• ই-পেপার

হামে মৃত্যু ছাড়াল ৬৫০

স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রত্যেক জেলা-উপজেলা হাসপাতালে ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা করা হবে

অনলাইন ডেস্ক
প্রত্যেক জেলা-উপজেলা হাসপাতালে ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা করা হবে
সংগৃহীত ছবি

দেশের প্রত্যেক জেলা-উপজেলা হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে কিডনি রোগীর জন্য ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। 

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে যে বাজেট ব্যবস্থা দিয়েছেন, আশা করি প্রত্যেক জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কিডনি ডায়ালাইসিস ব্যবস্থা করতে সক্ষম হব, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ কম টাকায় ডায়ালাইসিস করাতে পারেন। 

তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই ১০টি হাসপাতালে আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর মোর্শেদ, রাজবাড়ির জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ, রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. মো. আব্দুল হান্নান প্রমুখ।

২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ৪ প্রাণহানি

অনলাইন ডেস্ক
২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ৪ প্রাণহানি

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৬৬ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৮৮ হাজার ৮৯৫ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১১ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৬৩৪ জন।

গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৩ হাজার ২৭৭ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৬৮৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৫৬৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আবারও শুরু হচ্ছে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন

অনলাইন ডেস্ক
আবারও শুরু হচ্ছে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন

দেশব্যাপী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ২৮ জুন রবিবার দিনব্যাপী এই বিশেষ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে। এর আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, এবারের কার্যক্রমে দুই কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার বড় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী প্রায় ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন শিশুকে নীল রঙের ক্যাপসুল এবং ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন শিশুকে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনূস আলী আজ গণমাধ্যমকে জানান, ক্যাম্পেইনটি সফল করতে দেশজুড়ে ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ছাড়া যাতায়াতরত শিশুদের সুবিধার্থে বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আরও ৫০০টি মোবাইল কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

প্রস্তুতির বিষয়ে ডা. ইউনূস আরও বলেন, ‘প্রয়োজনীয় অধিকাংশ ক্যাপসুল ইতিমধ্যে আমাদের ভাণ্ডারে পৌঁছেছে। বাকি যা আছে, তা-ও আগামী ১৯ জুনের মধ্যে হাতে পাব বলে আশা করছি। আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি যাতে কোনো শিশু এই সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।’

পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং রাতকানা রোগসহ অপুষ্টিজনিত সমস্যা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নির্ধারিত দিনে নিকটস্থ কেন্দ্রে গিয়ে শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়াতে অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের অন্য শাখার কার্যক্রমে বাধা নেই : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের অন্য শাখার কার্যক্রমে বাধা নেই : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসনে। ছবি : সংগৃহীত

শিশু মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হলেও আদ্-দ্বীনের অন্যান্য শাখার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে হাম রোগের চিকিৎসাসংক্রান্ত নতুন ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন উদ্বোধন করা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মগবাজার শাখার বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থা শুধু একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। একই ব্র্যান্ডের অধীনে পরিচালিত অন্য হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে, যদি তারা বিদ্যমান নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে।

শিশু মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অক্সিজেন সংকট ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে কয়েকটি শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা ছিল।

মন্ত্রী আরো বলেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে অবহেলা বা গাফিলতির কোনো সুযোগ নেই। রোগীর জীবন নিয়ে দায়িত্বহীন আচরণ করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তিকে জবাবদিহির আওতায় আসতেই হবে। সরকার এ ধরনের ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থার সামগ্রিক মান নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করে মন্ত্রী মন্তব্য করেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে কাঙ্ক্ষিত সেবার মান এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ জন্য চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের আরো দায়িত্বশীল ও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

একই অনুষ্ঠানে হাম প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সংক্রামক রোগ মোকাবেলায় ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। তবে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই প্রচেষ্টা আরো জোরদার করতে হবে।