• ই-পেপার

মাদক ও এইডস প্রতিরোধে কুমিল্লায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সেমিনার

শান্তিগঞ্জে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে প্রতিবন্ধী পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী উপহার

মো. নুরুল হক, (শান্তিগঞ্জ) সুনামগঞ্জ
শান্তিগঞ্জে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে প্রতিবন্ধী পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী উপহার

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে অসচ্ছল এক প্রতিবন্ধী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। সংগঠনটির উপজেলা শাখার উদ্যোগে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পেয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে পরিবারটিতে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে শান্তিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের পার্বতীপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রতিবন্ধী রশিদ মিয়ার হাতে খাদ্যসহায়তা তুলে দেওয়া হয়। সহায়তার মধ্যে ছিল চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, চিনি ও লবণ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রশিদ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। কথা বলতেও তার সমস্যা হয়। নিজের নামে কোনো জমিজমা বা বসতভিটা নেই। সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পাশে সরকারি জায়গায় একটি ঝুপড়ি ঘরে স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে বসবাস করেন। সংসারের একমাত্র উপার্জনের ভরসা তার স্ত্রী কলছুমা বেগম। তিনি স্বামীকে হুইলচেয়ারে নিয়ে বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে কোনোমতে পরিবারের খরচ জোগান।

তিন সন্তানের মধ্যে একজন মেয়ে শান্তিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ল্যাবরেটরিজ হাই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। সীমাহীন দারিদ্র্যের কারণে পরিবারটির অনেক সময় না খেয়েও দিন কাটাতে হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা শুভসংঘ শান্তিগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মো. নুরুল হকের নেতৃত্বে সংগঠনের উপদেষ্টা সিরাজ মিয়া ও মাসুক মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক ছায়াদ হোসেন সবুজ, ব্যবসায়ী আজিদ মিয়া, সমাজসেবক মহিম মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতি  মো. নুরুল হক বলেন, ‘সমাজের অসহায়, দিনমজুর, প্রতিবন্ধী ও কর্মহীন বয়োবৃদ্ধ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সমাজের সবাই একসঙ্গে কাজ করলে মানবিক ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।’

খাদ্যসহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে রশিদ মিয়ার স্ত্রী কলছুমা বেগম বসুন্ধরা শুভসংঘ ও বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সংসারে অনেক কষ্ট। এই সহায়তা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। যারা আমাদের কথা ভেবেছেন, আল্লাহ তাদের ভালো রাখুন।’

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তাই নয়, সমাজে সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধও জাগ্রত করে। বসুন্ধরা শুভসংঘের এ উদ্যোগ অন্যদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে।

শরণখোলায় বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা

মহিদুল ইসলাম শরণখোলা (বাগেরহাট)
শরণখোলায় বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা

বাগেরহাটের শরণখোলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা সদরের রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাইস্কুলে আয়োজিত এ সভায় বিভিন্ন শ্রেণির অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. আব্দুল মান্নান শিকদার।

বসুন্ধরা শুভসংঘ শরণখোলা উপজেলা শাখার সভাপতি মহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রাসেল আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য দেন উপজেলা শুভসংঘের সহসভাপতি ও বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মো. শাহীন উজ্জামান শাহীন, কার্যনির্বাহী সদস্য ও শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর কবির এবং কার্যনির্বাহী সদস্য ও শিক্ষক বিশ্বজীৎ দাস।

বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত রোগ হলেও সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এর বিস্তার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার ও জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা কিংবা যেকোনো পাত্রে যাতে পানি জমে না থাকে সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে।

তারা শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথাসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেন বক্তারা।

সভায় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।

চলনবিলে বসুন্ধরা শুভসংঘের কৃষ্ণচূড়া রোপণ

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
চলনবিলে বসুন্ধরা শুভসংঘের কৃষ্ণচূড়া রোপণ
ছবি: কালের কণ্ঠ

বর্ষার নবধারায় স্নাত চলনবিল যখন রূপালী চাদর গায়ে জড়িয়ে শান্ত-স্নিগ্ধ, ঠিক তখনই তার রূপের মাধুর্যকে আরো একধাপ বাড়িয়ে দিতে এক অনন্য উদ্যোগ নিল বসুন্ধরা শুভসংঘ। বিলের বুক চিরে জেগে ওঠা নৈসর্গিক পর্যটন এলাকাকে লাল-সবুজের মায়াবী ক্যানভাসে রূপান্তর করতে কৃষ্ণচূড়া বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে সংগঠনটির গুরুদাসপুর উপজেলা শাখার সদস্যরা।

ধু-ধু জলরাশি আর মৃদু বাতাসের মিতালিতে মুখর চলনবিল এমনিতেই পর্যটকদের মনে দোলা দেয়। আগামী দিনে সেই দোলায় বৈশাখী বাউলের মতো রঙ ছড়াবে কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভা—এই স্বপ্ন বুনেই শুভসংঘের তরুণরা কোদাল-খুন্তি হাতে নেমে পড়েন তাদের প্রতিটি হাতের ছোঁয়ায় রোপিত হয়েছে একেকটি নতুন প্রাণের স্পন্দন, যা আগামী দিনে পর্যটকদের ছায়া দেবে, চোখ জুড়াবে আর মনকে করবে উচাটন। 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) চলনবিল পর্যটন এলাকার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সারিবদ্ধভাবে এই সৌন্দর্যবর্ধনকারী বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। এতে উপস্থিত ছিলেন গুরুদাসপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মো. গোলাম রব্বানী, সহসভাপতি মো. মকবুল হোসেন, মো. শুভাশিস কবির, মো. নাসিম উদ্দিন জয়, সাধারণ সম্পাদক মো. অনিক সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাহারিয়ার লামিম, উৎসব প্রামাণিক, সাহারিয়ার লামিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জোহা প্রামাণিক, সহসাংগঠনিক সম্পাদক সাকিল ইসলাম, ইমন ইসলাম, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. লিমন প্রামাণিক, সহপ্রচার সম্পাদক মো. সোহানুর রহমান, সদস্য মিলন মোল্লা, সাকিল ইসলাম, মেহেদি হাসান, ইয়ামিন তালুকদার, শ‍্যামল হোসেন, সোহাগ মোল্লা, আজিজুল সরকার, নাহিদ জামান ও সিব্বির আহসান।

সংগঠনটির গুরুদাসপুর উপজেলা শাখার সহসভাপতি মো. গোলাম রব্বানী জানান, তারা শুধু গাছ রোপণ করছেন না, চলনবিলের বুকে এক টুকরো লাল-সবুজের অহংকার বুনে দিচ্ছেন, কয়েক বছর পর যখন এই কৃষ্ণচূড়াগুলো একযোগে হেসে উঠবে, তখন চলনবিলের রূপ দেখে চোখ ফেরানো দায় হবে।

উপস্থিত শুভসংঘের সদস্যরা জানায়, শুধু কংক্রিটের উন্নয়ন নয়, প্রকৃতির নিজস্ব রূপকে বাঁচিয়ে রাখাই আসল সার্থকতা। এই কর্মসূচি চলনবিলকে যেমন আরো আকর্ষণীয় করে তুলবে, তেমনি জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষায়ও রাখবে এক অনন্য ভূমিকা। 

বৃক্ষরোপণ শেষে তরুণেরা শপথ নেন, শুধু রোপণই নয়, এই চারাগুলো যতক্ষণ না মহিরুহ হয়ে উঠছে, ততক্ষণ পরম মমতায় এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যা করবেন তারা।

তাড়াশে হামের সচেতনতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের আলোচনসভা ও পোস্টার প্রদর্শন

সনাতন দাশ, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ)
তাড়াশে হামের সচেতনতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের আলোচনসভা ও পোস্টার প্রদর্শন
সংগৃহীত ছবি

‘শুভ কাজে, সবার পাশে’ স্লোগান সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে  প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের  নিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক আলোচনাসভা ও পোস্টার প্রদর্শন করা  হয়েছে। মঙ্গলবার  (১৬ জুন) পৌর শহরের  চালামাগুড়া সরকারি প্রাথমিক  বিদ্যালয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ  তাড়াশ উপজেলা শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

উপজেলা বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি শামীউল হক শামীমের   সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. লুৎফর রহমানের সঞ্চালনায়  ডা. শ্যামল কুমার,  প্রধান শিক্ষক অদৈত সরকার ,  সহকারী শিক্ষক জাহিদ হাসান,  সুভাস ভৌমিক,  সাংবাদিক মৃণাল সরকার মিলু ও  দৈনিক কালের কণ্ঠের তাড়াশ-রায়গঞ্জ উপজেলা  প্রতিনিধি  সনাতন দাশ  উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনাসভার প্রধান আলোচক ডা. শ্যামল কুমার  বলেন, ‘বর্তমানে সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।  সরকার এ হামের প্রাদুর্ভাব দুর করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।  পাশাপাশি সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত টিকা দেয়া হচ্ছে। ’

তিনি আরো বলেন, ‘হামের প্রাদুর্ভাব হলে পরিবার সবাইকে সচেতন হতে হবে। আক্রান্ত শিশুকে আলাদাভাবে পরিচর্যা করতে হবে।  পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ  নিতে হবে। সকলের সচেতন প্রচেষ্টাই হাম প্রতিরোধ করা সম্ভব।  এ বিষয়ে তিনি শিশুদের স্বাস্থ্যকর জীবনধারা এবং রোগ প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন।’ 

প্রধান শিক্ষক অদৈত সরকার বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে এ সচেতনতা মূলক অনুষ্ঠান আমাদের শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। আগামীতে এমন প্রোগ্রাম অব্যাহত রাখবেন, এ প্রত্যাশা করছি।’