• ই-পেপার

মানবতাবিরোধী অপরাধ

নানক-তাপসের বিচার শুরু, সাক্ষ্যগ্রহণ ২৪ জুন

হাদি হত্যা: ১৬ বারের মতো পেছাল অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
হাদি হত্যা: ১৬ বারের মতো পেছাল অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন

ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ১৬ বারের মতো পিছিয়ে আগামী ২৮ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ দিন ধার্য করেন।

আজ তদন্ত সংস্থা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) এর সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত নতুন করে দিন ধার্য করেন। 

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। কিন্তু অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট নয় ইনকিলাব মঞ্চ।

গত ১২ জানুয়ারি মামলাটি শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের সেদিন অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুই দিন সময় চান। আদালত তা মঞ্জুর করে ১৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ধার্য করেন।‎ ওইদিন ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে তিনি নারাজি দাখিল করেন। পরে আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।

‎জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় চলন্ত রিকশায় থাকা মোটরসাইকেল থেকে হাদিকে গুলি করেন আততায়ী। গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর রাতেই তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর দুদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর খবর আসে।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে মামলাটিতে হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত হয়। এরপর থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে।

তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন— প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), তার বাবা হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭) ও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬), সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)। তাদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ শেষের পাঁচজন পলাতক রয়েছেন।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ বলেছেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে হাদির দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে বোঝা গেছে, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই’ হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এছাড়া ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ‘বাধাগ্রস্ত করতে’ এবং ভোটারদের মধ্যে ‘ভয়ভীতি তৈরি করতেই’ আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনী প্রচারে অনুপ্রবেশ করে বলে অভিযোগপত্রে তুলে ধরা হয়।

মাদরাসা শিক্ষার্থী হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ছেলেসহ ৩ জন ফের গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
মাদরাসা শিক্ষার্থী হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ছেলেসহ ৩ জন ফের গ্রেপ্তার
ছবি: কালের কণ্ঠ

জুলাই আন্দোলনে মাদরাসা শিক্ষার্থী নাজিম উদ্দিনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গুলশান থানায় করা মামলায় সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদারের ছেলে শাহেদ আহমেদ মজুমদারসহ তিনজনকে ফের গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে  ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত তাদের গ্রেপ্তার দেখাতে বলেন।

অপর আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা ও অর্থ যোগানদাতা সেলিম প্রধান ও সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আবু সাঈদ।  রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. মোশারফ আসামিদের আদালতে হাজির করে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। 

আবেদনে বলা হয়েছে, আসামিরা আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা ও অর্থ যোগানদাতা। আসামিরা অত্যন্ত সুকৌশলে নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতাকে নিবৃত করার চেষ্টা করেন এবং মামলার ঘটনায় অর্থ যোগান দেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন গ্রহণ করেন। 

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর ভাটারা থানার দক্ষিণে বাঁশতলা এলাকায় বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় আসামিরা ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নির্বিচার গুলিবর্ষণ করে। এতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন মাদরাসাছাত্র নাজিম উদ্দিন। পরবর্তীতে সিটিস্ক্যান করলে তার মাথায় ১৮০টি ছররা গুলি দেখতে পান কর্তব্যরত চিকিৎসক। যার মধ্যে ১২৭টি গুলি বের করা হয়। 

ওই ঘটনায় ভিকটিমের খালা গুলশান থানায় বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। এর আগেও এসব আসামিরা বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার আছেন।

তরুণকে টহল পুলিশের গুলি : ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

অনলাইন ডেস্ক
তরুণকে টহল পুলিশের গুলি : ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের
সংগৃহীত ছবি

মুন্সীগঞ্জে শাহাদাত হোসেন শ্যামল (২০) নামের এক যুবকের পায়ে পুলিশের গুলি করার ঘটনায় পুলিশের মহাপরিদর্শক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (১৭ জুন) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ভুক্তভোগীকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেনো দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

এর আগে ২০১৯ সালে মুন্সীগঞ্জের কামারকান্দা এলাকায় পুলিশের চেকপোস্টে শাহাদাত হোসেনকে গুলি করা হয়। সে সময় শ্যামল এবং সঙ্গে থাকা তার বন্ধুরা অভিযোগ করেন, কিছু বুঝে ওঠার আগেই শ্যামলের পায়ে গুলি চালায় পুলিশ। ঘটনার দিন প্রতিশ্রুতি দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও পর দিন শ্যামলসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা করে পুলিশ।
 
ওই বছরের ৪ এপ্রিল শ্যামল ছাড়া মামলার অন্য ৫ আসামি আদালত থেকে জামিনে বের হন।

শিশু আয়াত হত্যা : আসামি আবীরের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
শিশু আয়াত হত্যা : আসামি আবীরের মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রামে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার ঘটনায় একমাত্র আসামি আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর নগরের ইপিজেড থানার নয়ারহাট ওয়াছমুন্সী বাড়ি এলাকার বাসিন্দা পাঁচ বছর বয়সী আলিনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়। পরে প্রতিবেশী আবীর আলী তাকে হত্যা করে মরদেহ ছয় টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেয় বলে তদন্তে উঠে আসে। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মনোজ কুমার দে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে আবীর আলীকে একমাত্র আসামি করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি জালাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, আয়াত হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত, নিষ্ঠুর, নৃশংস, নির্মম এবং সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী। ৩৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।