অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম নকআউট ম্যাচ জিতল মিশর। টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানের এই জয়ে শেষ ষোলোর টিকিটও নিশ্চিত করলেন মোহাম্মদ সালাহরা। এর আগে ১৯৩৪ সালে শেষবার নকআউটে খেলেছিল মিশর।
টাইব্রেকারে প্রথম শট নিতে এসে গড়বড় করে বসে অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি শুটার। বারের ওপর দিয়ে বল মেরে দেন তিনি। এরপর মাহমুদ সাবের প্রথম শট নিতে এসে মিশরকে এগিয়ে দেন। তবে দ্বিতীয় শটে গোল করে কিছুটা সকারুজদের স্বস্তি এনে দেন জ্যাকসন আরবিন। মিশর তাদের দ্বিতীয় শটেও গোল পায়।
তৃতীয় শটে ভুল হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। আওয়ার মাবিল গোল করেন। মিশরের তৃতীয় শটও হয় ঠিকঠাক। চতুর্থ স্পটকিক মিস করে অস্ট্রেলিয়াকে বেকাদায় ফেলেন ১৮ বছর বয়সী হেরিংটন। এরপর আবদেল বল জালে জড়ালে উৎসব শুরু হয় মিশরের।
এর আগে প্রথমার্ধ শেষে ইতিহাস গড়ার সুবাস পাচ্ছিল মিসর। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের এক চরম নাটকীয়তায় অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে ফিরতেই যেন সব ওলটপালট হয়ে যায়।
ম্যাচের মাত্র ১৩ মিনিটেই ইমান আশুরের সেই চোখধাঁধানো গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গিয়েছিল মিশর। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে ইতিহাস গড়ার খুব কাছাকাছিই পৌঁছে গিয়েছিল তারা।
কিন্তু ফুটবল বিধাতা হয়তো অন্য কিছু লিখে রেখেছিলেন। বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৫৫ মিনিটে এক মুহূর্তের অসতর্কতায় স্তব্ধ হয়ে যায় মিসর শিবির।
অস্ট্রেলিয়ার একটি ফ্রি-কিক থেকে উড়ে আসা বল ডি-বক্সের ভেতর ক্লিয়ার করতে গিয়েছিলেন মিসরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি। কিন্তু টাইমিংয়ের গড়বড়ে বল ঠিকঠাক সংযোগ না হয়ে উল্টো নিজেদের জালেই জড়িয়ে যায়! হানির এই অনাকাঙ্ক্ষিত আত্মঘাতী গোলেই সমতায় ফেরে সকারুজরা।
এরপর বাকি সময়ে দুই দলই লিড নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে লড়লেও জালের দেখা মেলেনি আর।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ১-১ সমতায় ম্যাচ গড়ায় ৩০ মিনিটের অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও কেউ শেষ হাসি হাসতে না পারায় শুরু হয় স্নায়ুক্ষয়ী টাইব্রেকার।