• ই-পেপার

যুক্তরাজ্যে আইনজীবী নিয়ে থানায় হাসনাত আবদুল্লাহ তটস্থ এনসিপি নেতারা

দুনিয়া মাতানো ফুটবল বিশ্বকাপ

বড় জয়ে ছন্দে ফিরল স্পেন

ক্রীড়া প্রতিবেদক
বড় জয়ে ছন্দে ফিরল স্পেন
সৌদি আরবের বিপক্ষে গোল করার পর সতীর্থের সঙ্গে উল্লাস ইয়ামালের (ডানে)। ছবি : রয়টার্স

লামিন ইয়ামাল না থাকলে স্পেনের আক্রমণভাগ কতটা ভোঁতা তা বোঝা গিয়েছিল প্রথম ম্যাচেই। নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর রবিবার এই তরুণ ফরোয়ার্ডের উপস্থিতি আটলান্টায় সেই দলটির আক্রমণকেই করেছে ক্ষুরধার। এ কারণেই সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের বেশ ভালোভাবেই ফিরে পেয়েছে স্পেন। শুরুর একাদশে নেমে দশ মিনিটেই গোলের সূচনা করা ইয়ামাল ছুঁয়েছেন কম বয়সী ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড। আর সেন্টার ফরোয়ার্ড মিকেল ওয়াইরসাবালও প্রথমার্ধেই জোড়া গোল করে দলের এমন জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। এ দুজন দ্বিতীয়ার্ধে না থাকায় ছন্নছাড়া হয়ে পড়া স্পেন আর সাফল্য পায়নি বটে, তবে রক্ষণভাগের ভুলে আত্মঘাতী গোলে বড় হারই সঙ্গী হয়েছে সৌদি আরবের।

আগের ম্যাচে সেন্টার ফরোয়ার্ড ওয়াইরসাবাল একেবারেই নিষ্প্রভ ছিলেন, প্রথম ৩০ মিনিট পায়ে কোনো বলই ছোঁয়াতে পারেননি তিনি। তীরের অগ্রভাগ যখন ভোঁতা থাকে, তখন আর লক্ষ্যভেদ হবে কী করে! সেটিই হয়েছে, নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষে জাল খুঁজে পায়নি স্পেন। তাতে চরম হতাশা তৈরি হয় লা রোজা ভক্ত-সমর্থকদের মধ্যে। এ ছাড়া শুরু আক্রমণের শাণিয়ে তোলার অন্যতম কারিগর লামিন ইয়ামাল ছিলেন অনুপস্থিত। তিনি থাকলে বিপর্যস্ত একটি দলের চেহারাও যে ভিন্ন হয়ে যায় তা মিনিট খেলেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন ১৮ বছরের এই তরুণ। ফিটনেস সমস্যার কারণে আবারও শুরুর একাদশে থাকবেন কি না তা নিয়ে সংশয় ছিল। কিন্তু এবার প্রথম থেকেই মাঠে নেমে স্পেনের আক্রমণকে গতিশীল করেছেন তিনি। ওয়াইরসাবালের দেওয়া বল থেকে ম্যাচের ১০ মিনিটে গোলও করেন তিনি। ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ গোল এটি তাঁর। এর মাধ্যমে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলেকেও ছুঁয়ে ফেলেন ইয়ামাল। এত দিন বৈশ্বিক আসরে ১৮ বা তার চেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে গোল করার রেকর্ড শুধু পেলেরই ছিল। ১৯৫৮ সালের আসরে তিনি ওয়েলসের বিপক্ষে মাত্র ১৭ বছর বয়সে গোল করেছিলেন। ৬৮ বছর পর তাঁর পাশেই বসলেন নতুন যুগের বিশ্ব-মাতানো ফুটবলার ইয়ামাল।

ইয়ামালের এই সাফল্যই যেন স্পেনের তাঁবুতে জীবনীশক্তি বাড়িয়ে দেয়। সেটিই পরে ধ্বংসাত্মক করে তুলেছে গত ম্যাচের নখ-দন্তহীন ওয়াইরসাবালকে। জোড়া গোল পেতে দেরি হয়নি তাঁর। ২১ মিনিটে কর্নার থেকে পাওয়া বলে দানি ওলমো শট নিলে তা ওপরের বারে লেগে প্রতিহত হয়। বলটি এমেরিক লাপোর্তের হেডে গিয়ে পড়ে ওয়াইরসাবালের সামনে, তিনি সহজেই পরাভূত করেন সৌদি গোলরক্ষক আল ওয়াইসকে। মাত্র তিন মিনিট পরেই ওলমোর হেডে বাড়িয়ে দেওয়া বলে আবার লক্ষ্যভেদ করেন এই ফরোয়ার্ড (৩-০)। মাত্র ২৪ মিনিটেই সৌদি রক্ষণভাগকে এলেমেলো করে দিয়ে তিনটি গোল আদায় করে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করে স্প্যানিশরা।

৩-০ গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করে সৌদি আরব। অবশ্য প্রথম থেকেই ইয়ামাল-ওয়াইরসাবাল জুটি না থাকায় যেন স্পেনের আগুনে অক্রমণ স্তিমিত হয়ে যায়। সে কারণেই নিজেদের অনেকটাই ফিরে পায় গ্রিন ফ্যালকনস। কিন্তু নিজেদের ভুলেই আবার শুরুতেই ব্যবধান বেড়ে যায়। ৪৯ মিনিটে মার্ক কুকুয়েরার ভলি সৌদি গোলরক্ষক ওয়াইস ফিরিয়ে দেন। কিন্তু সেটি হাসান আল তামবাকতির গায়ে লেগে জড়িয়ে যায় জালে (৪-০)। এটি চলতি বিশ্বকাপের অষ্টম আত্মঘাতী গোল। এখন পর্যন্ত শুধু ২০১৮ সালের আসরেই এর চেয়ে বেশি ১৮টি আত্মঘাতী গোল হয়েছে। এর পরেও সুযোগ পেয়েছে স্পেন। তবে আর গোলের দেখা পায়নি তারা। যদিও ম্যাচ শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে (৯২ মিনিট) ডান প্রান্ত থেকে পেদ্রো পোরোর বাড়িয়ে দেওয়া বলে আগুয়ান ফেরান তোরেস ছোটো ডি-বক্সে ঢুকে দারুণ এক শটে বল জালে জড়িয়ে দেন। পরে ভিএআর বিশ্লেষণে অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায় গোলটি। এর কিছু পরেই ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজান রেফারি।

ম্যাচ জিতলেও দ্বিতীয়ার্ধে স্পেনের দৈন্য ফুটে ওঠে, যা প্রথম ম্যাচে নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষেও দেখা গিয়েছিল। ইয়ামালবিহীন ২০১০ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দুর্বলতাটা কতখানি সেটাই যেন ফুটে ওঠে। তবে এই জয়ে এইচ গ্রুপে এখন চার পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। এটিই হয়তো শেষ ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে তাদের আরো বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে নামার সুযোগ করে দেবে।

আজকের খেলা

আজকের খেলা

মিসর-নিউজিল্যান্ড (সকাল ৭টা)

আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া (রাত ১১টা)

ফ্রান্স-ইরাক (রাত ৩টা)

নরওয়ে-সেনেগাল (কাল সকাল ৬টা)

হামে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
হামে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতির কোনো উন্নতি নেই। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে এক হাজার ৬৩ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। গতকাল রবিবার দেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে এ তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮০ জনে। হাম আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ তিন হাজার ৮০১ জনে। এ সময়ে ৭৬ হাজার ৮৫৯ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

এমন পরিস্থিতির জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্যবিষয়ক) এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, হামের টিকা ঘাটতির কারণ স্পষ্ট, এ নিয়ে নতুন করে তদন্তের প্রয়োজন নেই।

তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের শেষ দিকে এবং ২০২৫ সালের শুরুতে যে জাতীয় হাম টিকাদান কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি। অপারেশনাল প্ল্যান বাতিল করে ডিপিপি পদ্ধতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে অর্থায়ন ব্যাহত হয় এবং সময়মতো টিকা কেনা সম্ভব হয়নি। ফলে একটি পুরো টিকাদান রাউন্ড বাদ পড়ে যায়। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গতানুগতিক পদ্ধতিতে হাম মোকাবেলার চেষ্টার কারণেই দেশে ভয়ানক সংক্রামক হামের এত বিস্তার। হাসপাতালে কিছু আইসিইউ আর চিকিৎসক রেখেই দায় সারার চেষ্টা হয়েছে। হাম প্রতিরোধে নেই প্রচার, নেই সুনির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক সমাধানের চেষ্টা। কভিডের সময়ে যে তৎপরতা ছিল, তার কিছুই এখন নেই বলে মনে করেন তাঁরা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, সরকারি কর্মসূচির আওতায় থাকা শিশুদের টিকা দেওয়া হলেও অনেক শিশু বাদ পড়ে থাকতে পারে। মহামারি পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা জরুরি ছিল।

সাবেক স্বাস্থ্য মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদের মতে, যথাসময়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় হাম সংক্রমণ দীর্ঘায়িত হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে টিকাদানের শক্তিশালী ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও সব এলাকায় ৯৫ শতাংশ টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যায়নি। যেসব এলাকায় এ লক্ষ্য পূরণ হয়নি, সেখান থেকেই সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, শুরুতে স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতির গুরুত্ব যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারেনি। দ্রুত নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে এমন ধারণা থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দেরি হয়েছে। এর ফলেই দেশ দীর্ঘস্থায়ী হাম সংক্রমণের মুখে পড়েছে।

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের ৫ তরুণ নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও সিলেট
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের ৫ তরুণ নিহত

কাতারে গতকাল সকালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে পাঁচজনই বাংলাদেশের। সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ী এলাকার বাসিন্দা তাঁরা। অন্যজন ভারতীয় নাগরিক বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় শোক জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় জানায়, কাতারের শাহানিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত পাঁচ বাংলাদেশি হলেন গাছবাড়ী এলাকার কাদের আহমদ, আগতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন, আমরপুর গ্রামের জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের মোস্তাক আহমদ এবং জুবায়ের আহমদ।

জানা যায়, পিকআপে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন তাঁরা। এ সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারালে ঘটনাস্থলেই ছয়জন প্রাণ হারান। তাঁদের মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

এ ঘটনায় শোক জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর বলেন, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা আমাদের এই রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমি নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, এই সংকটাপন্ন মুহূর্তে সরকার নিহতদের পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে। নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দ্রুততম সময়ে দেশে আনতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের শ্রম উইংকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আগামী মাসেই বাড়ি ফেরার কথা ছিল কাদিরের

পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাতে চার বছর আগে কাতারে পাড়ি দিয়েছিলেন কাদের। আগামী মাসে তাঁর দেশে আসার কথা ছিল। এ নিয়ে নানা পরিকল্পনা করছিলেন, বাড়িতে যোগাযোগও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। বাড়ির লোকজনও প্রতীক্ষার প্রহর গুনছিল। কিন্তু সেই প্রতীক্ষা রূপ নিল চিরপ্রতীক্ষায়।

কানাইঘাট উপজেলায় নিহতদের পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে কাতারপ্রবাসী। প্রতিদিনের মতো গতকাল বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টার দিকে তাঁরা একটি গাড়িতে করে কর্মস্থলে রওনা দেন। পথে তাঁদের বহনকারী গাড়ি শাহানিয়া এলাকায় মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে পড়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে গাড়ির ভারতীয় চালক ছাড়াও পাঁচ বাংলাদেশি ঘটনাস্থলেই নিহত হন নিহত কাদের আহমদের বাবা বাহার উদ্দিন আক্ষেপ নিয়ে বলেন, আমার ছেলেটা পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে চার বছর আগে কাতারপ্রবাসী হয়েছিল। এত বছর পর আগামী মাসে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কত দিন পর ছেলেটা আসবে, পরিবারের সবাই সেই দিনের অপেক্ষায় ছিলাম। হঠাৎ কী থেকে কী হয়ে গেল!

তিনি আরো বলেন, নিহত অন্য চারজনও দরিদ্র পরিবারের সন্তান। সন্তানদের লাশ দেশে আনার সামর্থ্য আমাদের কারো নেই। তাই সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, আমাদের সন্তানদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য।