• ই-পেপার

দুর্যোগের আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে : ভূমিমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক সই

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক সই
ছবি : পিএমও

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে বেইজিংয়ের ঐতিহ্যবাহী 'গ্রেট হল অব দ্য পিপল'-এ এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় (বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টা) বৈঠকটি শুরু হয়ে শেষ হয় বিকেল পৌনে ৬টায়। বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থনৈতিক ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বৈঠকের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এর আগে জানিয়েছিলেন, দুই নেতার আলোচনায় বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থান পাবে।

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লেও কমতে পারে ভাতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লেও কমতে পারে ভাতা

সরকারি চাকরিজীবিদের নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। নতুন বেতন কাঠামোয় মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। তবে ব্যয় কমাতে কর্মচারীদের ভাতায় কাটাছেঁড়া করতে পারে সরকার।

গতকাল বুধবার সচিব কমিটির উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে নবম পে স্কেলের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় বৈঠকে ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের নীতিগত সিদ্ধান্ত ধরে এর আর্থিক প্রভাব, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় হয়।

এদিকে সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ভাতা পুনর্মূল্যায়ন, সীমিতকরণের আভাস পাওয়া গেছে। বাতিলও হতে পারে ছোট ছোট কিছু ভাতা।

সভা সূত্র জানায়, মূল বেতন বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন ভাতার পরিমাণও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেড়ে যাওয়ায় এসব ভাতা যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বাড়িভাড়া ভাতার হার পুনর্বিবেচনার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

বর্তমানে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, শিক্ষা সহায়ক, উৎসব, বৈশাখী, টিফিন, ধোলাই এবং বিশেষ ভাতাসহ বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে বাড়িভাড়া অঞ্চলভেদে মূল বেতনের ৪৫ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে। ফলে মূল বেতন বাড়লে এই ভাতার পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে সরকারি ব্যয়ের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে। সে কারণে বাড়িভাড়া ভাতার শতাংশ কিছুটা কমিয়ে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আনার প্রস্তাব আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসা, শিক্ষা সহায়ক ও যাতায়াত ভাতার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সিলিং বা সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। বৈঠকে এমন কিছু ভাতার বিষয়ও উঠে আসে, যেগুলোর কার্যকারিতা বর্তমানে কমে গেছে।

দিনাজপুরে প্রায় ১১ কোটি টাকার মাদক ও চোরাচালান পণ্য ধ্বংস

নিজস্ব প্রতিবেদক
দিনাজপুরে প্রায় ১১ কোটি টাকার মাদক ও চোরাচালান পণ্য ধ্বংস
সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে দিনাজপুরে প্রায় ১০ কোটি ৮২ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান পণ্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে দিনাজপুর সেক্টর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব মাদক ও চোরাচালান পণ্য ধ্বংস করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর সেক্টরের আওতাধীন জয়পুরহাট, ফুলবাড়ী ও দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ২০২৩ সাল থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে এসব মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়।

ধ্বংস করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে ছিল ১৩ হাজার ১৯০ বোতল ফেনসিডিল, ২ লাখ ৪৮ হাজার ৫৯টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫১৬ দশমিক ৭৫ কেজি গাঁজা এবং ১ লাখ ৫ হাজার ৭৪৬ লিটার মদ। এ ছাড়া ৫ লাখ ৩৪ হাজার ১১৭টি বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান পণ্যও ধ্বংস করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মাদক একটি নীরব ঘাতক। এটি সমাজের তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

বিজিবি রংপুর রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম নাছের বলেন, ‘মাদক শুধু একটি অবৈধ দ্রব্য নয়, এটি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য ভয়াবহ অভিশাপ। সীমান্ত দিয়ে মাদকের অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি সর্বদা সজাগ রয়েছে এবং মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

অনুষ্ঠানে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে অতিথিরা আনুষ্ঠানিকভাবে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান পণ্য ধ্বংস কার্যক্রমে অংশ নেন।

সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

বাংলাদেশ ফর্মুলা স্টুডেন্ট অ্যান্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং সামিট অনুষ্ঠিত

অনলাইন প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ফর্মুলা স্টুডেন্ট অ্যান্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং সামিট অনুষ্ঠিত

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ফর্মুলা স্টুডেন্ট অ্যান্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং সামিট ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আয়োজনে প্রায় ২ হাজার ৫০০-এর বেশি অতিথি ও দর্শনার্থী অংশগ্রহণ করেন।

বৃহস্পতিবার (২৫জুন) মিরপুর সেনানিবাসস্থ মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি) প্রাঙ্গণে তা অনুষ্ঠিত হয়। তা এমআইএসটির শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত স্টুডেন্ট ফর্মুলা দল এমআইএসটি ব্লিটজ ও বাংলাদেশ ফর্মুলা স্টুডেন্ট কমিউনিটির একটি যৌথ উদ্যোগ। 

ইভেন্টটি বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পর্যায়ের ইভেন্ট, যেখানে শিক্ষার্থী, প্রকৌশলী, অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রি প্রফেশনাল এবং পলিসিমেকাররা একত্রিত হন। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশের অটোমোবাইল কমিউনিটির বন্ধন আরো মজবুত করবে বলে আশা করা যায়। 

শিক্ষার্থী, প্রকৌশলী, গবেষক, অটোমোবাইল শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও নীতিনির্ধারকদের একই মঞ্চে নিয়ে এসে দেশের অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের বিকাশ ত্বরান্বিত করা এবং একাডেমিয়া ও শিল্পের মধ্যে টেকসই সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলাই এই সামিটের মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান। অনুষ্ঠানটির আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ছিলেন এমআইএসটির মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগীয় প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞদের পরিচালনায় অটোমোটিভ ও ফর্মুলা স্টুডেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর টেকনিক্যাল সেশন এবং দেশের অটোমোটিভ ও ওইএম খাতের উন্নয়ন সংক্রান্ত ফর্মুলা স্টুডেন্ট কমিউনিটি, ইন্ডাস্ট্রি প্রফেশনাল ও কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিশেষভাবে ফর্মুলা ফিউচার বিজনেস কেস প্রতিযোগিতা, আইসি ইঞ্জিন মাস্টারক্লাস ও কুইজ, ফর্মুলা স্টুডেন্ট কনসেপ্ট কার চ্যালেঞ্জ, ক্যাড ডিজাইন প্রতিযোগিতা এবং পোস্টার প্রেজেন্টেশন আয়োজন করা হয়।

এ ছাড়া দর্শনার্থীদের জন্যে ইভেন্টে আকর্ষণ হিসেবে ছিল কার শো, গো-কার্ট রেসিং, সিমুলেটর রেসিং। এর মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ ছিল 'কার শো', যেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তৈরি ফর্মুলা স্টুডেন্ট রেসিং কারের পাশাপাশি স্বনামধন্য ব্র্যান্ড ও সংগ্রাহকদের হাই-পারফরম্যান্স গাড়ি প্রদর্শিত হয়।

মূল আয়োজনের পূর্বে ‘ট্র্যাকটক ২০২৬’ শীর্ষক একটি অনলাইন ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ফর্মুলা স্টুডেন্ট, ফর্মুলা ওয়ান ও হাই-পারফরম্যান্স গাড়ি উন্নয়নে অভিজ্ঞ দেশি-বিদেশি অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রি প্রফেশনালরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।

এমআইএসটি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই ইভেন্ট বাংলাদেশের অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে এবং বাংলাদেশে ফর্মুলা স্টুডেন্ট প্রতিযোগিতাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।