• ই-পেপার

ঢাকার বায়ুদূষণ মাঝারি মানের, শীর্ষে সান্তিয়াগো

এনজিও বিষয়ক ব্যুরো অফিসকে তামাকমুক্ত ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
এনজিও বিষয়ক ব্যুরো অফিসকে তামাকমুক্ত ঘোষণা
ছবি: কালের কণ্ঠ

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অধূমপায়ীদের রক্ষায় এনজিও বিষয়ক ব্যুরো কার্যালয়কে সম্পূর্ণ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এখন থেকে কার্যালয় প্রাঙ্গণে তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার, ক্রয়-বিক্রয় ও প্রচার নিষিদ্ধ থাকবে।

বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীতে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সভাকক্ষে আয়োজিত ‘টেকসই তামাক নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগ: এনজিও বিষয়ক ব্যুরো অফিস প্রাঙ্গনকে তামাকমুক্ত ঘোষণা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।

অনুষ্ঠানে ড. মোহাম্মদ জকরিয়া বলেন, ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব শুধু ধূমপায়ীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর কারণে অধূমপায়ীরাও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন। তাই কর্মক্ষেত্রে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন ২০২৬ অনুযায়ী পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিষিদ্ধ। সেই বিবেচনায় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা গ্রহণকারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যুরো এই উদ্যোগ নিয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরামের আহ্বায়ক শিবানী ভট্টাচার্য বলেন, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর এ উদ্যোগ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তামাক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ব্যুরোর আওতাধীন বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাও পর্যায়ক্রমে তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবে।

তামাকবিরোধী শিক্ষক ফোরামের সহআহ্বায়ক তনুশ্রী হালদার বলেন, এ সিদ্ধান্ত দেশের অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুসরণীয় উদাহরণ হতে পারে। এর মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমও আরও শক্তিশালী হবে।

সভাপতির বক্তব্যে নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলি বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে ঘোষণার পাশাপাশি এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাও জরুরি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক (যুগ্মসচিব) ব্যারিস্টার মো. খলিলুর রহমান খান, এনডিসিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং তামাকবিরোধী মায়েদের, শিক্ষক ও যুব ফোরামের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংসদে কথা বলছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি : সংগৃহীত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেছেন, মায়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, আন্তঃসীমান্ত বিভিন্ন অপরাধ দমনের লক্ষ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে এসব উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। 

এ সময় তিনি জানান, ভারতের সঙ্গে সীমান্তের স্পর্শকাতর স্থানেও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম বিবেচনাধীন রয়েছে।

প্রশ্নোত্তরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে এবং সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ফেন্সিডিলসহ সব ধরনের মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রবেশ বন্ধে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার মোতাবেক ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বিজিবি।’ সেইসঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে সীমান্ত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে বলেও জানান জানান মন্ত্রী।

এ ছাড়া দুর্গম ও স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকাগুলোতে নতুন বিওপি ও টিওবি নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরো নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নতুন বিওপি ও টিওবি নির্মাণের ফলে বিজিবির বিওপিসমূহের মধ্যবর্তী দূরত্ব কমিয়ে আনা এবং টহলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। সেগুলো হলো :

* দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের অতি সংবেদনশীল এলাকায় ইতিমধ্যে ‘স্মার্ট বর্ডার সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম’ স্থাপন করা হয়েছে।

* দুর্গম পার্বত্য সীমান্তে সীমান্ত সড়ক নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে, যার ফলে বিজিবির টহল দল অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে যেকোনো সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সক্ষম হচ্ছে।

* সীমান্ত এলাকায় বসবাসরতদের চোরাচালান ও অপরাধের কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে এবং অপরাধীদের তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহায়তার জন্য নিয়মিত ‘জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম’ পরিচালনা করা হচ্ছে।

ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ সংসদে, পরে এক্সপাঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ সংসদে, পরে এক্সপাঞ্জ
ফাইল ছবি

ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে এক নারীর ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনা নিয়ে জাতীয় সংসদে ব্যাপক হইচই ও বিতর্ক হয়েছে। সরকারি দলের এক সংসদ সদস্যের বক্তব্যের পর অন্য এক সংসদ সদস্যের আপত্তির মুখে তা সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়া হয়। তবে পরে ওই সংসদ সদস্য ধর্ষণের ঘটনার সুনির্দিষ্ট মামলার তথ্য সংসদে উপস্থাপন করেন।

বুধবার (১৭ জুন) সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা এবং পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনা চলাকালে এই চিত্র উঠে আসে।

বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দিন খান বলেন, ‘৪১ লাখ ফ্যামিলিকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এটা হিসাব করলে ওয়ার্ডপিছু ৯০টি করে পরিবার পাবে। তাহলে বাকি যে দরিদ্র ফ্যামিলিগুলো আছে, তাদের অবস্থাটা কী হবে?’

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে মাঠপর্যায়ের অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার প্রতিযোগিতার কারণে আমরা সংবাদপত্রগুলোতে ইতিমধ্যে দেখেছি—ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে টাকা নেওয়া হচ্ছে।’

তাজউদ্দিন খানের এই বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তীব্র আপত্তি জানান নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এম মাহবুবউদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্য বলেছেন ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। এটা দুঃখজনক ব্যাপার। সংসদে এভাবে কথা বলা উচিত না। সংসদের ভাষা জানতে হবে, সেভাবে বলতে হবে।’ তিনি এই বক্তব্যটি কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান।

সংসদ সদস্যের দাবির প্রেক্ষিতে অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী ডেপুটি স্পিকার মেহেরপুরের এমপির ওই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার ঘোষণা দেন।

ডেপুটি স্পিকারের এই ঘোষণার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এর প্রতিবাদ জানান সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘এক্সপাঞ্জ তো হবে যদি অসত্য তথ্য দিয়ে থাকেন অথবা অসংসদীয় শব্দ যদি ব্যবহার করে থাকেন। আমার ধারণা উনি এ ধরনের (অসংসদীয়) কথা বলেননি। কাজেই উনাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হোক।’

সহকর্মীর এই প্রতিবাদের পর ডেপুটি স্পিকার মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দিন খানকে পুনরায় কথা বলার সুযোগ দেন। তখন তাজউদ্দিন খান তার বক্তব্যের সপক্ষে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও মামলার বিবরণ তুলে ধরেন।

তিনি সংসদে বলেন, ‘আমার কাছে যে তথ্য ছিল, তা সময়ের অভাবে আগে দিতে পারিনি। ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল ফরিদপুরের সোনাগাজী থানায় ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগের একটি মামলা হয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে। ওসি এর প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছেন বলে এটি প্রমাণিত হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৫ এপ্রিল রংপুর মিঠাপুকুর উপজেলার ভাঙা ইউনিয়ন পরিষদের বিএনপির সহসম্পাদক এনামুল হককে (অভিযোগের) প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কারণে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

দুই সংসদ সদস্যের এই যুক্তি-তর্ক ও তথ্যের পর ডেপুটি স্পিকার বলেন, ফ্যামিলি কার্ড যে প্রজেক্ট, সেটি শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী বা এই সরকারের না; এটি সারা দেশের মানুষের একটা আকাঙ্ক্ষিত বিষয়।

পানি-স্যানিটেশনে বাজেট বাড়লেও বঞ্চিত হাওর-চরাঞ্চল

সেবা ঘাটতি গ্রামে, অর্থ যায় শহরে

নিজস্ব প্রতিবেদক
পানি-স্যানিটেশনে বাজেট বাড়লেও বঞ্চিত হাওর-চরাঞ্চল
ছবি: কালের কণ্ঠ

পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) খাতে আগামী অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেট বেড়েছে। টানা তিন বছর নিম্নমুখী থাকার পর ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৩ হাজার ৬১৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে বরাদ্দ বৃদ্ধির এই ইতিবাচক চিত্রের মধ্যেও পুরনো একটি প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে— যেখানে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধার ঘাটতি সবচেয়ে বেশি, সেই গ্রামীণ, হাওর, চর ও উপকূলীয় এলাকাগুলো কি পর্যাপ্ত গুরুত্ব পাচ্ছে?

পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ওয়াটারএইড বাংলাদেশের যৌথ বাজেট বিশ্লেষণ বলছে, বাস্তবতা এখনো উল্টো। ওয়াশ খাতে মোট এডিপি বরাদ্দের প্রায় ৭২ শতাংশই যাচ্ছে শহরাঞ্চলে। এর বড় অংশ ব্যয় হবে ওয়াসাভিত্তিক বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পে।

  • বাড়লেও আগের শীর্ষ অবস্থান থেকে অনেক দূরে

২০২২-২৩ অর্থবছরে ওয়াশ খাতে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ২২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। এরপর টানা তিন বছর বরাদ্দ কমেছে। সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এবার বরাদ্দ বেড়ে ১৩ হাজার ৬১৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। গত অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার ৯০১ কোটি টাকা।

তবে গবেষণা সংস্থাগুলোর মতে, জাতীয় বাজেট ও মোট এডিপির তুলনায় ওয়াশ খাতের অংশীদারি খুব বেশি বাড়েনি। ফলে বরাদ্দ বৃদ্ধির সুফল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে কতটা পৌঁছাবে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।

  • ওয়াসার ঝুলিতে অর্ধেকের কাছাকাছি অর্থ

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চারটি ওয়াসা মিলে পেয়েছে ৬ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা, যা মোট ওয়াশ বরাদ্দের প্রায় অর্ধেক। শুধু ঢাকা ওয়াসার জন্যই বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫ হাজার ১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ পুরো ওয়াশ এডিপি বরাদ্দের প্রায় ৩৭ শতাংশ যাচ্ছে একটি সংস্থার কাছে।

গবেষকরা বলেন, এসব অর্থের বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে চলমান বৃহৎ প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি, ব্যয় বৃদ্ধি এবং সেবার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

  • গ্রামীণ সেবার প্রধান প্রতিষ্ঠানটির বরাদ্দ কমেছে

অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকায় নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণের দায়িত্বে থাকা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংস্থাটির বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার ৪২৮ কোটি টাকার বেশি। আগামী অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪০৮ কোটি টাকায়। এক বছরের ব্যবধানে বরাদ্দ কমেছে প্রায় ১ হাজার ২০ কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ পানি সরবরাহ, জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ডিপিএইচইর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই বরাদ্দ কমে যাওয়া উদ্বেগের বিষয়।

  • নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন থেকে বঞ্চিত লাখো মানুষ

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের এমআইসিএস ২০২৫ জরিপ অনুযায়ী, দেশের ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ এখনো নিরাপদ খাবার পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত। একই সঙ্গে ৬০ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ নিরাপদভাবে ব্যবস্থাপিত স্যানিটেশন সুবিধার বাইরে রয়েছে।

এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি সেবা ঘাটতি থাকা এলাকাগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন গবেষকেরা।

  • পার্বত্য এলাকায় বরাদ্দ বেড়েছে, অদৃশ্য হাওর-চর

দুর্গম অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ বিশ্লেষণে বৈপরীত্য দেখা গেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের বরাদ্দ ২০৬ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

তবে হাওর অঞ্চলের জন্য কোনো পৃথক বরাদ্দ চোখে পড়েনি। একইভাবে চরাঞ্চলের জন্যও নির্দিষ্ট অর্থায়নের চিহ্ন নেই। উপকূলীয় এলাকার জন্য বরাদ্দও কমেছে, যদিও লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সেখানে ক্রমেই বাড়ছে।

ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীগুলোর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ এখনো নিশ্চিত হয়নি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি

তবে পুরো চিত্রই নেতিবাচক নয়। জলবায়ু অভিযোজন ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে বরাদ্দ বেড়ে ৩ হাজার ১৪৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

ফিক্যাল স্লাজ ম্যানেজমেন্ট (এফএসএম) খাতে বরাদ্দ ১ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। সক্ষমতা উন্নয়ন খাতেও বরাদ্দ বেড়ে ১ হাজার ৩৩৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

গবেষণা সংস্থাগুলোর মতে, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এসব উপখাতে বিনিয়োগ বাড়ানো ইতিবাচক উদ্যোগ।

  • হাইজিন খাত এখনো আড়ালে

ওয়াশের তিনটি প্রধান উপাদানের একটি হলো হাইজিন বা স্বাস্থ্যসম্মত আচরণ। কিন্তু বাজেটে এটি এখনো পৃথক খাত হিসেবে দৃশ্যমান নয়।

ফলে হাইজিন উন্নয়ন, আচরণ পরিবর্তন এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে কত অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তার স্পষ্ট হিসাব পাওয়া যায় না। এ কারণে পৃথক ও ট্র্যাকযোগ্য বাজেট লাইন চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

  • চ্যালেঞ্জ এখন বাস্তবায়নে

ওয়াটারএইড বাংলাদেশের পলিসি অ্যাডভোকেসি প্রধান অ্যাডভোকেট ফাইয়াজউদ্দিন আহমদ বলেন, নিরাপদ পানি ও নিরাপদভাবে ব্যবস্থাপিত স্যানিটেশন থেকে এখনো প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী বঞ্চিত। এখন মূল চ্যালেঞ্জ নীতিমালা প্রণয়ন নয়, বরং সেগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করে মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া।

পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, সেই অর্থ কতটা কার্যকরভাবে ব্যয় হচ্ছে এবং তার জবাবদিহিতা কতটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা প্রকল্প ও পরিচালনা-রক্ষণাবেক্ষণের দুর্বলতাও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।

  • সমতাভিত্তিক বিনিয়োগের তাগিদ

নেটওয়ার্ক অব ওয়াশ নেটওয়ার্কসের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে গ্রামীণ ওয়াশ অর্থায়ন বৃদ্ধি, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জন্য পৃথক অর্থায়ন ব্যবস্থা, বর্জ্য পানি ও ফিক্যাল স্লাজ ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ বাড়ানো, দরিদ্র পরিবারের জন্য ওয়াশ ভাতা চালু এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক ও আইনগতভাবে শক্তিশালী করা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বরাদ্দ বৃদ্ধি অবশ্যই ইতিবাচক। তবে সেবা বঞ্চনা, জলবায়ু ঝুঁকি ও আঞ্চলিক বৈষম্যের বাস্তবতা বিবেচনায় না নিলে বাড়তি অর্থও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারবে না। ওয়াশ খাতের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে বরাদ্দের অঙ্কের চেয়ে সেই অর্থ কতটা ন্যায়সঙ্গত ও কার্যকরভাবে ব্যয় হচ্ছে, তার ওপর।