বাংলা প্রথম পত্র
গদ্য
[পূর্বপ্রকাশের পর]
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন
৬। বিড়ালটি সুভার কাছে গিয়ে কী করত?
উত্তর : বিড়ালটি সুভার কাছে গিয়ে আদর নিত।
সুভার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যে বিড়ালটিও রয়েছে। সুভা বসে থাকলে বিড়ালটি যখন তখন নিঃসংকোচে এসে তার গরম কোলে বসে সুখ নিদ্রার আয়োজন করত। সুভা গলায় ও পিঠে হাত বুলিয়ে দিলে বিড়ালটির ঘুমিয়ে পড়তে সুবিধা হয়, ইঙ্গিতে সেটি তা-ও প্রকাশ করত।
৭। ‘সে ভাষাবিশিষ্ট জীব’—বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর : সুভার গুটিকয়েক বন্ধুর মধ্যে প্রতাপ একজন, যে কথা বলতে পারে। তাই লেখক তাকে ভাষাবিশিষ্ট জীব বলেন।
সুভা কথা বলতে পারে না। সে জন্মবোবা। পরিবার ও প্রতিবেশীর থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেয় সুভা। সখ্য গড়ে তোলে বাড়ির দুটি গাভি, ছাগল, বিড়াল, গাছপালা ও নদীর সঙ্গে। কারণ এরাও সুভার মতো ভাষাবিহীন। কিন্তু এর বাইরেও তার আরো একজন বন্ধু আছে, যে উন্নত শ্রেণির জীব, সে ভাষাবিশিষ্ট প্রাণী। গোসাইদের ছোট ছেলে, প্রতাপ তার নাম। প্রকৃতি এবং পশুপাখি ছাড়াও কোনো মানুষ যে সুভার বন্ধু, এ কথা প্রকাশ করতেই লেখক উক্তিটি করেছেন।
৮। সুভা মনে মনে কী কল্পনা করত?
উত্তর : সুভা মনে মনে জলকুমারী হওয়ার কথা কল্পনা করত।
সুভা কল্পনা করত সে যদি জলপরী হতো, তাহলে জল থেকে উঠে সাপের একটা মণি ঘাটে রেখে আসত। প্রতাপ তার তুচ্ছ মাছ ধরা ছেড়ে সাপের মাথার সেই মণি নিয়ে জলে ডুব দিত। তারপর পাতালে গিয়ে দেখত রুপার অট্টালিকার সোনার পালঙ্কে সুভা বসে আছে। সে পাতালপুরীর একমাত্র রাজকন্যা। সে পাতালপুরীর রাজকন্যা না হয়ে ভুল করে বাণীকণ্ঠের পারিবারে জন্ম নিয়েছে। সে মনে মনে এগুলো কল্পনা করত। কারণ সে প্রতাপকে আশ্চর্য করে দিতে চাইত।
৯। পূর্ণিমার রাতে সুভা কী করেছিল?
উত্তর : পূর্ণিমার রাতে সুভা নিজেকে চেনার চেষ্টা করেছিল। পূর্ণিমার রাতে একদিন সুভা দরজা খুলে ভয়ে ভয়ে মুখ বের করে দিয়ে পূর্ণিমা দেখছিল। তার মনে হয়েছিল এই পূর্ণিমা রাতও যেন তার মতো একা এবং নির্বাক। সে নিজের অস্তিত্ব এবং নিজের বেড়ে ওঠা সম্পর্কে অনুভূতি লাভ করে। অনেক কিছু বুঝতে চায়, কথা বলতে চায়, কিন্তু পারে না। চারদিকের সব নির্জনতা যেন তাকে ছাপিয়ে ওঠে। আর এই নিস্তব্ধ প্রকৃতির মধ্যে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, সুভা যেন তা-ও অনুভব করে।
১০। কেন বাণীকণ্ঠকে লোকে নিন্দা করতে শুরু করে?
উত্তর : সুভার বিয়ে না দেওয়ায় বাণীকণ্ঠকে লোকে নিন্দা করে।
সুভা বাণীকণ্ঠের তৃতীয় মেয়ে। সুভা বোবা হওয়ায় তাকে বিয়ে দিতে অসুবিধা হচ্ছিল। কিন্তু তার জন্য বাণীকণ্ঠ তার বিয়ে দিতে পারছিলেন না বলে সবাই বাণীকণ্ঠকে নিন্দা করা শুরু করেছিল। তার ওপর বাণীকণ্ঠ সচ্ছল ছিলেন, তারা দুবেলা মাছ-ভাত খেতে পারতেন বলে তার শত্রুরও শেষ ছিল না। গ্রামের লোকজন তাদের একঘরে করারও গুঞ্জন তোলে।
১১। প্রতাপের দিকে সুভা কেন মর্মবিদ্ধ হরিণীর মতো তাকিয়ে ছিল?
উত্তর : সুভার বর পাওয়া গেছে, সে বিয়ে করে চলে যাবে, বিয়ের পর যেন সুভা তাকে না ভুলে, প্রতাপের এই কথাগুলো শুনে সুভা প্রতাপের দিকে মর্মবিদ্ধ হরিণীর মতো তাকিয়ে ছিল।
প্রতাপ মাছ ধরার সময় সুভা একদিন তার কাছে গেলে প্রতাপ তাকে বলে যে, তার বর খুঁজে পাওয়া গেছে। তার বিয়ে হবে। বিয়ের পর সে যেন সবাইকে ভুলে না যায়। এ কথা শুনে সুভা প্রতাপের দিকে এমনভাবে তাকায়, যেন মর্মবিদ্ধ হরিণী শিকারির দিকে তাকিয়ে আছে। কারণ সুভা বিয়ের জন্য রাজি ছিল না। প্রতাপের কাছ থেকে কথাটি শুনে ভালো লাগে না তার। অত্যন্ত কষ্ট পায় বলে এভাবে তাকিয়ে থাকে।