• ই-পেপার

দুইবারের বেশি প্রসূতি ছুটি না থাকা ও সীমিত করার বিধানের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল

হুইল চেয়ারে আদালতে সাংবাদিক আজাহার আলী, ফের গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
হুইল চেয়ারে আদালতে সাংবাদিক আজাহার আলী, ফের গ্রেপ্তার

রাজধানীর শাহবাগ থানায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাংবাদিক মো. আজাহার আলী সরকারকে (৫৭) গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন। 

এদিকে আজ এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানির জন্য দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে হুইল চেয়ারে করে সিএমএম আদালতের হাজতখানা থেকে আদালতের এজলাসে তোলা হয়। গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে আজহার বলেন, ‘আমি নির্দোষ। আমাকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। ৭১ মঞ্চের সঙ্গে আমি জড়িত ছিলাম না। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে গ্রেপ্তার দেখানো হল।’ এসময় আদালতে শারীরিকভাবে অসুস্থ বলেও জানান তিনি।

এর আগে, গত ১৮ জুন এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আখতার মোর্শেদ। 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানিতে বলেন, আসামি ফেরাউনের চেয়ে ভয়ঙ্কর। গত ৫ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য ছিল জাতির অর্জন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে ফেলার। আসামি ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে অন্তবর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার পরিকল্পনা কাজে জড়িত ছিলেন। ন্যায় বিচারের স্বার্থে আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রার্থনা করছি।

গ্রেপ্তার দেখানোর বিরোধিতা করে আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. রিপন শুনানিতে বলেন, আসামি মারাত্মকভাবে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ রয়েছেন। কিডনি ও  লিভারের মারাত্মক সমস্যায় ভুগছেন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসও রয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ প্রমাণ করতে পারেননি আসামি কোন সন্ত্রাসী কার্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এক মামলায় জামিন না হতে হতেই নতুন করে আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে।

এর আগে, গত বছরের ২৯ আগস্ট এ মামলায় সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, হাফিজুর রহমান (কার্জন), মো. আব্দুল্লাহ আল আমিনসহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে আজহার আলীকে রামপুরার বনশ্রী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর একাধিক মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয় তাকে।

গৃহকর্মীকে নির্যাতনের দায়ে মানবাধিকারকর্মী ও তার স্ত্রীর ৭ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
গৃহকর্মীকে নির্যাতনের দায়ে মানবাধিকারকর্মী ও তার স্ত্রীর ৭ বছরের কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় ১৪ বছরের এক কিশোরী গৃহকর্মীকে নির্মমভাবে নির্যাতনের দায়ে মানবাধিকারকর্মী মোস্তাকিন শরীফ ও তার স্ত্রী জান্নাতুল নাঈমাকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রবিবার (২৮ জুন) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক শাহানাজ সুলতানা এই রায় ঘোষণা করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবু রায়হান সরকার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘দণ্ডের পাশাপাশি আদালত প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতে হাজির ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর খিলগাঁও থানার দক্ষিণ বনশ্রী এলাকার একটি বাসা থেকে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় গৃহকর্মী হাওয়া আক্তারকে উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের পর হাওয়া জানায়, ওই বছরের ১ জুলাই থেকে সে ওই বাসায় কাজ শুরু করে। কাজের সামান্য ত্রুটির অজুহাতে তাকে প্রতিনিয়ত গালাগাল, লোহার খুন্তি ও গরম রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো। নির্যাতনের সময় একজন ধরে রাখতেন এবং অন্যজন মারধর করতেন। মেয়েটি ব্যথায় কান্নাকাটি করলে আসামিরা হাসাহাসি করতেন। এমনকি তাকে পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে দেওয়া হতো না।

এই ঘটনায় ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর খিলগাঁও থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে পরের বছরের (২০১৯ সাল) ২২ অক্টোবর দুই আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ও খিলগাঁও থানার এসআই প্রশান্ত বালা।

অভিযোগপত্রে হাওয়া আক্তারের ওপর চালানো নির্মম নির্যাতনের বিবরণ দিয়ে বলা হয়, আসামিরা সম্পূর্ণ ঠান্ডা মাথায় ২০১৮ সালের ৭ জুলাই থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত হাওয়াকে আটকে রেখে লোহার খুন্তি ও রড গরম করে ছ্যাঁকা দেন। গ্যাসের চুলার আগুনে তার চুল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, গরম চাকু দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার পর সেই জখম স্থানে মরিচের গুঁড়ো দিয়ে তীব্র যন্ত্রণা সৃষ্টি করা হতো। এই অমানবিক ও অকল্পনীয় নির্যাতনের ফলে হাওয়া আক্তারের সমস্ত শরীর ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায় এবং সে চিরতরে পঙ্গু হয়ে পড়ে।

পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। বিচার চলাকালীন আদালত মোট ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন।

সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়ালের জামিন প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়ালের জামিন প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল
সংগৃহীত ছবি

প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানার মামলায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

হাবিবুল আউয়ালের জামিন আবেদনে শুনানির পর বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ রবিবার (২৮ জুন) এ রুল দেন। এই মামলায় কেন তাঁকে জামিন দেওয়া হবে না, জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।  

অধস্তন আদালতে তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর হলে গত মাসে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন হাবিবুল আউয়াল। তাঁর আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক, এস এম শাহজাহান ও সারা হোসেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. তায়্যিব-উল-ইসলাম সৌরভ। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আল ফয়সাল সিদ্দিকী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ছফওয়ান শুনানিতে ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন আইনজীবী মো. তায়্যিব-উল-ইসলাম।

দিনের ভোট রাতে করাসহ প্রহসনের নির্বাচন করার অভিযোগে সাবেক ৩ সিইসিসহ ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে ২০২৫ সালের ২২ জুন মামলাটি করেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন খান। মামলায় ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ, ২০১৮ সালের নির্বাচনে তৎকালীন সিইসি কে এম নূরুল হুদা ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে তৎকালীন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালকে আসামি করা হয়।

গত বছর ২৫ জুন এ মামলায় হাবিবুল আউয়ালকে রাজধানীর মগবাজার থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে তিন দিন জিজ্ঞাসাবাদেরও অনুমতি দেন আদালত।

শেরেবাংলানগর থানায় এই মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, জাবেদ পাটোয়ারী, এ কে এম শহীদুল হকসহ আরো অনেকেই।

ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, এনসিপি নেতা আরো ২ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, এনসিপি নেতা আরো ২ দিনের রিমান্ডে

জাতীয় দৈনিক ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা আনোয়ার হোসেনকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। 

রবিবার (২৮ জুন) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন মাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন। 

রিমান্ড শুনানি শেষে আদালত থেকে কারাগারে যাওয়ার সময় আনোয়ার বলেন, ‌‘আমার অপরাধ, আমি জুলাইযোদ্ধা। আমার বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করে এনি চৌধুরীর খাস লোক বিএনপির সভাপতি মিঠু। আমাকে মারধর করলে যখন ঘরে দৌড়ে পালাই তখন মিঠু এক হাজার লোক নিয়ে বাড়ি ঘেরাও করে।’

অন্য জুলাইযোদ্ধাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না আপনাকে কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার বলেন, ‘আমাকে দিয়ে শুরু করছে। আমি এনি চৌধুরীর যত অন্যায় দুর্নীতি সব তুলে ধরছি। আওয়ামী লীগের সময়ও এসব অন্যায়-দুর্নীতি তুলে ধরছি। তখনো হামলা-মাইরের শিকার হয়েছি। কিন্তু বিএনপির আমলে আরো বেশি হয়েছি। বিএনপি আমারে অতিরিক্ত মারছে। বিএনপি আমার মা, বউ, ভাইসহ সবাইরে মারছে। ভাইয়ের ঘর ভাঙচুর করছে।’

আপনে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করে গ্রেপ্তার হয়েছেন বললে আনোয়ার বলেন, ‘এটা আমার বাকস্বাধীনতা, বলতেই পারি।’

আপনি প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে হামলা করেছেন কি-না জানতে চাইলে আনোয়ার বলেন, ‘এগুলো মিছা কথা।’

এর আগে গত সোমবার (২২ জুন) প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় করা মামলায় একই আদালত থেকে  তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।