• ই-পেপার

বিসিপিএসের সভাপতি হলেন ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর

স্বাস্থ্য বাজেট ২০২৬-২৭

ব্যক্তির চিকিৎসা ব্যয় কমাতে কৌশলী বিনিয়োগের তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্যক্তির চিকিৎসা ব্যয় কমাতে কৌশলী বিনিয়োগের তাগিদ
ছবি: কালের কণ্ঠ

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও জনগণের চিকিৎসা ব্যয় কমানো, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাজেটের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ ও চিকিৎসকেরা। তারা বলছেন, শুধু বড় বাজেট ঘোষণা করলেই হবে না, বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিক খাতে, সঠিক সময়ে ও কার্যকরভাবে ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে রাজধানীর বাংলামটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) আয়োজনে ‘স্বাস্থ্য বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক এক স্বাস্থ্য সাংবাদিক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন এনডিএফের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. এ কে এম ওয়ালীউল্লাহ। প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক এবং প্রধান আলোচক ছিলেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ।

বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বড় বরাদ্দ অবশ্যই আশাব্যঞ্জক। তবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দক্ষ বাস্তবায়ন এবং জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা গেলে তবেই জনগণের চিকিৎসা ব্যয় কমবে এবং সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. ওয়ালীউল্লাহ বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে দুর্নীতি, দালাল চক্র এবং কিছু অসাধু গোষ্ঠীর প্রভাব এখনো বড় সমস্যা। এতে সাধারণ রোগীরা ভোগান্তির শিকার হন। তিনি যশোরের ‘চৌগাছা স্বাস্থ্য মডেলের’ উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, স্থানীয় জনগণ, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন সম্ভব।

মূল প্রবন্ধে ড. রুমানা হক বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ শুধু স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের জন্য নয়, দারিদ্র্য হ্রাস ও মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে দেশের মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশ মানুষকে নিজ পকেট থেকে বহন করতে হয়, যা দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় বেশি। অথচ থাইল্যান্ডে এ হার ১০ শতাংশ এবং মালদ্বীপে মাত্র ১৫ শতাংশ।

তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা জিডিপির ১.০১ শতাংশ এবং জাতীয় বাজেটের ৭.৪ শতাংশ। গত এক দশকের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ বরাদ্দ। বাজেটে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, রোগ প্রতিরোধ, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, পুষ্টি, টিকাদান এবং অসংক্রামক রোগের স্ক্রিনিংয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ড. রুমানা হক আরো বলেন, স্টেন্ট, চোখের লেন্স, কিডনি ডায়ালাইসিস যন্ত্রপাতি ও ক্যান্সারের ওষুধের কাঁচামালে কর ছাড় রোগীদের ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি ৫ হাজার চিকিৎসক ও ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, ই-হেলথ কার্ড চালু এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে। তবে উন্নয়ন বাজেটের প্রায় ২৩ হাজার ৫২২ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখা হয়েছে, যার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রধান আলোচক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, দুর্নীতি, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে বড় বাজেটের সুফল পাওয়া যাবে না। হাসপাতাল ব্যবস্থাপকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ানো, ওষুধ সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি।

ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শাদরুল আলম বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী স্বাস্থ্য খাতে জাতীয় বাজেটের অন্তত ১৫ শতাংশ বরাদ্দ প্রয়োজন। বর্তমানে ব্যক্তির নিজস্ব চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে প্রতিবছর প্রায় ২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি প্রতীক ইজাজ বলেন, স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম সমস্যা প্রশাসনিক অদক্ষতা। অনেক চিকিৎসক প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকলেও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেই। স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দের বড় অংশ প্রতি বছর অব্যবহৃত থেকে যায়, যা উন্নত সেবা নিশ্চিতের পথে বড় বাধা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, টেন্ডার ব্যবস্থার সংস্কার, গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রশংসাপ্রাপ্ত ‘চৌগাছা মডেল’ প্রমাণ করেছে যে, জনসম্পৃক্ততা থাকলে সীমিত সম্পদ দিয়েও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।

স্পিকারের সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

অনলাইন ডেস্ক
স্পিকারের সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
ছবি : বাসস

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনচি। বুধবার (১৭ জুন) স্পিকারের সংসদ কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। 

এ সময় স্পিকার জাপানকে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত, অকৃত্রিম বন্ধু দেশ হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে বিনিয়োগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশ থেকে জাপানে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির জন্য রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা করেন।

স্পিকার বাংলাদেশের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপানের শর্তহীন বিনিয়োগের জন্য জাপান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম দিকের শিল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম, তিনি এই স্বীকৃতির বিষয়টি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

 

জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনচি বলেন, বাংলাদেশ-জাপানের মধ্যকার সুদৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তি হচ্ছে দুই দেশের জনগণের মধ্যে আন্তরিকতা ও সহানুভূতির মেলবন্ধন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারি, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সহযোগিতা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জাপান সরকার।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে জাতিসংঘ, জাপানসহ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল সর্বজন গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও অবাধ হয়েছে বলে রিপোর্ট দিয়েছে। নির্বাচনের পর বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারা ফিরে আসায় বাংলাদেশে জাপানের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে রাষ্ট্রদূত স্পিকারকে জানান।

এসময় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া ও জাপান দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব নিশি ইউকি উপস্থিত ছিলেন।

খুলনা শিপইয়ার্ড পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
খুলনা শিপইয়ার্ড পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা
ছবি: কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড (খুশিলি) পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ. কে. এম. শামছুল ইসলাম। বুধবার (১৭ জুন) তিনি এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা খুলনা শিপইয়ার্ডের বিভিন্ন স্থাপনা ও চলমান জাহাজ নির্মাণ প্রকল্পসমূহ ঘুরে দেখেন। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

আইএসপিআর জানায়, খুশিলি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজসহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক ও বেসামরিক জাহাজ নির্মাণ, মেরামত এবং রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে দেশের সামুদ্রিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা খুশিলির সক্ষমতা, উৎপাদন দক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে খুশিলি-এর গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের বিকাশে এই প্রতিষ্ঠানের অবদান এবং এর পেশাগত ও কারিগরি দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

এ সময় ড্রেজার, এলসিটি, টাগ বোট, ক্রেন বোট, পাইলট ভেসেল, সার্ভে ভেসেল এবং সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ভেসেলসহ বিভিন্ন চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি, নির্মাণমান এবং কারিগরি বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে উপদেষ্টাকে অবহিত করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পসমূহের সফল বাস্তবায়নে খুশিলির কর্মপরিকল্পনা দেখে তিনি গভীর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

এ ছাড়া প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা খুলনা শিপইয়ার্ডের বিভিন্ন উৎপাদন ও সহায়ক স্থাপনা—যেমন প্লেটার শপ, মেশিন শপ, কার্পেন্ট্রি শপ, রাবার ফ্যাক্টরি, ডকিং শাখা এবং বিদ্যুৎ শপ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, দক্ষ মানবসম্পদ, আধুনিক উৎপাদন অবকাঠামো এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে তাকে বিস্তারিত জানানো হয়।

পরিদর্শন শেষে তিনি খুশিলি-এর সার্বিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দেশীয় জাহাজ নির্মাণ ও প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশে প্রতিষ্ঠানটির অব্যাহত সাফল্য কামনা করেন।

দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী
বুধবার দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আয়োজিত জনসভা ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে সব ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আয়োজিত জনসভা ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, ‘আজ আল্লাহর কাছে আমি হাজারো শুকরিয়া যে আল্লাহ আমাকে সেই তৌফিক দিয়েছেন, আজ আমি আমার কথা রাখতে পেরেছি; যখন নির্বাচনের প্রথম প্রচার অভিযান শুরু হয় আমি সিলেটের পবিত্র মাটি থেকে সেই প্রচার অভিযান কাজ শুরু করেছিলাম এবং সেই দিনেই সিলেটের জনসভা শেষ করে আমি হবিগঞ্জের জনসভার মঞ্চ থেকে বলেছিলাম যে, বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয় ইনশাআল্লাহ তাহলে আমরা আমাদের চা বাগান শ্রমিকে যেসব মায়েরা কাজ করেন তাদের জন্য আমরা ফ্যামিলি কার্ড দেব। আজকে হ্যাঁ আমরা হয়তো আজকে সবাইকে দিতে পারিনি কিন্তু ইনশাআল্লাহ আগামী এক বছরের মধ্যে আমরা প্রায় সব নারী শ্রমিকের কাছে চা বাগানের সবার কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব ইনশাআল্লাহ।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত নির্বাচনে এই বাংলাদেশের মানুষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে নির্বাচিত করেছিল। কেন? কারণ আমরা সেই সময় মানুষকে বলেছিলাম যে আপনারা যদি আমাদেরকে নির্বাচিত করেন আমরা জনগণের জন্য কাজ করব। প্রথম একটি কাজের কথা বলেছিলাম। সেটি হচ্ছে যে আমরা বিশ্বাস করি এই আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় তাহলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং সেজন্যই আমরা মনে করি যে পুরুষদের পাশাপাশি আমরা যদি নারীদেরকে সাহায্য করতে না পারি স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য তাহলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সেই জন্যই নারীদেরকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেছিলাম।’ 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় চার কোটির মতো পরিবার রয়েছে আমরা বলেছিলাম যে আমরা যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হই তাহলে পর্যায়ক্রমিকভাবে সব পরিবারের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব। বিশেষ করে নারী প্রধানদের কাছে, পরিবারের যে নারী প্রধান তার কাছে।’

নতুন বাজেটের বিভিন্ন কল্যাণমুখী বরাদ্দ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রিয় ভাই-বোনেরা নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে এই কাজ আমরা এই দেশের কৃষকদের পাশেও দাঁড়াতে চাই এবং এই যে বর্তমান বাজেট যেটা আমরা কয়েকদিন আগে বাজেট সংসদে উপস্থাপন করেছি সেই বাজেটে আমরা অর্থ বরাদ্দ করেছি আগামী বছর এই যে সামনে এখন জুলাই মাস থেকে আগামী এক বছর পর্যন্ত আমরা বাংলাদেশের ৪০ লাখ কৃষক ভাইয়ের হাতে আমরা কৃষক কার্ড তুলে দেব। ঠিক একইভাবে আগামী এক বছরে ৪০ লাখ পরিবারের কাছে যেমন ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেব, ৪০ লাখ কৃষকের কাছে আমরা কৃষক কার্ড তুলে দেব। যেভাবে আমরা মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিচ্ছি ধীরে ধীরে যেভাবে আমরা কৃষক ভাইদের কাছে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছি। একইভাবে ইমাম-মুয়াজ্জিন খতিবসহ অন্যান্য ধর্মের যারা ধর্মীয় গুরু আছেন তাদের হাতেও সম্মানের ব্যবস্থা তুলে দিচ্ছি। সরকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায়, মানুষকে সহযোগিতা করতে চায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘এটাই হচ্ছে বিএনপির রাজনীতি। আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই।মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই। কিন্তু কয়েকদিন ধরে দেখুন পত্র-পত্রিকাগুলো আমরা দেখছি আমরা যে বাজেট উপস্থাপন করেছি সেই বাজেটের মধ্যে আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি। আমরা যে বাজেট উপস্থাপন করেছি সংসদে সেই বাজেটের মধ্যে আমরা কৃষক কার্ডের জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি। আমরা যেই ফ্যামিলি বাজেট উপস্থাপন করেছি সেই বাজেটে আমরা আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা স্টুডেন্টরা যাতে স্কুল-কলেজে ভালো করে লেখাপড়া করতে পারে এবং খেলাধুলা করতে পারে তার জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি। আমরা যেই বাজেট পেশ করেছি জাতীয় সংসদে সেখানে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ যাতে সঠিকভাবে চিকিৎসা পেতে পারে সে জন্যই প্রত্যেক উপজেলা পর্যায়ে যে ৫০ বেডের হসপিটাল আছে সেগুলোকে আগামী পাঁচ বছর আমরা ১০০ বেড করব। তার জন্য আমরা অর্থ বরাদ্দ রেখেছি। যাতে করে গ্রামের মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন,  যে বাজেটে অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে আমরা জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই, সেই বাজেটকে যারা চানাচুরের সঙ্গে তুলনা করে, সেই বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে তারা কি কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে? তারা কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে না।’ এ সময় তিনি জনগণকে বিভ্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়, সেটি সংসদের ভেতরেই হোক কিংবা সংসদের বাইরেই হোক তাদের ব্যাপারে আপনাদেরকে সচেতন থাকতে হবে। এসব লোক যদি দেশে অশান্তি করার সুযোগ পায় তাহলে আমরা ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করতে পারব না। আজ যেসব কর্মসূচি উদ্বোধন করা হলো তা বাস্তবায়ন আটকে যাবে। কাজেই যারা এসব কাজে বাধা দেবে  তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি হচ্ছে জনগণের দল। যতবারই এই দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে, যতবারই এই বাংলাদেশে মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পেরেছে, প্রত্যেকবার মানুষ ধানের শীষকে বিজয় করেছে। এই যে মৌলভীবাজারের যতগুলো বড় বড় রাস্তাঘাট স্কুল-কলেজ দেখেছেন খোঁজ করে দেখুন এগুলো সব বিএনপি মরহুম সাইফুর রহমান সাহেবের সময় কাজগুলো হয়েছিল। সাফ কথা যদি দেশের উন্নয়নকে অব্যাহত রাখতে হয়, যদি মা-বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে হয়, কৃষক ভাইদের হাতে যদি কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে হয়, যদি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হয় তাহলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে তাহলে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে পারবে না। জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কেউ নষ্ট করতে পারবে না। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কারা নষ্ট করে আমরা সেটি ভালো করে জানি। আমরা দেখেছি দেশ স্বাধীনের সময় দেশ স্বাধীনের আগে এবং পরবর্তী সময় গণতন্ত্র বিনষ্টকারী গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী সবগুলো একসঙ্গে ছিল মুখে মুখে বলত আমরা একসঙ্গে নাই কিন্তু ভেতরে ভেতরে এরা সবসময় একসঙ্গে কাজ করেছে এবং সব সময় প্রতিটি সময় বিএনপি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সবসময় জনগণের কাতারে ছিল। সেজন্যই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের শক্তি। সেইজন্য বিএনপি সব সময় বলে থাকে বাংলাদেশ হচ্ছে আমাদের, আমার শেষ ঠিকানা।’ 

তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের একটাই কাজ। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। কাজেই আসুন এই দেশ আমাদেরকেই গড়তে হবে, দেশ আমাদের। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করে  দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হবে। যারা এই দেশ থেকে টাকা পাচার করেছে, যারা জনগণের অর্থ টাকা বিদেশে পাঠাতে চায়, আমরা আজ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করব। আমরা যদি সবাই চোখ-কান খোলা রাখি তাহলে এই দেশের মানুষের অর্থ-সম্পদ কেউ বিদেশে পাচার করতে পারবে না।’

অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য দেন  প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী। এ সময় উপকারভোগী নারী চা শ্রমিক ওয়াজেদা বেগম ও শিউলি রানী দাস প্রান্তিক অসহায় মানুষের জন্য নেওয়া এই মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 

অনুষ্ঠানে চা শ্রমিকদের কষ্ট লাঘব করতে ২ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা, সন্তানদের জন্য বিশেষ স্কলারশিপ এবং উপস্থিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসার্থে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়।