• ই-পেপার

বেইজিংয়ের বহুতল ভবনে বিমান বিধ্বস্ত : পাইলট নিহত, আহত ১৩

‘সিয়াকেও লোহাগড় দূর্গ থেকে ফেলে দেওয়া হোক’

অনলাইন ডেস্ক
‘সিয়াকেও লোহাগড় দূর্গ থেকে ফেলে দেওয়া হোক’
সংগৃহীত ছবি

প্রবীণ গোয়েলও পুনেতে ব্যবসা করেন। তবে বিশাল আগরওয়ালের মত অত বড় ব্যবসায়ী নন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে গোয়েল ও আগরওয়াল পরিবারের মধ্যে জানাশোনা ছিল। সে জানাশোনাকে আত্মীয়তা বন্ধনে বাধার উদ্যোগ নেয় দুই পরিবার।

প্রবীণ গোয়েলের একমাত্র কন্যা সিয়া গোয়েলের সঙ্গে বিশাল আগরওয়ালের একমাত্র ছেলে কেতন আগরওয়ালের বাগদান হয় গত ফেব্রুয়ারিতে। বাগদানের পর থেকে দুই পরিবারে সুখের বন্যা। প্রস্তুতি চলছিল আগামী নভেম্বরে জমকালো বিয়ের। কিন্তু সিয়ার মনে ছিল অন্য কিছু। প্রেমিক চেতন চৌধুরীর সঙ্গে মিলে পরিকল্পনা করে গত ১৮ জুন লোহাগড় দূর্গ থেকে ধাক্কা দিয়ে  ফেলে হত্যা করেন কেতন আগরওয়ালকে।

একটি মৃত্যু এলোমেলো করে দিয়েছে দুটি পরিবারকে। আগরওয়াল পরিবার তো সন্তান হারিয়ে শোকে কাতর, শোকে স্তব্ধ গোয়েল পরিবারও। কেতন যে তাদের কছেও সন্তানের মতই ছিল। কেতন হত্যায় সিয়া জড়িত, এটা শোনার পর বাবা প্রবীণ গোয়েলের হার্ট অ্যাটাক হয়। তিনি এখন হাসপাতালে। তাকে দেখাশোনা করতে স্ত্রী পুজা গোয়েল ও ছেলে সাহিল গোয়েলও দিনরাত হাসপাতালেই কাটাচ্ছেন।

সিয়া গোয়েলের মা পুজা গোয়েল সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘কেতনের মৃত্যু একটি নয়, দুটি পরিবারকে এলোমেলো করে দিয়েছে। কেতনের মৃত্যুতে তাদের (আগরওয়াল পরিবার) মতো আমরাও বেদনার্ত।’

কেতনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু বিশ্বাসই হচ্ছে না প্রবীণ গোয়েলের। তিনি বলেন, ‘তারা (আগরওয়াল পরিবার) ছেলে হারিয়েছে। কিন্তু কেতন আমাদের কাছেও ছেলের মতোই ছিল। আমরা তাকে অনেক ভালোবাসতাম। অল্পদিনে তার সঙ্গে আমার গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, মনে হতো কেতন আমার আরেকটি ছেলে। এমন সম্ভাবনাময়, ভালোবাসার সন্তান হারিয়ে আমরাও শোকে কাতর।’

কেতনের সঙ্গে চমৎকার সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করে প্রবীণ গোয়েল বলেন, ‘মেয়ের বিয়েকে সামনে রেখে বাড়ি সংস্কারের কাজ করছিলাম। কেতন এসে বলতো, পাপাজি প্লাম্বিং, মার্বেলের কাজ বা ফার্নিচারের কাজ; যেকোনো কাজে আমাকে বলবেন। আমি সব সামাল দেব। সে কখনো না বলতো না।’

কেতনকে যেমন গোয়েল পরিবার সন্তানের মতো আদর করতো, সিয়াকেও গভীর ভালোবাসায় বরণ করে নিয়েছিল আগরওয়াল পরিবার। বিয়েকে সামনে রেখে নানান অনুষ্ঠান চলছিল। সিয়ার জন্মদিন উদযাপনেও নানান পরিকল্পনা ছিল তাদের।

সিয়ার মা পুজা বলেন, ‘দুজনকে খুব সুখী মনে হচ্ছিল। এ জুটিকে ঘিড়ে আমাদের অনেক আশা ছিল, ভালোবাসা ছিল।’

সিয়ার পরিবার চেতনের সঙ্গে তার সম্পর্ক জেনেও গোপন করেছিল, আগরওয়াল পরিবারের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে গোয়েল পরিবার। সিয়ার মা পুজা বলেছেন, ‘আমরা চেতনকে চিনতাম না। সে কখনো আমাদের বাসায় আসেনি। তাকে আমরা কখনো দেখিনি।’

সিয়া গোয়েলের ভাই সাহিল গোয়েলও চেতনের সঙ্গে বোনের সম্পর্কের কথা জানতেন না। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, সিয়া যদি তাদের কিছু জানাতো তাহলে প্রয়োজনে তারা বিয়ে ভেঙ্গে দিতো।

শুক্রবার পুলিশ সিয়ার ভাইকে ডেকে এনে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সিয়া ও চেতন ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডে আছেন। পুলিশ সিয়ার ভাই ছাড়াও আরো ৭ জনকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তদন্তের প্রয়োজনে দুই পরিবারের সদস্য ও দুই অভিযুক্তের বন্ধুদেরও ডাকা হতে পারে।

একমাত্র ছেলের অভিযুক্ত হত্যাকারী সিয়া গোয়েলের প্রতি আগরওয়াল পরিবারের ক্ষোভ তো আছেই, সুখের আয়োজনে বেদনার কালি লেপে দেওয়ায় সিয়ার প্রতি গোয়েল পরিবারের ক্ষোভও কম নয়। প্রথমে দোষী হলে সিয়া গোয়েলের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চেয়েছিলেন তার বাবা-মা। এখন তাদের রাগ আরো বেশি।

প্রবীণ গোয়েল ও পুজা গোয়েল অভিন্ন কণ্ঠে বলেন, ‘কেতনকে যে বা যারা লোহাগড় দূর্গে ধাক্কা দিয়ে ফেলেছিল, তাদেরকেও যেন ঠিক সেখান থেকেই ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়, এমনকি সে যদি আমাদের মেয়েও হয়।’

সিয়াকে লোহাগড় দূর্গ থেকে ধাক্কা দিয়ে না ফেললেও পুলিশ মানুষের আকারের একটি বস্তু ধাক্কা দিয়ে ফেলেছে। ঘটনাটি যেভাবে ঘটেছে, সেটি নতুন করে মঞ্চায়নের চেষ্টা করছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে সবগুলো ঘটনা এক সুতায় গাঁথতে চাইছে। ঠিক যেখান থেকে কেতনকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল, পুলিশ ঠিক সেখান থেকেই কেতনের আকৃতির একটি বস্তু ধাক্কা দিয়ে ফেলে। পুলিশ আসলে বুঝতে চাইছে, কেতনকে ধাক্কাটা চেতন বা সিয়া একা দিয়েছিল নাকি দুজন মিলে দিয়েছিল।

থাইল্যান্ডে স্যুটকেসে মৃতদেহ, এক অস্ট্রেলীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক
থাইল্যান্ডে স্যুটকেসে মৃতদেহ, এক অস্ট্রেলীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

থাইল্যান্ডে পাতায়াতে স্যুটকেসের ভেতর থেকে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃতদেহ উদ্ধারে এক অস্ট্রেলীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত প্রায় সাড়ে ৯টায় ৪৬ বছর বয়সী ওই নাগরিককে পার্থগামী জেটস্টার ফ্লাইটে ওঠার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় থামানো হয়।

পাতায়া নগর পুলিশের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, থাইল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলীয় উপসাগরীয় উপকূলের পাতায়া শহরের ফ্লোটিং মার্কেটের পেছনে একটি স্যুটকেসের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া থাই কিশোরের সঙ্গে ওই ব্যক্তির যোগযোগের বিষয়ে তদন্ত সংযোগ পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ।

পাতায়ার এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স প্রেস জানিয়েছেন, অপহরণ ও হত্যায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকারকারী সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ করার আগে তদন্তকারীরা ময়নাতদন্তের ফলাফল এবং মামলার ‘অন্যান্য প্রমাণে’র জন্য অপেক্ষা করছিলেন বলে ওই কর্মকর্তা জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে অপহরণ, হত্যা, লাশ লুকানো এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

বেলুচিস্তানে পৃথক সেনা অভিযানে নিহত ৮

অনলাইন ডেস্ক
বেলুচিস্তানে পৃথক সেনা অভিযানে নিহত ৮

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে দুটি পৃথক অভিযানে আট সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। শনিবার (২৭ জুন) পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এ তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যম এবিপির প্রতিবেদনে বলা হয়, আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত ২৫ ও ২৬ জুন প্রদেশের খারান ও মাস্তুং জেলায় নিরাপত্তা বাহিনী দুটি গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করেছে। এতে আটজন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, নিহত সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ, হাতে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্র এবং মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে।

রাশিয়ায় সর্ববৃহৎ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন

অনলাইন ডেস্ক
রাশিয়ায় সর্ববৃহৎ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন
ছবি : এপি

রাশিয়ার ১২ অঞ্চল, অধিকৃত ক্রিমিয়া এবং পার্শ্ববর্তী সাগরে একযোগে ৬৬০টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রাশিয়ার অগ্রাসনের পর থেকে অন্যতম বৃহত্তম ড্রোন হামলা ছিল এটি। গতকাল শুক্রবার রাতে নজিরবিহীন ড্রোন হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রুশ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ৬৬০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন প্রতিহত করেছে। এর আগে সবচেয়ে ৫৫৬টি ড্রোন ব্যবহার করে আরেকটি বড় হামলা চালিয়েছিলো কিয়েভ। খবর এপি

দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের মোড় ঘোরাতে রাশিয়ার অস্ত্রভাণ্ডার, তেল উৎপাদন কেন্দ্র ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে অবিরাম ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন।

পশ্চিমা কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ইউক্রেনের লাগাতার বড় আকারে দুরপাল্লার ড্রোন হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকে ব্যাহত করেছে। যা যুদ্ধক্ষেত্রে মস্কোর প্রচেষ্টাকে স্থবির করে দিয়েছে এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।

জানা গেছে, রাশিয়ার একটি রাসায়নিক কারখানায় হামলা হয়েছে। এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

রাশিয়ার স্বাধীন অনলাইন সংবাদমাধ্যম অ্যাস্ট্রা জানিয়েছে, হামলায় রাশিয়ার নোভোমোস্কোভস্কের একটি রাসায়নিক কারখানা এবং জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগুন ধরে যায়। তবে সোসিয়েটেড প্রেস স্বাধীনভাবে এই প্রতিবেদনটি যাচাই করতে পারেনি এবং এর কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণও পাওয়া যায়নি।

মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, রাশিয়ার রাজধানীর দিকে উড়ে আসা ৪৭টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। 

ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, ক্রিমিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর কের্চে রুশ নৌবাহিনীর জাহাজ ও আকাশ প্রতিরক্ষা রাডারে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে জাহাজগুলো ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে বলে যোগ করেন সংস্থাটি।