• ই-পেপার

টাকা আত্মসাতের মামলায় ফাস্ট গ্রুপের সিইও রাফে কারাগারে

  • ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিককে হেনস্তা আইনজীবীর

বিয়ের প্রলোভনে কোটি টাকা আত্মসাৎ : এএসপি সোহেল কারাগারে

অনলাইন ডেস্ক
বিয়ের প্রলোভনে কোটি টাকা আত্মসাৎ : এএসপি সোহেল কারাগারে

বিয়ের প্রলোভনে কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের মামলায় সহকারী পুলিশ কমিশনার (এএসপি) মো. সোহেল উদ্দিন প্রিন্সের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার ইভা এ আদেশ দেন। মামলার বাদী সহকারী কর কমিশনার মোসা. তানজিনা সাথীর করা আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এ সিদ্ধান্ত দেন।

আদালত সূত্র জানায় যায়, গত ৯ জুন একই আদালত সোহেল উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ গঠন করেন। সোহেল উদ্দিন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) সদর সার্কেলে সর্বশেষ দায়িত্বরত ছিলেন। 

বাদীপক্ষের আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট আপস-মীমাংসার শর্তে সোহেল উদ্দিন প্রিন্স জামিন লাভ করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি মামলার বিষয়ে কোনো আপসের উদ্যোগ নেননি বা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেননি। এ কারণে তার জামিন বাতিলের আবেদন করা হয়।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম খান আদালতে দাবি করেন, তার মক্কেল বাদীর কোনো অর্থ আত্মসাৎ করেননি এবং তাকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে।

উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত সোহেল উদ্দিন প্রিন্সের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন সহকারী কর কমিশনার মোসা. তানজিনা সাথী।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে ৩৬তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর বাদী ও সোহেল উদ্দিন প্রিন্সের পরিচয় হয়, যা পরে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। একপর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বাদী ও তার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা প্রয়োজনে মোট ২ কোটি ৩২ লাখ ১১ হাজার টাকা নেন। পরে তিনি বাদীকে বিয়ে করেননি এবং নেওয়া অর্থও ফেরত দেননি বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

আদিবাসী শিশুকে হত্যায় কান্তি মারাকের মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টে বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
আদিবাসী শিশুকে হত্যায় কান্তি মারাকের মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টে বহাল

এক যুগ আগে শেরপুরে নালিতাবাড়িতে এক আদিবাসী শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ৭ বছর আগে কান্তি মারাককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন বিচারিক আদালত। সেই মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।  

নারী ও শিশু নির‌্যাতন দমন আইনের মামলা নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতির গঠন করে দেওয়া বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামানের বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার এই রায় দেন। এ মামলার ডেথ রেফারেন্স অর্থাৎ দণ্ডিত কান্তি মারাকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে অনুমোদনের আবেদন মঞ্জুর এবং একই সঙ্গে তার জেল আপিল নিষ্পত্তি করে এ রায় দেওয়া হয়। আদালতে আসামির পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৩০ মার্চ বিকালে শিশুটি বাড়ির পাশে খেলা করছিল। সে সময় আসামি কান্তি মারাক কৌশলে শিশুটিকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের সময় তীব্র ব্যথায় শিশুটি চিৎকার শুরু করলে আসামি কান্তি মারাক শিশুটির নাক-মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বাড়ির পাশের জঙ্গলে ফেলে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পরদিন নালিতাবাড়ি থানায় মামলা করেন। ওই দিনই পুলিশ ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় বোনের বাড়ি থেকে কান্তি মারাককে গ্রেপ্তার করে। পরে ওই বছর ৪ মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন শেরপুরের আদালত। ১১ জন সাক্ষী এ মামলায় সাক্ষ্য দেন। অভিযোগের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন আসামি কান্তি মারাক। বিচার শেষে ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল মামলায় রায় দেন শেরপুরের নারী শিশু নির্যতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান। রায়ে কান্তি মারাককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিচারিক আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিলে, সে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে। এজন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুসারে বিচারিক আদালতের রায়ের পর পূর্ণাঙ্গ রায়সহ মামলার যাবতীয় নথি হাইকোর্টে পাঠাতে হয়; যা ডেথ রেফারেন্স নামে পরিচিত। বিচারিক আদালতের রায়ের পর পরই এ মামলার নথি হাইকোর্টে আসে। দণ্ডিত কান্তি মারাক জেল আপিল করেন। এরপর সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে মামলাটি বিচারের অপেক্ষায় ছিল।

গত ১৯ মে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে একটি ভবনের ফ্ল্যাটে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর  হত্যার ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা নিষ্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি প্রধান বিচারপতির নজরে আনেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। পরে গত ১০ জুন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। আজ এই বেঞ্চ কান্তি মারাকের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন।

দুদকের মামলায় রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
দুদকের মামলায় রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন

উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছে দুদক।

বুধবার (১ জুলাই) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক ফেরদৌস রহমান তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির আগামী ৮ জুলাই আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রেখেছেন। দুদক প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বিধি অনুযায়ী বিশেষ গভর্নিং কমিটির নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয় উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে। বোর্ডে কোনো ডিজি বা তার প্রতিনিধি এবং বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক রাখা হয়নি। বিজ্ঞাপনে চাওয়া এনটিআরসিএ সনদ ছাড়াই প্রার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। এমনকি লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বরধারী প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।

এ ছাড়া নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার আগেই নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র ইস্যু করা হয়। এসব অনিয়ম ও প্রতারণার মাধ্যমে পূর্বপরিচিত ১৩ জন প্রার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অনুসন্ধানে প্রমাণ পায় দুদক।

এ ঘটনায় দুদক রাশেদ খান মেননসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর মামলা করে।

রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ
সাবেক সংসদ সদস্য মো. নূর মোহাম্মদ। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর তেজগাঁও থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার জামালপুর-১ আসনের (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) সাবেক সংসদ সদস্য মো. নূর মোহাম্মদকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়।

বুধবার (১ জুলাই) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আরিফ রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

এর আগে গত রবিবার থেকে এ মামলায় তিনি রিমান্ডে ছিলেন সাবেক এই এমপি। ওইদিন তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ সোহেল সরকার তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। এর আগে গত শনিবার রাতে গুলশান থেকে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৮ জুন সকাল পৌনে ১০টার দিকে মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনের সড়কে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের ৩০-৩৫ জন কর্মী নিয়ে মো. নূর মোহাম্মদ একটি মিছিল বের করেন। এ সময় তারা দেশের পরিস্থিতি অস্থির করা এবং জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে লাঠিসোঁটা ও উসকানিমূলক ব্যানার-প্লাকার্ড নিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে অবিস্ফোরিত ককটেল, উসকানিমূলক ব্যানার, প্ল্যাকার্ড এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

ওই ঘটনায় হওয়া মামলার প্রেক্ষিতে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।