• ই-পেপার

‘এই আজেন্টিনা দলকে হারানো প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন’

ইকুয়েডরের কাছে হেরে ভুলবশত তাদের বাসেই চড়েন জার্মান মিডফিল্ডার

ক্রীড়া ডেস্ক
ইকুয়েডরের কাছে হেরে ভুলবশত তাদের বাসেই চড়েন জার্মান মিডফিল্ডার
অনুশীলনের সময় জার্মান মিডফিল্ডার গোরেৎজকা। ছবি : রয়টার্স

ম্যাচ হারার পর মাথা গরম হওয়াটা স্বাভাবিক। শক্তি সামর্থ্যে পিছিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে হারলে মাত্রাটা আরো যায় বেড়ে। তাই বলে ম্যাচ শেষে যাদের কাছে পরাজয় দেখেছে তাদের গাড়িতেই উঠতে হবে খেলোয়াড়কে।

হ্যাঁ, এমনি এক বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন লিওন গোরেৎজকা। ইকুয়েডরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হারার পর তাদের বাসে উঠেন জার্মান মিডফিল্ডার। বিষয়টি বুঝতে পেরে অবশ্য দ্রুত নিজেদের গাড়িতে চড়ে বসেন ৩১ বছর বয়সী বায়ার্ন মিউনিখের মিডফিল্ডার।

ম্যাচ শেষে ক্যাম্পে ফেরার সময় সাধারণত দুই দলের বাস কাছাকাছিই থাকে। গত পরশুও নিউইয়র্ক/নিউ জার্সিতে হওয়া জার্মানি-ইকুয়েডরের গাড়িও পাশাপাশিই ছিল। নিজেদের গাড়িতে উঠতে গিয়ে অন্যমনস্ক গোরেৎজকা ইকুয়েডরের গাড়িতে চড়েন। সংবিৎ ফিরে পেয়ে নিজেদের গাড়িতে এলেও ট্রলের শিকার ঠিকই হচ্ছেন তিনি।

 

গোরেৎজকার এমন ঘটনা পরে মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। তাতে কমেন্ট করে মজা নিচ্ছেন সামাাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা। একজন লিখেছেন, ‘সে জানতই না তার দল কোনটা।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘সে জয়ী দলের সঙ্গেই যেতে চেয়েছিল।’ বিপরীতে আরেকজন লিখেছেন, ‘পরের বিশ্বকাপ পর্যন্ত হাসার খোরাক পেলাম।’ এক জার্মানভক্ত ক্ষুব্ধ হয়ে লিখেছেন, ‘সে কি তার দেশ ত্যাগ করেছে?’

ইকুয়েডরের বিপক্ষে এবারই প্রথমবার হেরেছে জার্মানি। তবে ২-১ গোলের পরাজয়ের ম্যাচে ছিলেন না গোরেৎজকা। বেঞ্চে ঠাঁই হয়েছিল তার। এবারের বিশ্বকাপে অবশ্য অনেকটা বেঞ্চই গরম করতে হচ্ছে মিডফিল্ডারকে। বায়ার্নের হয়ে মৌসুমটা রাঙালেও বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মাত্র ২২ মিনিট খেলার সুযোগ পেয়েছেন। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ১৭ মিনিটের বিপরীতে বাকি ৫ মিনিট খেলেছেন আইভরি কোস্টের বিপক্ষে।

ফ্রান্সের বিপক্ষে আমরা এমনিতেও জিততাম না—হালান্ড

ক্রীড়া ডেস্ক
ফ্রান্সের বিপক্ষে আমরা এমনিতেও জিততাম না—হালান্ড

বিশ্বকাপে গ্রুপের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে নরওয়ের বড় ব্যবধানে হেরেছে। হারের পর উঠে আসে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দেওয়ার বিতর্কিত সিদ্ধান্তে কথা। এতে ব্যাপক সমালোচনার বিদ্ধ হন কোচ স্টালে সোলবাকেন। কোচের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পক্ষে কথা বলেছেন আর্লিং হালান্ড। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এতে ম্যাচের ফলাফলে কোনো পরিবর্তন আসত না। 

ব্যাপক সমালোচনা সত্ত্বেও এই নীতি নকআউট পর্বের জন্য নরওয়েকে আরো শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে বলে জানান হালান্ড। বোস্টনের স্টেডিয়ামে উপস্থিত ফুটবলপ্রেমীরা হালান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডের মতো তারকাদের খেলতে না দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন । গ্যালারি থেকে ‘উই ওয়ান্ট হালান্ড’ স্লোগান দিতে থাকেন ফুটবলপ্রেমীরা।

ম্যাচ শেষে হালান্ড বলেন, ‌‘ফ্রান্সের শক্তির কাছে এমনিতেও হেরে যেতেন। ম্যাচের আগেই বলেছিলাম যে এই ম্যাচের ফলাফল নিয়ে চিন্তিত নই আমরা। ফ্রান্স স্পষ্টভাবেই সেরা দল এবং তাদের প্রতিটি পজিশনে বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে।'

নরওয়ে কোচ সোলবাকেন এই স্কোয়াড রোটেশনকে অত্যন্ত সহজ সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেনেগালের বিপক্ষে ৩-২ গোলের তীব্র লড়াইয়ের পর দলের মূল খেলোয়াড়রা ক্লান্তিতে ভুগছিলেন। 

নকআউট পর্বের জন্য খেলোয়াড়দের চাঙ্গা রাখাই ছিল মূল লক্ষ্য ছিল বলে যোগ করেন কোচ। গ্রুপ রানার্স-আপ হয়ে রাউন্ড থার্টি টুতে নরওয়ের প্রতিপক্ষ আফ্রিকান পরাশক্তি আইভরি কোস্ট। 

২০৩০ বিশ্বকাপে বাবার সঙ্গে খেলতে চান রোনালদোর ছেলে

ক্রীড়া ডেস্ক
২০৩০ বিশ্বকাপে বাবার সঙ্গে খেলতে চান রোনালদোর ছেলে
২০৩০ বিশ্বকাপে বাবার সতীর্থ হয়ে খেলতে চান ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র। ছবি : এক্স থেকে

আজন্ম স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে বর্তমানে বিশ্বকাপে মজে আছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বয়স ৪১ হওয়ায় সোনালি ট্রফি ছোঁয়ার এটা শেষ সুযোগ বলে অনেকে মনে করছেন। 

তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ রোনালদোর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ নাও হতে পারে। পরের বিশ্বকাপেও তিনি খেলতে পারেন। এমন ইঙ্গিতই ‘সিআর সেভেনের’ কণ্ঠে।

বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের বিপরীতে আরেকটি স্বপ্ন দেখছেন রোনালদো। তার চাওয়া, ছেলে ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়রের সঙ্গে একই দলের হয়ে খেলবেন তিনি। এমন ইচ্ছের কথা অনেকবারই সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন পর্তুগালের অধিনায়ক। 

ছেলেকে তো অবশ্যই বলেছেন। তা না হলে কি আর রোনালদোকে খেলা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলতেন ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র। তা কি বলেছেন তার ছেলে চলুন শুনি রোনালদের মুখেই। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী বলেছেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র সবসময় আমাকে বলে খেলা চালিয়ে যাও। যেন ২০৩০ বিশ্বকাপে আমরা সতীর্থ হতে পারি।’

বাবার স্বপ্নপূরণে সঠিক পথেই আছে ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়রও। ১৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বাবার মতো গতির সঙ্গে ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়েও দুর্দান্ত। লেফট উইঙ্গার হলেও ৬ ফুট ৩ ইঞ্চির ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র আক্রমণভাগের যেকোনো জায়গায় মানিয়ে নিতে সক্ষম।

তার প্রমাণ ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্তুগালের অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে তিনটি শিরোপা। এর মধ্যে ভ্লাতকো মাকোভিচ টুর্নামেন্টে অনূর্ধ্ব-১৫ দলের হয়ে ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলও করে। এদিকে বাবার সৌদি প্রো লিগের দল আল নাসরের অনূর্ধ্ব-১৫ দলের হয়ে ২৭ ম্যাচে ৫৬ গোলও করা হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে আছে ১৫টি অ্যাসিস্টও। সম্প্রতি অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে হ্যাটট্রিকের সঙ্গে নিয়মিত গোলও করে যাচ্ছে ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র।

তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণেই সম্প্রতি সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম ‘আল উইয়াম’ জানিয়েছে, রোনালদোর বড় ছেলেকে ২০২৬-২৭ মৌসুমে মূল দলের অনুশীলনে যুক্ত করতে পারে আল নাসর। সংবাদ সত্যি হলে ছেলের সঙ্গে নিজের ট্রেডমার্ক উদযাপন ‘সিউউউ’ হয়তো হাতছোঁয়া দূরত্বেই থাকবে।

ফ্রান্সকে কেন কালো বাহুবন্ধনি পরে খেলতে দিল না ফিফা

ক্রীড়া ডেস্ক
ফ্রান্সকে কেন কালো বাহুবন্ধনি পরে খেলতে দিল না ফিফা
ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নীরবতা পালন করছেন ফ্রান্সের ফুটবলাররা। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপ চলাকালীন দুঃসংবাদ শোনেন দিদিয়ের দেশম। পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন তার মা। মায়ের শেষকৃত্যে থাকতে তাই প্যারিসে ফিরে গেছেন তিনি। গতকাল নরওয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সের ডাগআউটে তাই সহকারি কোচ গাই স্টিফেনকে দেখা গেছে। 

গুরু ডাগআউটে না থাকলেও ঠিকই জ্বলে উঠেছে ফ্রান্স। উসমান দেম্বেলের হ্যাটট্রিকে প্রতিপক্ষ নরওয়েকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছে দুইবারের বিশ্বকাপ জয়ীরা। তবে জয় পাওয়ার আগে এই ম্যাচে কালো আর্মব্যান্ড পরতে চেয়েছিল ফ্রান্স।

দেশমের মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছিলেন ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)। তার জন্য ফিফার কাছে অনুমতিও চেয়েছিল এফএফএফ। তবে অনুমতি দেয়নি ফিফা। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস তাদের সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছে, ‘দেশমের মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কালো আর্মব্যান্ড পরার অনুমতি চেয়েছিল ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন। ফিফা সে অনুমতি দেয়নি।’ অনুমতি না দেওয়ার কারণ হিসেবে জানা যায়, দেশমের মা যেহেতু বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তি নন, তাই দেওয়া হয়নি।

 

বিকল্প হিসেবে এক মিনিট নীরবতা পালন করার কথা ছিল। তবে সেটাও পরে হয়নি। অবশ্য ম্যাচ শুরুর আগে ১ মিনিটের যে নীরবতা পালন করা হয় তা ছিল ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। 

ফিফা অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন ফ্রান্সের অনেক ভক্ত-সমর্থক। সামাজিক মাধ্যমে একজন লিখেছেন, ‘শ্রদ্ধা কখনোই বিতর্কিত হওয়া উচিত নয়। সহানুভূতি এবং ফুটবল একসাথে চলতেই পারে।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘একজন কোচের মায়ের মৃত্যুর পর শোক জানাতে কালো আর্মব্যান্ড পরা ফিফা আটকে দিয়েছে, যা ফিফার মানদণ্ডের চরম সংকীর্ণতা।’

ফিফার ডাবল স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে একজন লিখেছেন, ‘ফিফার কেন সব সময় এমন দুমুখো নীতি থাকে? তাদের কি মানবিকতাবোধ বলতে কিছু নেই?’