• ই-পেপার

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৪০ সদস্যের ‌‌‌‌‌‌‌‌এনসিইসিসি গঠন

অনলাইন জুয়া-বেটিংয়ে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, ৫ কোটি টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
অনলাইন জুয়া-বেটিংয়ে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, ৫ কোটি টাকা জরিমানা

ডিজিটাল যুগের অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া রুখতে জাতীয় সংসদে সর্বোসম্মতিতে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬’ পাস হয়েছে। আইনে অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। ১৫৯ বছরের পুরনো আইন বাতিল করে যুগোপযোগী এই নতুন আইনটি প্রণয়ন করা হয়।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বিলটি পাসের জন্য উপস্থাপন করেন। পরে তা সর্বসম্মতিতে কণ্ঠভোটে পাস হয়।

একই দিন ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিল-২০২৬’ পাস হয়েছে। ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

পাস হওয়া জুয়া প্রতিরোধ বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট-১৮৬৭’ দেড়শতাধিক বছরেরও বেশি পুরোনো। ডিজিটাল যুগে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া প্রতিরোধে বিদ্যমান আইনি কাঠামো অকার্যকর ও অপর্যাপ্ত হয়ে পড়েছিল। অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সংঘটিত জুয়া, অর্থপাচার ও প্রতারণা বাংলাদেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও তরুণ সমাজের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে। এ কারণেই পুরোনো আইনটি রহিত করে কঠোর সাজার বিধান রেখে নতুন আইনটি প্রণয়ন করা হয়।

আইনে ‘অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়া’, ‘অনলাইন বেটিং’ (স্পোর্টস বেটিং, লাইভ বেটিং, ক্যাসিনো বেটিং ইত্যাদি), ‘ক্রিপ্টোকারেন্সি’, ‘ঘোস্ট সিম’, এবং ‘ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট’ বা ডিজিটাল ওয়ালেটের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়।

আইনে বলা হয়েছে, জুয়ার উদ্দেশ্যে অর্থ জমা, উত্তোলন বা স্থানান্তর, বিদেশি অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি বা এজেন্ট হিসেবে কাজ করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়ার পেজ বা চ্যানেল পরিচালনা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এছাড়া জুয়ার সরঞ্জামাদি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ, জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার এবং স্পনসরশিপের ক্ষেত্রেও রাখা হয়েছে কঠোর কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান। এই আইনে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে, বা উভয়দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধগুলোকে ‘আমলযোগ্য’ এবং ‘অজামিনযোগ্য’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যার বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনাল বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।

অপরদিকে, বিদ্যমান আইনের ২০ ধারা বাদ দিতে আইনটিতে সংশোধনী এনে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন-২০২৬’ সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। মূল আইনের ২০ ধারায় এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান ছিল।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের সাইবার স্পেসকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে মূলত এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে ডিজিটাল ও অফলাইন উভয় মাধ্যমের জুয়া এবং বেটিং সংক্রান্ত অপরাধগুলো আরো কঠোর ও সুনির্দিষ্টভাবে প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬’ নামে একটি সম্পূর্ণ নতুন, সুনির্দিষ্ট এবং বিস্তারিত আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। একটি স্বতন্ত্র ও বিশেষায়িত আইন তৈরি হওয়ার কারণেই সাইবার সুরক্ষা আইন থেকে এই ধারাটি বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে একই অপরাধের জন্য একাধিক আইনের ওভারল্যাপিং বা আইনি জটিলতা তৈরি না হয়। বিলটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে সংশোধনীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত মুস্তাফা মনোয়ার

অনলাইন ডেস্ক
বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত মুস্তাফা মনোয়ার

বাংলাদেশ পুতুলনাচ বা পাপেটশিল্পের পুরোধা, বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ারকে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বনানী কবরস্থানে তার শ্বশুর তোফায়েল উদ্দিন আহমেদের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

বরেণ্য এই শিল্পীর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে। জানাজা শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার মরদেহ নেওয়া হয়।

সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাকে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হয়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান মুস্তাফা মনোয়ার। দীর্ঘদিন নিউমোনিয়া ও ক্যান্সারে ভুগছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণা।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সঙ্গে আইসিএমপিডি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সঙ্গে আইসিএমপিডি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও আইসিএমপিডির ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল সেদেফ ডিয়ারিং। ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর মাইগ্রেশন পলিসি ডেভেলপমেন্টের (আইসিএমপিডি) ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল ও ডিরেক্টর অব মাইগ্রেশন ডায়ালগস অ্যান্ড কো-অপারেশন সেদেফ ডিয়ারিং।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরো শক্তিশালী করা, নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, অভিবাসন ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এ সময় বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রশিক্ষণ, শ্রমিকদের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ, নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি, শ্রমিকদের দক্ষতা ও যোগ্যতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং শ্রমিকদের বৈধ ও সুশৃঙ্খল চলাচল বৃদ্ধির লক্ষ্যে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ ছাড়া অভিবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা জোরদার, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বাস্তবমুখী একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

বৈঠকে আইসিএমপিডির চিফ অব স্টাফ রোমেড পারফলার উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সংসদে নতুন আইন পাস

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সংসদে নতুন আইন পাস

জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন এ আইনের মাধ্যমে ১৮৬৭ সালের প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো ‘The Public Gambling Act, 1867’ রহিতকরণ করা হয়েছে। আইনে জুয়া, অনলাইন জুয়া, দূরবর্তী জুয়া, বেটিং (বাজি বা পণ), বাজিকর (Bookmaker), ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট, মিরর সাইট, ভিপিএনসহ মোট ২৪ ধরনের বিষয়কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

নতুন আইনে অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১৪ ধরনের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। 

এর আগে গত ২৩ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটির সুপারিশের পর মঙ্গলবার বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান ‘The Public Gambling Act, 1867’ দেড়শ বছরেরও বেশি পুরোনো আইন এবং বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিনির্ভর জুয়ার ধরন মোকাবিলায় এটি আর যথেষ্ট নয়। সংবিধানের ১৮(২) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে জুয়া নিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০১৮ সালের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে আইনটি যুগোপযোগী করে শাস্তির পরিমাণ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, বর্তমানে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া, ভুয়া সিম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, বায়োমেট্রিক জালিয়াতি, ভিপিএন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সংঘটিত জুয়া, অর্থপাচার ও প্রতারণা দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জননিরাপত্তা এবং তরুণ সমাজের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রের নৈতিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় আধুনিক ও সমন্বিত আইন প্রণয়ন প্রয়োজন হওয়ায় নতুন আইনটি আনা হয়েছে।