• ই-পেপার

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

  • বিদ্যুতের রিচার্জে ডিজিটাল ভোগান্তি

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে

রাজধানীতে নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশা

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে

ঢাকা মহানগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা নেই বললেই চলে। দীর্ঘদিন থেকেই এই অবস্থা। সম্প্রতি এই বিশৃঙ্খলার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। রাজধানীর অলিগলি থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পর্যন্ত অটোরিকশার দাপট। এসব অটোরিকশার না আছে লাইসেন্স, না আছে চালকের দক্ষতা, না মানছে তারা আইন। এতে হরহামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা। এই পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও অপরিহার্য।

কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এআই ক্যামেরায় মামলা হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার রাস্তায় সিগন্যাল অমান্য, উল্টো পথে চলাচল এবং হঠাৎ লেন পরিবর্তনের মতো অনিয়ম কমেছে। তবে অটোরিকশার চলাচল এখনো নিয়ন্ত্রণহীন। ফলে তা নিয়ন্ত্রণে আনা নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রাথমিকভাবে ঢাকার প্রধান সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। আগামী মাসের মাঝামাঝি এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলেও জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি আধুনিক মেগাসিটির প্রধান সড়কে অটোরিকশার মতো যানবাহন চলাচলের সুযোগ থাকা উচিত নয়। এসব ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গতিবেগ বেশি হলেও এগুলোর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা দুর্বল। তা ছাড়া অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে এই অটোরিকশাগুলোর ব্যাটারি চার্জ করার ফলে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে, যা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তবে মুদ্রার অপর পিঠটিও ভেবে দেখতে হবে। বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে এই অটোরিকশা বেশ সাশ্রয়ী এবং সহজপ্রাপ্য। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান। কাজেই বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে নিষেধাজ্ঞা জারি করলে তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে। অতীতে বেশ কয়েকবার অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেওয়া হলেও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে গেছে। ওয়াকিফহাল মহলের মতে, জোনভিত্তিক চলাচল সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া, চালকের প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স প্রদান এবং অটোরিকশার কাঠামোগত ত্রুটি দূর করা হলে চলমান সংকটের অনেকটা অবসান হবে।

আমরা মনে করি, রাজধানীর মতো জনবহুল শহরে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। ঢাকার সড়ক সচল ও নিরাপদ করতে হলে সরকারকে কঠোর ও মানবিকউভয় ভূমিকাই একসঙ্গে পালন করতে হবে। অটোরিকশা রাতারাতি বন্ধ করা যাবে না, কিন্তু এর দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেই হবে। পাশাপাশি রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন।

ক্যাশলেস লেনদেন বৃদ্ধি পাক

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ উদ্যোগ

ক্যাশলেস লেনদেন বৃদ্ধি পাক

পৃথিবী বদলে যাচ্ছে। উন্নত বিশ্বে কেনাকাটা বা দৈনন্দিন লেনদেনে নগদ অর্থের ব্যবহার নেই বললেই চলে। অর্থাৎ তারা পুরোপুরি ক্যাশলেস হতে চলেছে। বাংলাদেশেও ক্যাশলেস লেনদেন শুরু হয়েছে। তবে তা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বৃদ্ধি পাচ্ছে না। অথচ ক্যাশলেস লেনদেনের বহুবিধ সুবিধা রয়েছে। নিরাপত্তা বেশি। নগদ টাকার মতো ছিনতাই, চুরি-ডাকাতির ভয় নেই। ঘুষ, দুর্নীতি ও কর ফাঁকি ঠেকাতেও ক্যাশলেস লেনদেন সুবিধাজনক। কাগুজে নোট ছাপানোর জন্য রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলা কিউআর নামের এই উদ্যোগ পুরোপুরি চালু হলে একজন গ্রাহক নগদ টাকা ছাড়াই সব ধরনের লেনদেন করতে পারবেন। এ জন্য দেশের সব ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও এমএফএস সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে চলতি জুন মাসের মধ্যেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলা কিউআর ব্যবস্থায় দুটি বিষয় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রথমত, গ্রাহকের একটি ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিক্রেতাকে ব্যাংক বা এমএফএসের মাধ্যমে বাংলা কিউআর এজেন্ট হতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, মুদি দোকান, সবজি বাজার থেকে শুরু করে বড় শপিং মল পর্যন্ত এই সেবা চালু করা গেলে ধীরে ধীরে ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তাঁরা মনে করেন, বাংলা কিউআর ব্যবহারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য ব্যাপক প্রচার চালানোর প্রয়োজন রয়েছে। জানা যায়, ক্যাশলেস লেনদেনের ক্ষেত্রে এখনো বড় বাধা হলো দেশের ৮০ শতাংশ মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, তাদের অ্যাকাউন্টের আওতায় এনে ক্যাশলেস লেনদেনে অভ্যস্ত করানোর কাজটি অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের।

বাংলা কিউআর কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানকে আহ্বায়ক করে গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় গত সোমবার। বৈঠকে গভর্নর বলেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এবং নগদের ওপর নির্ভরতা কমাতে বাংলা কিউআর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের মাধ্যমে এই সেবাকে জনপ্রিয় করার আহবান জানান এবং সরকারি বিভিন্ন ফি এবং চার্জও বাংলা কিউআরের মাধ্যমে নেওয়ার প্রস্তাব দেন।

ব্যাংক এশিয়ার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরফান আলী বলেন, বাংলা কিউআর একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। বর্তমানে বিভিন্ন সেবার জন্য আলাদা এজেন্টের কাছে যেতে হয়, তবে এই ব্যবস্থায় এক এজেন্ট থেকেই সব সেবা পাওয়া যাবে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আসবে এবং এজেন্টদের ব্যবসাও বাড়বে। আবার যেকোনো ব্যাংক বা এমএফএসের গ্রাহক একই কিউআর কোড স্ক্যান করে টাকা পরিশোধ করতে পারবেন।

চুরি-ছিনতাইয়ের ভয় ছাড়াও কাগুজে নোটের বহুবিধ অসুবিধা রয়েছে। ছিঁড়ে যায়, পুড়ে যায়, ভিজে নষ্ট হয়, পুরনো ও ময়লা হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত নোট বদল বা বাজারে নোটের চাহিদা মেটাতে নিয়মিত নোট ছাপতে হয়। জানা যায়, কাগুজে নোট ছাপতে সরকারের বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। তা ছাড়া লেনদেন ব্যবস্থা আধুনিক বিশ্বের চাহিদার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হওয়াটাও জরুরি। আমরা আশা করি, বাংলাদেশে দ্রুতই ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

বহুমাত্রিক সম্পর্কের নতুন যাত্রা

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া যৌথ ঘোষণা

বহুমাত্রিক সম্পর্কের নতুন যাত্রা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতিসহ বহুমাত্রিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে  আশাব্যঞ্জক অগ্রগতিও হয়েছে। মালয়েশিয়ায় সফর শেষ করে সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী চীনে পৌঁছান। গতকাল মঙ্গলবার তিনি চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সামার ডাভোস সম্মেলনে যোগ দেন এবং পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জলবায়ু নেতৃত্ব শীর্ষক অধিবেশনে ভাষণ দেন। এ ছাড়া তিনি সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং বৈশ্বিক ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সোমবার মালয়েশিয়ার রাজধানী পুত্রজায়ার পারদানা পুত্রা কমপ্লেক্সে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এরপর দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দিক নিয়ে এবং নানা ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতিবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতাসংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত একটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় করা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা দলিল দুটি বিনিময় করেন। এ ছাড়া ২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বিষয়ে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) বৈঠকের আয়োজন এবং নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রকাশিত বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার যৌথ ঘোষণায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আলোচনায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য উচ্চমূল্য সংযোজন খাত অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী আজ বুধবার দালিয়ান থেকে চীনের রাজধানী বেইজিং পৌঁছানোর পর বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরামে যোগ দেবেন।  প্রায় এক শ চীনা বিনিয়োগকারী ও ব্যাবসায়িক নেতার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠেয় এই ফোরামে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনার নানা দিক তুলে ধরা হবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১০টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ও বিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক কৌশলগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই ধারাবাহিক উদ্যোগ অর্থনৈতিক কূটনীতি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমাদের প্রত্যাশাও তাই। ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সহযোগিতায় বাংলাদেশের উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত হোক। বাংলাদেশ এগিয়ে যাক সমৃদ্ধির পথে।

সক্ষমতা বাড়াতে হবে

গভীর সংকটে ব্যাংক খাত

সক্ষমতা বাড়াতে হবে

আধুনিক অর্থনীতিতে ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিল্পায়ন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, বৈদেশিক বাণিজ্য কিংবা রাজস্ব আহরণপ্রতিটি ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অনেকাংশেই নির্ভর করে শক্তিশালী ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর। দেশের অর্থনীতি এখন নানামুখী সংকটে জর্জরিত। এ সময়ে ব্যাংকিং খাতের কার্যকর ভূমিকা আরো বেশি জরুরি। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ব্যাংকিং খাত নিজেই বহুবিধ সমস্যায় জর্জরিত। সক্ষমতার ঘাটতি ক্রমেই প্রবল হয়ে উঠছে। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলোকে সাময়িক প্রয়োজন মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার নিতে হয় প্রায় ২১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এটি ব্যাংক খাতের ভেতরের গভীর সংকট ও দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন লেনদেন সচল রাখা এবং নগদ সংকট মোকাবেলার জন্য এই সহায়তা দেওয়া হয়। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ধরনের সহায়তা স্বল্প সময়ের জন্য হলেও এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ভিত্তি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়বে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে। যদিও এসব ঋণ দীর্ঘমেয়াদি নয়এক দিন, সাত দিন, ১৫ দিন বা এক মাসের মতো স্বল্পমেয়াদি তারল্য সহায়তা হিসেবে নেওয়া হয়েছে এবং পরে ব্যাংকগুলো তা ফেরত দিয়েছে, তবু এর মধ্য দিয়ে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতার ঘাটতিই প্রকাশ পায়।

ইনক্লুসিভ ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে. মুজেরি বলেন, গত বছর ২১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দেওয়ার ঘটনা স্বাভাবিক নয়। এটি ব্যাংক খাতের গভীর দুর্বলতার ইঙ্গিত। অনেক ব্যাংক নিজেদের তহবিল ব্যবস্থাপনায় দক্ষ না হয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নির্ভর করছে। এর পেছনে রয়েছে দুর্বল সুশাসন, অনিয়মিত ঋণ বিতরণ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং খেলাপি ঋণের বিস্তার।

ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক মামুন রশীদ মনে করেন, অতীতে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। কারণ মূল সমস্যাগুলো অমীমাংসিত থেকে গেছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ অনেকাংশেই নির্ভর করছে ব্যাংকিং খাতকে কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে সংস্কার করা যায় তার ওপর। পুনর্মূলধনীকরণ, খেলাপি ঋণ আদায়, ব্যাংক একীভূতকরণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামোসব পদক্ষেপকে একটি সমন্বিত সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেখতে হবে।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই। আর তা করতে হবে সুপরিকল্পিত পদক্ষেপের মাধ্যমে।