• ই-পেপার

ভারত থেকে আবারও আসছে ট্রেনের বগি

ফ্রান্সে প্রথম ইবোলা রোগী শনাক্ত

অনলাইন ডেস্ক
ফ্রান্সে প্রথম ইবোলা রোগী শনাক্ত
ছবি : রয়টার্স

ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি পেশায় একজন চিকিৎসক, যিনি সম্প্রতি কঙ্গো থেকে একটি মানবিক মিশন শেষ করে দেশে ফিরেছেন। ইউরোপের মাটিতে এটিই প্রথম নিশ্চিত হওয়া ইবোলা সংক্রমণের ঘটনা।

বুধবার (২৪ জুন) ফরাসি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আক্রান্ত চিকিৎসককে শনাক্ত করার পরেই একটি বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। এই ঘটনার পর কঙ্গো থেকে ফিরে আসা সাহায্য ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করেছে ফ্রান্স সরকার। একই সঙ্গে আক্রান্ত চিকিৎসকের সংস্পর্শে কারা এসেছিলেন, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

কঙ্গোতে গত মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়া হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাসটি তার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই ছড়াচ্ছিল। মধ্য আফ্রিকার এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে ২৬০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ১,০০০ জনেরও বেশি মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি, দক্ষিণ কিভু ও উত্তর কিভু প্রদেশগুলোতে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে ইতুরিতেই ৯০ শতাংশের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, কঙ্গোতে ইবোলায় আক্রান্ত ৭৫ জন স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে ১৭ জনই মারা গেছেন। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি ইবোলার ‘বান্ডিবুগিও’ প্রজাতির কারণে ঘটছে, যার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি। কঙ্গোর প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও ইবোলা ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে ২০ জন সংক্রমিত এবং দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। ডব্লিউএইচও সতর্ক করেছে যে, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে ‘এম২৩’ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর চলমান সংঘাতের কারণে সেখানে ইবোলা মোকাবিলা করা চরম কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং আফ্রিকা সিডিসি-র মতে, এই প্রাদুর্ভাবটি ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম ইবোলা বিপর্যয় হতে পারে।

প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়াতে জিম্বাবুয়ে সিনেটের অনুমোদন

অনলাইন ডেস্ক
প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়াতে জিম্বাবুয়ে সিনেটের অনুমোদন
ছবি: রয়টার্স

জিম্বাবুয়ের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেট প্রেসিডেন্টের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে সাত বছর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল অনুমোদন করেছে। বুধবার পাস হওয়া এই বিল আইনে পরিণত হলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট এমারসন মানানগাগওয়ার ক্ষমতায় থাকার পথ আরো দীর্ঘ হবে। এর ফলে তিনি ২০৩০ সাল পর্যন্ত দেশটির নেতৃত্বে থাকতে পারবেন।

সিনেটে বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৭৫ জন সদস্য। বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন মাত্র চারজন। বিলটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা সহজেই অর্জিত হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন না। পরিবর্তে পার্লামেন্ট সদস্যদের ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হবে। এখন বিলটিতে প্রেসিডেন্ট মানানগাগওয়ার স্বাক্ষর প্রয়োজন। তিনি সই করলেই এটি আইনে পরিণত হবে।

বর্তমানে ৮৩ বছর বয়সী মানানগাগওয়ার দ্বিতীয় ও শেষ সাংবিধানিক মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা। তবে প্রায় দুই বছর আগে থেকেই তিনি ক্ষমতায় আরো দীর্ঘ সময় থাকতে চান—এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়। সেই সময় ক্ষমতাসীন দল জ্যানু-পিএফের বিভিন্ন সমাবেশে তার সমর্থকেরা প্রকাশ্যে স্লোগান দিতে শুরু করেন। তাদের দাবি ছিল, দেশের উন্নয়ন ও চলমান কর্মসূচিগুলো সম্পন্ন করতে মানানগাগওয়ার আরো সময় প্রয়োজন। পরবর্তীতে গত বছর ক্ষমতাসীন দল প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়ানোর লক্ষ্যে সংবিধান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেই পরিকল্পনা মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক সমর্থনও পায়।

এমারসন মানানগাগওয়া ২০১৭ সালে ক্ষমতায় আসেন। ওই বছর সেনাবাহিনীর সমর্থনে সংঘটিত এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শাসক রবার্ট মুগাবেকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। মুগাবে ১৯৮০ সালে জিম্বাবুয়ে স্বাধীন হওয়ার পর থেকে প্রায় চার দশক দেশ শাসন করেছিলেন। তার পতনের পর মানানগাগওয়া প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকেন।

প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়ানোর এই উদ্যোগ নিয়ে দেশটিতে রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিরোধী দল ও সমালোচকদের অভিযোগ, বিলটির মূল উদ্দেশ্য হলো মানানগাগওয়াকে আরো দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় রাখার সুযোগ তৈরি করা। তাদের মতে, এটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করতে পারে এবং ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে আরো বেশি কেন্দ্রীভূত করবে। অন্যদিকে বিলটির সমর্থকদের দাবি, প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়ানো হলে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে। তাদের মতে, নতুন ব্যবস্থা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়াবে এবং সরকারের জবাবদিহিও আরো শক্তিশালী হবে।

তবে বিলটি আইনে পরিণত হলে জিম্বাবুয়ের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে সরাসরি ভোটের পরিবর্তে পার্লামেন্টের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তাব দেশটির গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

ইউক্রেনের হামলা, ক্রিমিয়ায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট

অনলাইন ডেস্ক
ইউক্রেনের হামলা, ক্রিমিয়ায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট
ছবি : রয়টার্স

রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ার বৃহত্তম শহর সেভাস্তোপোলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন মস্কো-নিযুক্ত গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ।

ইউক্রেনের দাবি, তাদের ড্রোন হামলায় শহরটির প্রধান বিদ্যুৎ সাবস্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গভর্নর রাজভোঝায়েভ বলেছেন, কিছু এলাকায় বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকতে পারে।

তিনি টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, শত্রুপক্ষ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত ও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে হামলা চালাচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতিতেও জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে এবং জরুরি সেবাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ ও মোবাইল ফোনের ব্যাটারি সাশ্রয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গরম আবহাওয়ার কারণে বয়স্ক প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইউক্রেনের মনুষ্যবিহীন সিস্টেম বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রোভডি জানান, এ হামলায় ৪৮টি সক্রিয় ও পরিকল্পিত সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এদিকে, বাখচিসারাই, কের্চ ও মাউন্ট আই-পেট্রি এলাকায়ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানা গেছে।

২০১৪ সালে রাশিয়ার দখলে যাওয়ার পর থেকে ক্রিমিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে ইউক্রেন বিভিন্ন হামলা চালিয়ে আসছে। এর ফলে এলাকাটিতে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। রাশিয়া-সমর্থিত নেতা সের্গেই আকসিওনভ রবিবার সব ধরনের পেট্রোল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কিছু গ্যারেজে এখনও পেট্রোল মজুত রয়েছে, তবে তা মূলত সরকারি সেবার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এদিকে আতঙ্কে অনেক মানুষ অতিরিক্ত পণ্য কিনতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে চিনির ঘাটতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।

ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন।

আন্তর্জাতিকভাবে ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর এটি সড়ক ও রেলপথে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। দক্ষিণ ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চল দিয়ে একটি স্থলপথ এবং কের্চ প্রণালীর ওপর নির্মিত সড়ক ও রেল সেতুর মাধ্যমে এই সংযোগ বজায় রাখা হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রাতে ইউক্রেন থেকে আসা ৩০০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়া ইউক্রেনের দিকে ১০১টি ড্রোন ছুড়েছে। এর মধ্যে ৯৫টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রায় ২০০টি ড্রোন মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালায়। হামলার পর আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া দেখা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হামলার পর কালো তেলের মতো পদার্থ বৃষ্টির ফোঁটার সঙ্গে রাস্তায় পড়ে। তবে মস্কো কর্তৃপক্ষ এমন ঘটনার কথা অস্বীকার করেছে। বাসিন্দাদের দাবি, ওই তেলমিশ্রিত বৃষ্টিতে তাদের পোশাকও নোংরা হয়ে যায়। রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে।

গত ৪ জুন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধ বন্ধ ও যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সরাসরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে একটি খোলা চিঠি পাঠান। তবে পুতিন ওই চিঠিকে ‘অশোভন’ বলে মন্তব্য করেন এবং সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তার মতে, যুদ্ধবিরতির আগে শান্তি আলোচনা হওয়া উচিত।


 

গাজায় শিশুদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে ইসরায়েল- জাতিসংঘের রিপোর্ট

অনলাইন ডেস্ক
গাজায় শিশুদের  ওপর গণহত্যা চালিয়েছে ইসরায়েল- জাতিসংঘের রিপোর্ট
ছবি: রয়টার্স

গাজায় যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। এর ফলে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও যুদ্ধাপরাধ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি স্বতন্ত্র তদন্ত কমিশন।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড, পূর্ব জেরুজালেম ও ইসরায়েল বিষয়ক জাতিসংঘের স্বতন্ত্র আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন। প্রতিবেদনে ২০২৩ সালের সাত অক্টোবর হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধ থেকে ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার বিশদ পর্যালোচনা করা হয়েছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধে নিহতদের প্রায় ৩০ শতাংশই শিশু। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের সাত অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের সাত অক্টোবর পর্যন্ত অন্তত ২০ হাজার ১৭৯ ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন মুরালিধর বলেন, তদন্তে পাওয়া প্রমাণ থেকে দেখা যাচ্ছে যে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং হত্যা করেছে। তার মতে, শিশুদের বিরুদ্ধে এই ধরনের হামলা শুধু প্রাণহানিই ঘটায়নি, বরং ফিলিস্তিনি জনগণের ভবিষ্যৎ ও টিকে থাকার সক্ষমতাকেও দুর্বল করেছে।


এর আগে গত সেপ্টেম্বরেও একই কমিশন এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করেছিল যে, গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে। সেই প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ কয়েকজন শীর্ষ ইসরায়েলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এসব কর্মকাণ্ডে উসকানি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছিল। তবে ইসরায়েল শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। নতুন প্রতিবেদন প্রকাশের পর জেনেভায় ইসরায়েলের মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, তারা এই প্রতিবেদন সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। ইসরায়েলের ভাষ্য, প্রতিবেদনটি একপেশে এবং এতে হামাসের কর্মকাণ্ড ও কৌশলকে উপেক্ষা করা হয়েছে। তারা দাবি করেছে, ইসরায়েল সব সময় শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয় এবং ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ ভিত্তিহীন।
 
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় আগের যেকোনো বড় সংঘাতের তুলনায় এবার শিশু মৃত্যুর হার বেশি ছিল। তুলনামূলক তথ্য তুলে ধরে কমিশন বলেছে, ২০০৮-০৯ এবং ২০১৪ সালের গাজা সংঘাতে শিশুদের মৃত্যু মোট হতাহতের প্রায় ২৪ শতাংশ ছিল। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধে সেই হার বেড়ে প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে। কমিশনের মতে, শিশু হতাহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়লেও ইসরায়েলি বাহিনী ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরক ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে সক্ষম অস্ত্র ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন অনেক হামলা হয়েছে যেখানে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিশু নিহত হয়েছে। কমিশনের মতে, এসব ঘটনা ইঙ্গিত দেয় যে শিশুদের ওপর হামলা কেবল দুর্ঘটনাবশত ঘটেনি। কমিশনের মতে, শিশুদের একটি গোষ্ঠী হিসেবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। কারণ ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী পুরো বেসামরিক জনগণকেই হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে মনে করত। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে গাজার শিশুদের জীবন ও বিকাশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিয়মিত বোমা হামলা, বারবার বাস্তুচ্যুতি, খাদ্য ও ওষুধের সংকট এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধার কারণে অনেক শিশু অপুষ্টি ও অনাহারের শিকার হয়েছে। এর ফলে এমন অনেক মৃত্যু ঘটেছে, যা প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল। কমিশন বলছে, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় নবজাতকদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও কমে গেছে। হাসপাতাল ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে হামলার কারণে গর্ভপাতের ঘটনাও বেড়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গাজার প্রায় সব শিশুই কোনো না কোনো মাত্রার মানসিক আঘাতের শিকার হয়েছে এবং তাদের মানসিক সহায়তা প্রয়োজন। তবে ইসরায়েল দাবি করেছে, প্রতিবেদনে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা, চিকিৎসাকর্মীদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া এবং অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপনের মতো উদ্যোগগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়নি। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেছে, হামাস মানবিক সহায়তা ও হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ জ্বালানি অন্য কাজে ব্যবহার করে। যদিও হামাস এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গাজার পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের পরিস্থিতিও তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। কমিশন বলেছে, সেখানে ফিলিস্তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ ছাড়া গণগ্রেপ্তার ও আটক অভিযানের সময় নির্যাতন, যৌন নির্যাতন এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে আটক ফিলিস্তিনি ছেলেশিশুদের সঙ্গে নিয়মিত দুর্ব্যবহার করা হয়েছে বলে কমিশনের দাবি। তাদের জোর করে কাপড় খুলতে বাধ্য করা, মারধর করা এবং খাবার থেকে বঞ্চিত করার মতো ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। কমিশনের মতে, এসব কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে পড়ে। বিশেষ করে নির্যাতন এবং এমন আচরণ, যা গুরুতর শারীরিক বা মানসিক ক্ষতির কারণ হয়। তবে ইসরায়েল এই অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির দাবি, পশ্চিম তীরে নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপগুলো নিয়মিত নিরাপত্তা হুমকি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মোকাবিলার অংশ। তাদের মতে, প্রতিবেদনে পরিস্থিতির প্রয়োজনীয় প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়নি।