এলপিজি বিশ্বাস করে, একটি স্বপ্ন তখনই বাস্তবে রূপ নেয়, যখন সেই স্বপ্নে হাজারো মানুষ একসঙ্গে বিশ্বাস করে। আর এই সাফল্যের প্রকৃত অংশীদার দেশের প্রতিটি রিটেইলার, যাদের ভালোবাসা, নিষ্ঠা ও অংশগ্রহণেই সম্ভব হয়েছে এই অনন্য অর্জন।

বার্জার অ্যাওয়ার্ড ফর ইন্টেরিয়র ডিজাইন ২০২৫-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

বার্জার অ্যাওয়ার্ড ফর ইন্টেরিয়র ডিজাইন ২০২৫-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

বার্জার অ্যাওয়ার্ড ফর ইন্টেরিয়র ডিজাইন (বিএআইডি) ২০২৫-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ইন্টেরিয়র ডিজাইনে সৃজনশীল উৎকর্ষ উদযাপন করল বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড।

বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনের গ্র্যান্ড বলরুমে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত বার্জার অ্যাওয়ার্ড ফর ইন্টেরিয়র ডিজাইন (বি এ আই ডি)-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আয়োজন করে। ইন্টেরিয়র ডিজাইনের অসাধারণ প্রতিভাকে স্বীকৃতি ও উদযাপনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত এই প্ল্যাটফরমটি সেসব সৃজনশীল ব্যক্তিত্বকে সম্মাননা জানায়, যারা তাদের চিন্তা ও নকশার মাধ্যমে আমাদের অভ্যন্তরীণ পরিসরকে নতুনভাবে রূপ দিচ্ছেন।

বি এ আই ডি ২০২৫-এ প্রফেশনাল ও অ্যামেচার—এই দুই বিভাগে মোট ২০৮টি প্রকল্প জমা পড়ে। এ বছরের আয়োজনে মোট সাতটি প্রকল্প পুরস্কৃত হয়। প্রফেশনাল বিভাগে পুরস্কারপ্রাপ্ত চারটি প্রকল্প হলো— মেকওভারস বাই আনমন (স্থপতি নাজিফা তাবাসসুম ও স্থপতি আজরিন আলম), কবিতা কুঞ্জ (স্থপতি জুবায়ের হাসান ও স্থপতি তাহমিদা আফরোজ), সোল (স্থপতি উৎস জামান) এবং অজো আইডিয়া স্পেস, গুলশান (স্থপতি মো. রবিউল ইসলাম)। অ্যামেচার বিভাগে পুরস্কৃত হয় বীর চট্টলা (সঙ্গীতা চৌধুরী)। এছাড়া প্রফেশনাল বিভাগে যাত্রা বাংলাদেশ (স্থপতি সারাওয়াত ইকবাল ও স্থপতি মনন-বিন ইউনুস) এবং ছেই ব্লু (Seuil_Bleue) (স্থপতি রাহাত ইবনে হাসান, স্থপতি বিন সাঈদ বখতি এবং স্থপতি রাকিব আহমেদ সরকার) প্রকল্পকে কমেন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কিংবদন্তি স্থপতি ও ‘মাস্টার অব মাস্টার্স’ খ্যাত স্থপতি প্রফেসর শামসুল ওয়ারেস, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী হক চৌধুরী এবং প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ও পরিচালক মো. মহসিন হাবিব চৌধুরীসহ বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বি এ আই ডি ২০২৫-এর উপদেষ্টা স্থপতি জালাল আহমেদ, জুরি চেয়ার স্থপতি এহসান খান, ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি)-এর সভাপতি স্থপতি প্রফেসর আবু সাঈদ এম আহমেদ এবং স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি মো. আসিফুর রহমান ভূঁইয়া। জুরি প্যানেলের সদস্য স্থপতি বায়েজিদ মাহবুব খন্দকার, শিল্পী ঢালী আল মামুন, স্থপতি তানিয়া করিম এবং স্থপতি মোহাম্মদ এমরান হোসেনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দেশের খ্যাতনামা স্থপতি ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী হক চৌধুরী বলেন, ‘বার্জারে আমরা সবসময় বিশ্বাস করি যে ডিজাইনের রয়েছে মানুষের জীবনযাপন ও কর্মপরিবেশকে ইতিবাচকভাবে রূপান্তরিত করার ক্ষমতা। বার্জার অ্যাওয়ার্ড ফর ইন্টেরিয়র ডিজাইন এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যা সেসব সৃজনশীল পেশাজীবীকে সম্মান জানায়, যারা তাদের কাজের মাধ্যমে আমাদের চারপাশের পরিসরে রঙ, রূপ এবং অর্থ যোগ করেন।’

বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ও পরিচালক মোঃ মহসিন হাবিব চৌধুরী বলেন, ‘বার্জার অ্যাওয়ার্ড ফর ইন্টেরিয়র ডিজাইন ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের ডিজাইন অঙ্গনের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবন এবং পেশাগত উৎকর্ষের অনন্য প্রকাশ ঘটিয়ে চলেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বার্জার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ডিজাইনারদের অনুপ্রাণিত করা এবং দেশের ইন্টেরিয়র ডিজাইন শিল্পের টেকসই বিকাশে অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

স্থপতি প্রফেসর শামসুল ওয়ারেস বলেন, ‘দশকের পর দশক ধরে আমি এই পেশার বিকাশ, সংগ্রাম এবং ধীরে ধীরে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করার পথচলা প্রত্যক্ষ করেছি। আজকের এই আয়োজন আমাদের ইন্টেরিয়র ডিজাইন কমিউনিটি কতদূর এগিয়েছে, তারই একটি উজ্জ্বল প্রমাণ। বিএআইডি কেবল একটি পুরস্কার নয়; এটি এমন একটি আয়না, যা পুরো একটি প্রজন্মের ডিজাইনারদের সামনে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত তুলে ধরে এবং দেখায়—যখন শৃঙ্খলার সঙ্গে কল্পনার মিলন ঘটে, তখন কী অসাধারণ সৃষ্টি সম্ভব।’

আন্তর্জাতিক ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন পাঁচ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন পাঁচ শিক্ষার্থী
ছবি: কালের কণ্ঠ

চীনে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক ইকোনমিকস অলিম্পিয়াড (আইইও) ২০২৬-এ অংশ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশের পাঁচ সদস্যের একটি দল। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বহুস্তরীয় বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই পাঁচ প্রতিযোগীকে নির্বাচিত করা হয়েছে।

গত ২২ জুন জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অলিম্পিয়াডের জন্য নির্বাচিত দলের সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়। আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন— ফারাবিদ বিন ফয়সাল, ফারিহা তাসনিম, জাইফ বিন মোর্শেদ, প্রান্ত ঘোষ ও ফাইয়াদ সালেহীন আহমেদ।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ইকোনমিক্স অলিম্পিয়াডের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মো. মানসুরুল হক বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ইকোনমিকস অলিম্পিয়াড কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি বিশ্বব্যাপী তরুণ অর্থনীতিবিদদের জন্য নিজেদের দক্ষতা ও চিন্তাশক্তি প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।’ বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা মেধা, পরিশ্রম ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তরুণ প্রজন্মকে অর্থনীতিতে আগ্রহী করে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরে বাংলাদেশ ইকোনমিক্স অলিম্পিয়াডের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি আল আমিন পারভেজ বলেন, বর্তমান বিশ্বে অর্থনৈতিক জ্ঞান ও নীতিগত বিশ্লেষণ দক্ষতার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। তরুণদের বাস্তবমুখী অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান নিয়ে ভাবতে উৎসাহিত করাই তাদের সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইকোনমিক্স অলিম্পিয়াডের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, বৈশ্বিক এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু জ্ঞান অর্জনের সুযোগই পাবে না, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের তরুণদের সক্ষমতা ও সম্ভাবনাও তুলে ধরতে পারবে। এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে দেশের জন্য দক্ষ অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।