বিশ্বকাপের মাঠে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জয়জয়কার। কিন্তু মাঠের বাইরের এক রক্তক্ষয়ী ঘটনা এবার বিষাদের ছায়া ফেলল ফুটবল বিশ্বকাপে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, গুলির ঘটনায় আর্জেন্টিনার একদল আমেরিকান সমর্থককে বহনকারী উবার চালক আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে শহরের প্রায় পাঁচ মাইল এলাকায় পাঁচটি পৃথক গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে তিনটি হামলা হয় ইন্টারস্টেট-৭০ ও ইন্টারস্টেট-৬৭০ মহাসড়কে।
ঘটনাস্থলগুলো আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়া অ্যারোহেড স্টেডিয়াম থেকে অন্তত চার মাইল দূরে ছিল।
আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওনকে দুই আর্জেন্টিনা সমর্থক জানান, তারা উবারে করে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছিলেন।
এ সময় একটি গাড়ি তাদের পাশ দিয়ে গিয়ে দুটি গুলি ছোড়ে। এতে উবার চালকের পায়ে গুলি লাগে। প্রথমে তারা মনে করেছিলেন গাড়ির টায়ার ফেটে গেছে। পরে চালককে আহত অবস্থায় দেখে বিষয়টি বুঝতে পারেন।
ঘটনার পর পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে গিয়ে জবানবন্দি নেয়। পরে টহল গাড়িতে করে তাদের স্টেডিয়ামে পৌঁছে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আহত উবার চালকের অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মহাসড়কে সংঘটিত তিনটি গুলিবর্ষণের সময় সব গাড়িই পূর্বদিকে যাচ্ছিল। বাকি দুটি ঘটনা ঘটে শহরের প্রধান সড়ক ট্রুম্যান রোডে।
এ ঘটনায় তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক ও এক কিশোর আহত হয়েছেন। সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ট্রুম্যান রোডে একটি গাড়ি খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। চালককে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তার শরীরে গুলির আঘাত শনাক্ত করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
পুলিশ কর্মকর্তা জ্যাকব বেকিনা জানান, ভুক্তভোগীদের সবাই জানিয়েছেন, তারা সড়ক বা মহাসড়কে গাড়ি চালানোর সময় তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল।
তদন্তকারীদের ধারণা, অল্প সময়ের ব্যবধানে সংঘটিত এসব গুলিবর্ষণের পেছনে একই সন্দেহভাজনের হাত রয়েছে।
পরে পুলিশ শহরতলি ইনডিপেনডেন্সের একটি বাড়িতে সন্দেহভাজনের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালায়। তবে বুধবার সকাল ৮টার দিকে সেখানে প্রবেশ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, কানসাস সিটি পুলিশ জানিয়েছে, ১১ জুনের একটি অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের মামলায়ও ওই সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।




