• ই-পেপার

অন্য জীবন

এক আসাদে সচ্ছল ৩০০ পরিবার

উক্তি

উক্তি

রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করাটাই হচ্ছে সাংবাদিকদের জন্য উপযুক্ত কাজ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব

চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া সফর শেষে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া সফর শেষে ফিরেছেন সেনাপ্রধান
ওয়াকার-উজ-জামান

চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়ায় সরকারি সফর শেষে গতকাল শুক্রবার দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়।

গত ২৮ জুন সরকারি সফরে চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া গিয়েছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান।

আইএসপিআর জানায়, সফরকালে তিনি দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও সামরিক খাতের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ, চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরো জোরদারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়।

এ ছাড়া সফরের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী প্রধান উভয় দেশের বিভিন্ন সামরিক প্রতিষ্ঠান ও প্রতিরক্ষা শিল্প-স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ক্রমবর্ধমান। ১৯৯৩ সালে চেকোস্লোভাকিয়া ভেঙে পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়ার আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরপর বাংলাদেশ উভয় দেশের সঙ্গে পৃথকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করে। এ ছাড়া বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও কৃষিপণ্য রপ্তানি হয় আর যন্ত্রপাতি, শিল্প সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিপণ্য আমদানি করা হয়।

উল্লেখ্য, চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া উভয়ই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, শিক্ষা, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন এবং উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে ওই দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো সম্প্রসারণের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণ

হাজার কোটি টাকার প্রকল্প এখনো কাগজে-কলমে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
হাজার কোটি টাকার প্রকল্প এখনো কাগজে-কলমে
শহীদ আবু সাঈদ। —ফাইল ছবি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ঘোষিত প্রায় এক হাজার ৯০ কোটি টাকার মেগা উন্নয়ন প্রকল্প এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।

তোরণ, জাদুঘর, স্মৃতিস্তম্ভ ও স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্প নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের এক বছর হতে চললেও কোনো নির্মাণকাজই শুরু হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্বজন, সহযোদ্ধা, সহপাঠী ও শিক্ষকদের মধ্যে।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ।  সেই ভিডিও চিত্র দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। রাস্তায় নেমে আসে ছাত্র-জনতা। এরপর তীব্র আন্দোলনে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের।

সেই ঘটনার বছরপূর্তিতে ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই স্থানটি শহীদ আবু সাঈদ গেট নামে পরিচিতি পায়। সেখানে আবু সাঈদ তোরণ ও জাদুঘর এবং পার্ক মোড়ে (বর্তমান শহীদ আবু সাঈদ চত্বর) শহীদ আবু সাঈদ স্মৃতিস্তম্ভ-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

জাঁকজমকপূর্ণ সেই আয়োজনে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এরপর কেটে গেছে প্রায় এক বছর। কিন্তু ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক ছাড়া প্রকল্পের আর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটে স্মৃতি সংরক্ষণে ভিত্তিপ্রস্তরের ফলকটি রয়েছে। সড়কের পাশে কাপড়ে ঢাকা স্মৃতিস্তম্ভটিও অযত্নে আর অবহেলায় পড়ে আছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থী আসে শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানে।

খুলনা থেকে আসা মাহিয়া মিমি বলেন,  ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া একজন শিক্ষার্থী হিসেবে রাজপথে ছিলাম। আজ শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে, দেশের জন্য, মানুষের অধিকার ও ন্যায়ের জন্য একজন তরুণও ইতিহাস বদলে দিতে পারে। কিন্তু কষ্ট হলো পত্রিকার খবরে দেখেছিলাম আবু সাঈদকে নিয়ে তাঁর ক্যাম্পাসে অনেক কিছুই হবে, কিন্তু এখানে এসে মন খারাপ করা ছাড়া কিছুই পাইনি।

একই সঙ্গে থাকা মেহরাব সাব্বির মিঠু বলেন, আমাদের বিশ্বাস, তাঁর (শহীদ আবু সাঈদ) নামে হওয়া তোরণ, মিউজিয়াম ও স্মৃতিস্তম্ভ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানাবে কিভাবে একজন সাধারণ শিক্ষার্থী অসাধারণ সাহসিকতার মাধ্যমে জাতির ইতিহাসে অমর হয়ে উঠেছিলেন। এখানে যারা আসবে, তারা শুধু একটি স্থাপনা দেখবে না; তারা অনুভব করবে আত্মত্যাগ, দেশপ্রেম ও গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামের চেতনা। আমরা চাই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়িত হোক।

আবু সাঈদের সহযোদ্ধা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের  শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন অভিযোগ করে বলেন, শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগকে বিভিন্ন বক্তৃতা ও অনুষ্ঠানে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হলেও তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণের সবচেয়ে বড় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রশাসনের আন্তরিকতার ঘাটতি স্পষ্ট।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শওকত আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) এরই মধ্যে জমা দেওয়া হয়েছে। ইউজিসির অনুমোদনের পর এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় হয়ে একনেকে উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন মিললেই মূল নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, আবু সাঈদ গেট ও জাদুঘর নির্মাণের জন্য টেন্ডারও আহবান করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।

 

হকি কিংবদন্তি আবদুস সাদেক স্মরণসভা

‘যেখানেই গিয়েছেন সেখানেই স্বর্ণাক্ষরে তাঁর নাম লেখা হয়েছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
‘যেখানেই গিয়েছেন সেখানেই স্বর্ণাক্ষরে তাঁর নাম লেখা হয়েছে’
কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড় আবদুস সাদেকের স্মরণে গতকাল আরমানিটোলা সরকারি হাই স্কুল অডিটরিয়ামে দি আরমানিটোলিয়ান’স ক্লাবের আয়োজনে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল হয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

কিংবদন্তিরা চলে যান, কিন্তু তাঁদের গল্প থেকে যায় মানুষের স্মৃতিতে। জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত হকি কিংবদন্তি প্রয়াত আবদুস  সাদেককে স্মরণ করতে গিয়ে গতকাল রাজধানীর আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাকক্ষ ফিরে গিয়েছিল বাংলাদেশের হকির অতীত গৌরবময় সময়ে।

সতীর্থ, শিষ্য, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের স্মৃতিচারণায় উঠে আসে মাঠের দুর্দান্ত খেলোয়াড়, স্লেহশীল কোচ, নিরহংকার সংগঠক ও মানবিক মানুষ আবদুস সাদেকের নানা স্মৃতি। বিকেল সাড়ে ৫টায় আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাকক্ষে দ্য আরমানিটোলিয়ানস ক্লাবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় আবদুস সাদেক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল। কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় ছিলেন ২০১২ ব্যাচের মো. মানিক হোসেন।

‘যেখানেই গিয়েছেন সেখানেই স্বর্ণাক্ষরে তাঁর নাম লেখা হয়েছে’এরপর আবদুস সাদেকের জীবন ও কর্ম তুলে ধরেন ১৯৮৮ ব্যাচের কামাল হোসেন। তিনি বলেন, আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৬২ ব্যাচের কৃতী শিক্ষার্থী আবদুস সাদেক শুধু এই বিদ্যালয়ের নয়, সমগ্র বাংলাদেশের গর্ব। তিনি ছিলেন ১৯৯৬ সালের জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড়, বাংলাদেশের জাতীয় হকি দলের প্রথম অধিনায়ক, সফল ক্রীড়া সংগঠক, দক্ষ কোচ, সর্বোপরি একজন বিনয়ী ও মানবিক মানুষ।

স্মৃতিচারণা পর্বে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সতীর্থ ও ক্রীড়াবিদরা একে একে তুলে ধরেন আবদুস সাদেকের সঙ্গে কাটানো তাঁদের জীবনের নানা স্মৃতি।

১৯৬৩ ব্যাচের আলহাজ আবদুস সালাম বলেন, ব্যানারে যে হাসিমাখা ছবিটি রয়েছে, বাস্তবেও তিনি ছিলেন ঠিক এমনই হাস্যোজ্জ্বল। সাদেক ভাই হকি শুরু করার পর তাঁকে দেখে অনেক তরুণ খেলায় যুক্ত হয়েছিল। সেটাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিত।

জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত হকি খেলোয়াড়, কোচ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ১৯৬০ ব্যাচের প্রতাপ শঙ্কর হাজরা বলেন, সাদেক ইস্ট পাকিস্তান হকি দলের অধিনায়ক হয়েছিল। আমরা সবাই তাঁর অধীনেই খেলেছি। প্রায় ১৩-১৪ বছর আমরা একসঙ্গে খেলেছি।  সাদেকের মতো হকি খেলোয়াড় এ দেশে আর জন্মায়নি।

তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো উপমহাদেশ বিবেচনায় নিলেও তিনি ছিলেন অনন্য। সাদেক বিদেশে যে সফরেই গেছে, সেখানেই তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়েছে।

সাবেক জাতীয় হকি অধিনায়ক মামুনুর রশীদ বলেন, আবাহনী ক্লাব ও বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনে দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে সাদেক ভাইকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। আমার দেখা বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে যদি সত্যিকার অর্থে সাদা মনের একজন মানুষ থেকে থাকেন, তাহলে তিনি ছিলেন সাদেক ভাই। তাঁর মুখে কোনো দিন আমি কোনো নেতিবাচক কথা শুনিনি।

সাবেক জাতীয় হকি খেলোয়াড় ১৯৬৯ ব্যাচের নূরুল ইসলাম বলেন, শুধু হকি দিয়েই তাঁকে মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। তাঁর ফুটবলও ছিল অসাধারণ। তিনি আবাহনীর মতো দলের অধিনায়কত্ব করেছেন। লেখাপড়াতেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারীদের একজন। তাঁর ব্যবহারও ছিল অনন্য। সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত কিংবদন্তি।

বক্তব্যে নূরুল ইসলাম নিজের ব্যক্তিগত স্মৃতির কথা স্মরণ করেন। একদিন অনুশীলনে মনোযোগ না থাকায় আবদুস সাদেকে আমাকে মাঠ থেকে বেরিয়ে যেতে বলেছিলেন। পরে নিজেই ডেকে স্নেহভরে বুঝিয়ে দেন।

স্মরণসভায় আবেগঘন বক্তব্য দেন আবদুস সাদেকের দুই ছেলে ইশতিয়াক সাদেক ও জিসান সাদেক।

ইশতিয়াক সাদেক বলেন, আর্মানিটোলা স্কুল, ক্লাব কিংবা হকি নিয়ে আলোচনা হলেই আমার বাবার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠত। এখান থেকেই তাঁর জীবনের পথচলা শুরু হয়েছিল এবং এখান থেকেই তিনি একজন বড় মাপের খেলোয়াড় ও সম্মানিত মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন।

জিসান সাদেক বলেন, ছোটবেলা থেকেই বাবার মুখে আর্মানিটোলা ও হকির অসংখ্য গল্প শুনে বড় হয়েছি। এই স্মরণসভায় বাবার সতীর্থ, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে তাঁর জীবনের অজানা অনেক স্মৃতি জানার সুযোগ হয়েছে।

এরপর দুই ভাই বাবার রুহের মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চান এবং আর্মানিটোলিয়ানস ক্লাবের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

আবদুস সাদেক ছিলেন বাংলাদেশের হকির ইতিহাসে অন্যতম কিংবদন্তি এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় হকি দলের অধিনায়ক। আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময়ই তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনের সূচনা। হকির পাশাপাশি ফুটবলেও সমান দক্ষ এই ক্রীড়াবিদ ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত আবাহনী ক্রীড়া চক্রের প্রথম ফুটবল ও হকি দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। অবিভক্ত পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের হয়ে ইউরোপ সফর, ১৯৭৮ সালে তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রথম এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণ এবং দেশের হকি বিকাশে দীর্ঘদিন খেলোয়াড়, কোচ ও সংগঠক হিসেবে কাজ করা তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। ক্রীড়াঙ্গনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৬ সালে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার লাভ করেন। গত ২০ জুন ৭৮ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যুতে দেশের ক্রীড়াঙ্গন একজন কিংবদন্তি খেলোয়াড়, সংগঠক ও অভিভাবককে হারায়।