বান্দরবান সদর হাসপাতালের জন্য ওষুধ, কেমিক্যাল, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয়ে প্রায় তিন কোটি ৯২ লাখ টাকার টেন্ডারপ্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে অনুসন্ধান শুরু করেছে। বিষয়টি স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। ফলে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সবাই।
জানা যায়, প্রায় তিন কোটি ৯২ লাখ টাকার এই টেন্ডারের কার্যাদেশ পায় এমএসএম বাংলাদেশ, এমএসএম হেলথকেয়ার ও আলমগীর অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের তিনটি প্রতিষ্ঠান। কার্যাদেশ অনুযায়ী, ১০ জুনের পর সাত দিনের মধ্যে মালপত্র হাসপাতালের সার্ভে কমিটির কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সময়ে সম্পূর্ণ মালপত্র সরবরাহ করেনি।
স্টোরকিপার শিমিয়ন ত্রিপুরা জানান, তিনি সম্পূর্ণ মালপত্র হাতে না পেলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ‘মালামাল বুঝে পেয়েছি’ মর্মে প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, টেন্ডারপ্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের দুর্নীতি হয়নি। এরই মধ্যে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ মালপত্র হাসপাতালে পৌঁছেছে। তাঁর দাবি, যারা টেন্ডারে কাজ পায়নি, তাদের একটি অংশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত শেষে প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।’

