• ই-পেপার

মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলেন এমপি মাসুদ

সংসদে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

বেকারত্ব হ্রাসে ৫ বছর মেয়াদি কর্মকৌশল প্রণয়ন করেছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
বেকারত্ব হ্রাসে ৫ বছর মেয়াদি কর্মকৌশল প্রণয়ন করেছে সরকার
সংগৃহীত ছবি

দেশের শিক্ষিত ও দক্ষ বেকার যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব হ্রাসে সরকার ৫ বছর মেয়াদি কর্মকৌশল প্রণয়ন করেছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ২০২৬-২০৩০ মেয়াদে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় হতে ‘সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন পরিকল্পনায়’ স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি এই কর্মকৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

সরকারি দলের সদস্য মো. শাহাদাত হোসেন সেলিমের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী জানান, বিদেশে কর্মী প্রেরণ বা শ্রমবাজার সম্প্রসারণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রবাস খাতে বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্য। অধিকাংশ প্রবাসী মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানে কর্মরত। তবে বর্তমানে ইরান, লেবানন, সিরিয়াসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে কর্মী পাঠানো কিছুটা কমেছে। এ পরিস্থিতিতে শ্রমবাজার সুসংহতকরণ, সম্প্রসারণ ও বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধানে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরিফুল হক জানান, বাংলাদেশ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেকর্ড ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় অর্জন করেছে। দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে প্রবাসীদের এই অসামান্য অবদান আবারও প্রমাণিত হলো।

মন্ত্রী জানান, একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পেয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। বিদায়ী অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসীরা ৪ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন, যা দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

রেমিট্যান্স আহরণে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সৌদি আরব থেকে এসেছে ৪ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার এবং তৃতীয় অবস্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে এসেছে ৪ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার। এই শীর্ষ তিন দেশ সম্মিলিতভাবে ১৩ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে, যা মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী জানান, দেশের অর্থনীতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের শ্রমবাজারের একচ্ছত্র আধিপত্য আবারও সামনে এসেছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইন—এই ছয়টি দেশ থেকে সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৩ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার এসেছে, যা মোট রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রায় ৪৫ শতাংশ।

পাশাপাশি ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যেও রেমিট্যান্সের গতি বেশ ভালো ছিল বলে জানান তিনি। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ইতালি, যেখান থেকে এসেছে ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া ফ্রান্স থেকে ৩৩৫ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন ডলার, গ্রিস থেকে ১৮৫ দশমিক ২১ মিলিয়ন ডলার, জার্মানি থেকে ১৮০ দশমিক ৬২ মিলিয়ন এবং পর্তুগাল থেকে এসেছে ১০২ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন ডলার।

প্রচলিত শ্রমবাজারের বাইরে অন্য দেশগুলো থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রেমিট্যান্স এসেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, বিদায়ী অর্থবছরে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ২২৭ দশমিক ০৪ মিলিয়ন ডলার, কানাডা থেকে ২২৩ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন ডলার, অস্ট্রেলিয়া থেকে ১৭৭ দশমিক ০৯ মিলিয়ন ডলার এবং জর্ডান থেকে ১৬৮ দশমিক ১৭ মিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

জাহেদ উর রহমানের ভ্রমণ প্রসঙ্গে যা জানাল ভারতের পররাষ্ট্র মুখপাত্র

অনলাইন ডেস্ক
জাহেদ উর রহমানের ভ্রমণ প্রসঙ্গে যা জানাল ভারতের পররাষ্ট্র মুখপাত্র
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান একটি সম্মেলনে যোগ দিতে গত ১৪ জুন ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যান। সেখানে তাকে ইমিগ্রেশনের বাধার মুখে পড়তে হয়। দীর্ঘ সময় দিল্লি বিমানবন্দরে বসে থাকার পর শেষ পর্যন্ত ১৫ জুন দুপুরে ঢাকায় ফিরে আসেন তিনি। এ ঘটনায় অবশেষে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বক্তব্য স্পষ্ট করেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল জানান, জাহেদ উর রহমান তার ব্যক্তিগত বেসরকারি (প্রাইভেট) পাসপোর্ট নিয়ে দিল্লিতে এসেছিলেন। তার সার্ক ভিসা ছিল।ইমিগ্রেশনে জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায় তিনি একটি সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছেন এবং তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। যদিও তিনি বৈঠকে যোগ না দিয়ে ঢাকা ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

জাহেদ উর রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিষয় উপদেষ্টা এবং তার পদমর্যাদা প্রতিমন্ত্রীর সমান। গত ১৪ (রবিবার) জুন একটি সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লিতে গেলেও ইমিগ্রেশনের বাধার মুখে পড়েন তিনি।

পরে দিল্লি বিমানবন্দরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তাকে বসে থাকতে হয়। যদিও বাংলাদেশ হাইকমিশনসহ নানা পক্ষের তৎপরতায় তাকে শেষ পর্যন্ত দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

এ ঘটনায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনারকে ডেকে প্রতিবাদপত্র দেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আন্তর্জাতিক নারী সংগঠন প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

অনলাইন ডেস্ক
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আন্তর্জাতিক নারী সংগঠন প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আন্তর্জাতিক নারী সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইনার হুইলের প্রেসিডেন্ট কে মোরল্যান্ড। 

আজ মঙ্গলবার বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত সাক্ষাতে ইনার হুইল ডিস্ট্রিক্ট-৩৪৫-এর চেয়ারম্যান মুশায়লা করিম, সাবেক বোর্ড ডিরেক্টর দিলরুবা আহমেদ, ওয়েবমাস্টার শারমিন হোসেন এবং ভাইস চেয়ারম্যান শিরিন আক্তার উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং জানায়, এ সময় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া নারী এবং শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুরক্ষা, অধিকার প্রতিষ্ঠা ও জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রপ্রধান দেশে-বিদেশে সংগঠনটির সদস্যদের পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বৃহত্তর পরিসরে সংগঠনটি সামাজিক উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নারী ও শিশু কল্যাণে তাদের কার্যক্রম আরো সম্প্রসারিত করবে।

প্রতিনিধিদলের সদস্যরা রাষ্ট্রপতির মূল্যবান দিক-নির্দেশনা ও উৎসাহব্যঞ্জক বক্তব্যের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা ভবিষ্যতেও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আরো সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইওর সাক্ষাৎ

অনলাইন ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইওর সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি। মঙ্গলবার (২৩ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় চীনের দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে আলোইস জভিংগি সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের মতো অন্যান্য ডেল্টা রাষ্ট্র এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর সহযোগিতায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে ২৫০ মিলিয়ন বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

তিনি আরো জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে উৎসাহ প্রদানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কর-সুবিধা প্রদান করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

আলোইস জভিংগি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগকে বৈশ্বিক পরিসরে কাজে লাগানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আলোইস জভিংগি বলেন, বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরি করবে।

তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

আলোইস জভিংগি প্রধানমন্ত্রীকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।