• ই-পেপার

মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী

সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে জানিয়ে নোটিশ

অনলাইন ডেস্ক
সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে জানিয়ে নোটিশ
সংগৃহীত ছবি

জাতীয় সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্তরে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়ার মতো অবকাঠামোগত ত্রুটি তৈরি হয়েছে। দেশের এই সর্বোচ্চ আইন প্রণয়ন কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংসদে একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাশেদ সংসদের বৈঠকে এই নোটিশটি উত্থাপন করেন।

সোমবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ১২তম দিনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর সভাপতিত্বে নোটিশটি উপস্থাপন করেন রাশেদুল ইসলাম রাশেদ।

সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাশেদ তার নোটিশে ভবনের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান। স্পিকার এই নোটিশটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরকে অনুরোধ জানান। তবে নোটিশটি সংসদ সচিবালয় সংক্রান্ত হওয়ায় বিধি অনুযায়ী সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি। 

এদিকে দিনের কার্যসূচির শুরুতে জামায়াতের অপর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান একটি নোটিশের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের পরিচিতির বিষয়ে আরেকটি দাবি তোলেন। তিনি বলেন, সংসদের চার মাস পার হতে চললেও এখনো অনেক সংসদ সদস্যের সঙ্গে সবার পরিচয় ঘটেনি। টেলিভিশন স্ক্রিনে সংসদীয় কার্যক্রম সম্প্রচারের সময় শুধু চেহারা দেখা যায় এবং বক্তব্য শোনা যায়, কিন্তু সংশ্লিষ্ট সদস্যের নাম বা নির্বাচনী এলাকা জানা যায় না। স্ক্রিনে নাম ও এলাকার নাম ভেসে উঠলে সবার জন্য পরিচিত হওয়া সহজ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্পিকার মুজিবুর রহমানের এই দাবিকে অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত আখ্যা দিয়ে সংসদ সচিবালয়কে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। এখন থেকে সংসদ সদস্যরা যখন বক্তব্য দেবেন, তখন টেলিভিশন স্ক্রিনে তাদের নাম ও নির্বাচনী এলাকা দেখানোর ব্যবস্থা করা হবে। তবে এই বিষয়টি বিশেষ অধিকারের আওতাভুক্ত না হওয়ায় এই নোটিশটিও আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি।

মসজিদে রাজনীতি বন্ধ করতে হবে : রেজা আহাম্মেদ

অনলাইন ডেস্ক
মসজিদে রাজনীতি বন্ধ করতে হবে : রেজা আহাম্মেদ
সংগৃহীত ছবি

দেশে মসজিদ-মাদরাসায় সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মিটিং বন্ধে আইন পাস করার দাবি তুলেছেন কুষ্টিয়া-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ। তিনি বলেন, ‘মসজিদ আল্লাহর ঘর, সেখানে মানুষ নামাজ ও কোরআন শরিফ পড়বে। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল মসজিদে গিয়ে রাজনীতি করছে। তাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ, আইন পাস করে মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক মিটিং নিষিদ্ধ করা হোক।’

সোমবার (২২ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১২তম দিনে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি জানান। বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদের এই অধিবেশন শুরু হয়। 

রেজা আহাম্মেদ বলেন, ‘আমি একটি রাজনৈতিক কথা বলতে চাই। আমার দেশে মসজিদের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। মসজিদ আল্লাহর ঘর, মসজিদে মানুষ নামাজ পড়বে, মসজিদে কোরআন শরিফ পড়বে। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল মসজিদে গিয়ে রাজনীতি করে। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করব আইন পাস করার জন্য, যাতে কোনো মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক মিটিং করা না যায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যেমন প্রকাশ্যে ফুটবল মাঠে, হাই স্কুলে কিংবা কোনো হলরুমে বিএনপি বা অন্য রাজনৈতিক দলগুলো কর্মিসভা ও জনসভা করে মিটিং করি, তাদেরকেও সেই ব্যবস্থা করতে হবে। তারা মসজিদে মিটিং করতে পারবে না। আমার এই বক্তব্যের সঙ্গে সবাই একমত কি-না, তা আমি জানি না।’

বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সভাপতি কাইয়ুম, মহাসচিব লুৎফর

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সভাপতি কাইয়ুম, মহাসচিব লুৎফর
বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সভাপতি কাইয়ুম, মহাসচিব লুৎফর

বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের ত্রিবার্ষিক নির্বাচন ২০ জুন ২০২৬ ঢাকার রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত আইজিপি ও সাবেক সচিব মো. আবদুল কাইয়ুম এবং মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিয়া লুৎফর রহমান চৌধুরী।

সহসভাপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি মো. আব্দুল মান্নান, মো. আবদুর রহমান খান (পিপিএম) এবং মো. মোখলেছুর রহমান।

কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আব্দুল কুদ্দুস খান (পিপিএম), যুগ্ম মহাসচিব পদে মো. সিরাজুল ইসলাম ও মো. বক্তিয়ার হোসেন ভূঞা (পিপিএম), দপ্তর সম্পাদক পদে কাজী শাহাবুদ্দিন আহম্মদ, লাইব্রেরি ও ডরমিটরি সম্পাদক পদে জনাব নাসির উদ্দিন খান (পিপিএম) এবং সহকারী কোষাধ্যক্ষ পদে মো. জাহিদ আলম বিশ্বাস।

এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্যের ১১টি পদে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় একই দিনে ঢাকাসহ সমিতির ১৯টি শাখায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সদস্যরা হলেন মো. ওবায়দুর রহমান খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মালেক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুল ফাত্তাহ খান, সেতারা বেগম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইন্তেজার রহমান (পিপিএম), মো. আমীর আলী, মো. আবদুস সামাদ, মো. জাফর উল্লাহ, মো. সিরাজুল ইসলাম (পিপিএম-বার), মো. আমিনুল ইসলাম সরকার এবং মো. আলী হায়দার মিয়া।

নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা রবিবার (২১ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে বৈষম্য করা হয়েছে : বিরোধীদলীয় এমপি

অনলাইন ডেস্ক
প্রস্তাবিত বাজেটে বৈষম্য করা হয়েছে : বিরোধীদলীয় এমপি
সংগৃহীত ছবি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে সম্পূর্ণ ‘অবাস্তব ও বাস্তবায়ন অযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) ব্যারিস্টার মাহবুব আলম। তিনি বলেছেন, ‘এই বাজেটে সম্পদের সুষম বণ্টন হয়নি, বরং বৈষম্য চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নকে এই বাজেটে চরমভাবে অবহেলা করা হয়েছে।’

সোমবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বাজেট বক্তৃতায় ব্যারিস্টার মাহবুব আলম বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী তার বক্তৃতায় সম্পদের অসম বণ্টন, সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতির কারণে অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টির কথা স্বীকার করেছেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য। এত সুন্দর বাস্তবধর্মী একটি বিষয় চিহ্নিত করার পরও কিভাবে এই বাজেটে দুর্নীতি বন্ধ হবে, সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ৩০০ আসনে সম্পদের সুষম বণ্টন হবে, সে ব্যাপারে কোনো দিকনির্দেশনা বা কৌশল দেওয়া হয়নি।’

বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে স্পষ্ট বৈষম্য রয়েছে উল্লেখ করেন এই সংসদ সদস্য। 

গত চার মাসের বাজেট বাস্তবায়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারি দলের সদস্যদের জন্য যে বাজেট দেওয়া হয়েছে বিরোধী দলের সদস্যদের তা দেওয়া হয়নি।

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘বগুড়ার শিবগঞ্জে ১৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু গাজীপুরে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তার চেয়ে ৯০ শতাংশ বেশি। ১ ও ২ নম্বর আসনের মধ্যে যদি বরাদ্দের পার্থক্য ৯০ ভাগ হয়, তবে আমরা বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা কোথায় কোন বাজেট পাব?’

এ সময় সম্পদের সুষম বণ্টনের দাবি জানিয়ে স্পিকারের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, বাজেটের ৩ লাখ কোটি টাকা যেন ৩০০টি সংসদীয় আসনে সমানভাবে ভাগ করা হয়। প্রতিটি আসনে যেন ১ হাজার কোটি টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তার একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনা চাই। আমরা যেন এই প্রটেকশনটি পাই।

প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘বৈষম্যের দলিল’ আখ্যা দিয়ে মাহবুব আলম বলেন, ‘এই বাজেটে উত্তরবঙ্গকে পুরোপুরি বঞ্চিত করা হয়েছে। বহুল কাঙ্ক্ষিত তিস্তা প্রজেক্ট, কুড়িগ্রাম ইপিজেড এবং কুড়িগ্রামে একটি মেডিকেল কলেজের কথা বলা হলেও বাজেটে এর কোনোটির জন্যই বরাদ্দ নেই। উত্তরবঙ্গের কৃষির জন্যও পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হয়নি। আমার নির্বাচনী এলাকার ৭১ ভাগ রাস্তাই এখনো কাঁচা, এগুলো পাকা হওয়ার কোনো নিশ্চয়তা এই বাজেটে নেই।’

এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাকে সম্পূর্ণ অবাস্তব উল্লেখ করে এই এমপি বলেন, ‘নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ওপর করের বোঝা চাপানো হয়েছে। গত বছর যার আয় ৬ লাখ টাকা ছিল, তাকে ছাড় দিয়ে সাড়ে ১২ হাজার টাকা কর দিতে হতো। এবার তা বাড়িয়ে সাড়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ ১০ হাজার টাকা বেশি কর দিতে হবে। এ ছাড়া ছোট ছোট ব্যবসার টার্নওভারের ওপর ১ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছে। এই কর দিলে ছোট ব্যবসা চালানো সম্ভব হবে না।’

গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তার বক্তব্য শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ হাস্যরস করে বলেন, ‘ধন্যবাদ মাননীয় সদস্য। আপনি অনেক ক্ষেত্রেই বলেছেন বাজেট নাই। ভোলা-বরিশাল সেতুর জন্যও তো বাজেট নাই!’