• ই-পেপার

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল

ভর্তি রোগীর বেশির ভাগই পায় না ওষুধ

  • ১১২ ধরনের ওষুধের বদলে সরবরাহ করা হচ্ছে ৩২ ধরনের
  • প্রতিদিন গড়ে ২৫০ রোগীর খাবার প্রস্তুত করা হয়, অথচ ভর্তি থাকছে ৮৫০ জন

উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

সাত জেলায় বন্যার পূর্বাভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বেড়ে যাওয়ায় সিলেটসহ উত্তরাঞ্চলের সাত জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা হতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। কুশিয়ারা ও তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। এর প্রভাবে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ক্রমেই এসব এলাকার নদ-নদীর পানি আরো বাড়তে পারে। এর মধ্যে তিন বিভাগে ভারি বৃষ্টিপাত ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের আট জেলায় তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

গতকাল শনিবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তিস্তা নদী নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে, সুরমা নদী সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে, কুশিয়ারা নদী মৌলভীবাজার পয়েন্টে এবং সোমেশ্বরী নদী নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছিল। এসব নদীর পানি আরো বাড়তে পারে, যা আগামী তিন দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার নদীসংলগ্ন  নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান শোভন কালের কণ্ঠকে বলেন, সিলেটে ভারি বৃষ্টি ও উজানের ভারি বর্ষণে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।  রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটের কোথাও কোথাও ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। একই সঙ্গে টাঙ্গাইল, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, সৈয়দপুর, যশোর, চুয়াডাঙ্গা এবং কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বইছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।

গতকাল রাজশাহীতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। রাজধানীতেও তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সর্বোচ্চ রংপুরের রাজারহাটে বৃষ্টি হয় ৫২ মিলিমিটার।

পাহাড়ি ফলের মেলা

পাহাড়ি ফলের মেলা
রাজধানীর বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে গতকাল শুরু হয়েছে পাহাড়ি ফলের মেলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত ইউরোপ, স্পেনে প্রাণ হারাল ৩২৭ জন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত ইউরোপ, স্পেনে প্রাণ হারাল ৩২৭ জন

শুধু দিবাভাগে নয়, রাতেও অস্বস্তিকর প্রহর কাটাচ্ছেন ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ। বিশেষ করে ইউরোপজুড়ে এখন তীব্র দাবদাহে স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসসহ বিভিন্ন দেশে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত গরমে স্পেনে অন্তত ৩২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান তাপপ্রবাহে ইউরোপজুড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি, দাবানল, বিদ্যুৎসংকট এবং পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বাতিল করা হচ্ছে বড় বড় জনসমাগম ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

স্পেনের সরকারি মোমো মনিটরিং সিস্টেম জানিয়েছে, দাবদাহজনিত কারণে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৩২৭ জনে পৌঁছেছে। বার্সেলোনার নিকটবর্তী একটি বনে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় প্রায় ১৬ হাজার মানুষকে ঘরের ভেতরে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফ্রান্সেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। চরম গরমের কারণে প্যারিসের সব হাসপাতালে জরুরি পরিকল্পনা চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে এবং বাড়িতে আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনাও বেড়েছে। এ ছাড়া অনিরাপদ স্থানে সাঁতার কাটতে গিয়ে দাবদাহ শুরুর পর থেকে অন্তত ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে জার্মানির সারব্রুকেনে তাপমাত্রা ৪১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। বেলজিয়ামের ক্লাইন ব্রোগেলে ৪০ ডিগ্রি, নেদারল্যান্ডসের লিমবার্গে ৩৯.৪ ডিগ্রি এবং যুক্তরাজ্যের সাফোকে ৩৭.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

শুক্রবার ইউরোপের অন্তত ১৫ কোটি মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মুখোমুখি হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক দিনে এই তাপপ্রবাহ আরো উত্তর ও পূর্ব ইউরোপে ছড়িয়ে পড়তে পারে। চেক প্রজাতন্ত্র ও অস্ট্রিয়াতেও নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মুখপাত্র ক্লেয়ার নিউলিস বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়ার ঘটনা এখন নতুন বাস্তবতা হয়ে উঠেছে এবং এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। বিজ্ঞানীদের মতে, একটি শক্তিশালী উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাবে ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, ইতালি ও দক্ষিণ ইংল্যান্ডে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৫ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রয়েছে। জলবায়ু পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ, যেখানে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

চরম গরমের প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতেও। সুইজারল্যান্ডের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি রিয়্যাক্টর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সময়ে কোলন থেকে প্যারিসগামী একটি ইউরোস্টার ট্রেন বিকল হয়ে পড়লে প্রায় ৪০০ যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন এবং অসুস্থ হয়ে তিনজনকে হাসপাতালে নিতে হয়।

স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে প্যারিস প্রাইড মার্চ, মিউজিক ফেস্টিভাল, ম্যারাথনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বহু গণআয়োজন বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি গবেষকরা সতর্ক করেছেন, অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহের কারণে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলো স্বাভাবিক সময়ের অনেক আগেই গলতে শুরু করেছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের আরেকটি উদ্বেগজনক ইঙ্গিত।

ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন-এর বিজ্ঞানীরা বলছেন, উচ্চ চাপবলয়ের কারণে অন্য যেকোনো মাসের তুলনায় জুন মাসের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমান দাবদাহ এই অঞ্চলের রেকর্ডকৃত ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক। সূত্র : বিবিসি, রয়টার্স

আন্তর্জাতিক সব চুক্তি সংসদে উপস্থাপনের আহবান বিরোধী নেতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক সব চুক্তি সংসদে উপস্থাপনের আহবান বিরোধী নেতার
শফিকুর রহমান

অন্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত সব মৌলিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের আহবান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর মতে, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনগণের আস্থা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো সংসদে আনা উচিত।

গতকাল শনিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সাফল্যের জন্য উত্থাপিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অন্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত সব মৌলিক চুক্তি সংসদে উপস্থাপন করা উচিত। কারণ, সংসদ সদস্যরাই দেশের কোটি কোটি মানুষের প্রতিনিধি। তাঁরা যখন এসব বিষয়ে অবহিত থাকবেন, তখন সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণের আস্থাও বাড়বে। এতে সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধ আরো শক্তিশালী হবে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উত্থাপিত প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে দেশের সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য রয়েছে। বিরোধী দল হিসেবে সরকারের যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগে সহযোগিতা করতে আমরা প্রস্তুত।

তিনি বলেন, সংসদই রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত। সংসদকে পাশ কাটিয়ে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। সরকারি দল যেমন বিরোধী দলকে যথাযথ সম্মান দেবে, তেমনি বিরোধী দলেরও দায়িত্ব থাকবে গঠনমূলক ভূমিকা রেখে দেশ গঠনে অবদান রাখা। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি অবশ্যই পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালিত হতে হবে। দেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। যেকোনো চুক্তি বা সমঝোতা হতে হবে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে। বাংলাদেশ যেমন অন্য কোনো দেশের ক্ষতি করতে চায় না, তেমনি নিজের স্বার্থও ক্ষুণ্ন হতে দিতে পারে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দেশ। রপ্তানির তুলনায় আমদানির পরিমাণ অনেক বেশি। তৈরি পোশাক ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের বাইরে নতুন নতুন খাত সৃষ্টি করে রপ্তানি বহুমুখীকরণ জরুরি। এ জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী সফরকালে এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়েই আলোচনা করেছেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বক্তব্যের শেষদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সরকারের সফলতা কামনার পাশাপাশি ধন্যবাদ প্রস্তাবের প্রতি ফের সমর্থন জানান বিরোধীদলীয় নেতা।