• ই-পেপার

কুমিল্লার তাহমিনা বেগম চৌধুরী পেলেন ‘রত্নগর্ভা মা’ সম্মাননা

ফিফা বিশ্বকাপ

জার্মানির সমর্থনে সোয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান খাবির উদ্দিন খানের র‍্যালি

অনলাইন ডেস্ক
জার্মানির সমর্থনে সোয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান খাবির উদ্দিন খানের র‍্যালি

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উৎসবমুখর আবহে জার্মান জাতীয় ফুটবল দলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে রাজধানী ঢাকায় এক বর্ণাঢ্য র‍্যালির আয়োজন করেন সোয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান খাবির উদ্দিন খান। দীর্ঘদিন ধরে জার্মান ফুটবলের একজন নিবেদিতপ্রাণ সমর্থক হিসেবে তিনি এবারও জার্মানিকে বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপা প্রত্যাশী দল হিসেবে দেখছেন।

র‍্যালিতে অংশ নেয় জার্মানির জাতীয় পতাকা ও বিশ্বকাপের ফিক্সচার সংবলিত বিশেষভাবে ব্র্যান্ডিংকৃত একাধিক পিকআপ ভ্যান। পুরো র‍্যালিজুড়ে পথচারী ও ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে হাজার হাজার জার্মান পতাকা ও জার্সি বিতরণ করা হয়, যা রাজধানীব্যাপী বিশ্বকাপের উচ্ছ্বাসকে আরো প্রাণবন্ত করে তোলে।

র‍্যালিটি রাজধানীর ইস্কাটন থেকে শুরু হয়ে মগবাজার, বিচারপতি ভবন, ফকিরাপুল, মতিঝিল, টিকাটুলি, মধুমিতা সিনেমা হল, আরামবাগ, শাহজাহানপুর, রমনা, হাতিরঝিল, সোনারগাঁও, ফার্মগেট, জাতীয় সংসদ ভবন, ধানমন্ডি ও কলাবাগান প্রদক্ষিণ করে শাহবাগে এসে শেষ হয়।

এ উপলক্ষে খাবির উদ্দিন খান বলেন, ‘ফুটবল এমন একটি খেলা, যা মানুষকে ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক সীমারেখার ঊর্ধ্বে নিয়ে গিয়ে একসূত্রে গাঁথে। জার্মানি সবসময় শৃঙ্খলা, দলগত চেতনা এবং লড়াকু মানসিকতার প্রতীক। এই মূল্যবোধগুলো আমাকে অনুপ্রাণিত করে। বিশ্বকাপের এই আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করতেই আমাদের এই আয়োজন।’

সোয়ান গ্রুপ বিশ্বাস করে, খেলাধুলা সমাজে ইতিবাচকতা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়। সেই বিশ্বাস থেকেই বিশ্বকাপের এই বৈশ্বিক উৎসব উদযাপন এবং ফুটবলপ্রেমীদের আনন্দে শামিল হওয়ার লক্ষ্যে এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

খাবির উদ্দিন খান আশা প্রকাশ করেন যে, এ ধরনের আয়োজন বিশ্বকাপকে ঘিরে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আরও উৎসাহ ও সম্প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি করবে এবং খেলাধুলার প্রতি নতুন প্রজন্মকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে।

ছাদে ছাদে হাসুক সোলার প্যানেল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
ছাদে ছাদে হাসুক সোলার প্যানেল

বছর ১৫ আগে কিশোরগঞ্জের হাওর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছিলেন একজন। ভেবেছিলেন, দুর্গম হাওরে আর যাই হোক আলোর দেখা পাবেন না। কিন্তু সন্ধ্যা হতেই চমকে গেলেন তিনি। ঘরে বাতি জ্বলছে, তবে টিমটিম করে। খোঁজ নিয়ে জানলেন, এই আলোর উৎস সৌরবিদ্যুৎ। সূর্য যেমন দিনে আমাদের আলো দেয়, চাইলে দিনের আলোকে বিদ্যুতে বদলে রাতেও তা ব্যবহার করা সম্ভব।

কিন্তু সেই অপার সম্ভাবনা এতদিন বাংলাদেশে ’সম্ভবনা’তেই আটকে ছিল। নবায়ণযোগ্য জ্বালানী এখনো টিমটিম করেই জ্বলছে। এত দিনেও সৌর বিদ্যুতের সম্ভাবনা আটকে আছে আমলাদের ফাইল, রাজনীতিবিদদের কথার ফুলঝুরি আর সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের কথামালায়।

এবারই প্রথম কথার ফুলঝুড়িকে আলোর ফুলে বদলে দেওয়ার সুযোগ এসেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের শুল্কে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তাতেই বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের চিত্র।

ছোট্ট বাংলাদেশে গাদাগদি করে ১৮ কোটি মানুষ বাস করে। আর আধুনিক জীবনের পুরোটাই বিদ্যুৎনির্ভর। বিদ্যুৎ ছাড়া জমিতে সেচ থেকে শুরু করে শিল্পে উৎপাদন, ঘরে ঘরে আলো, স্মার্ট ডিভাইসের ব্যবহার—কিছুই সম্ভব না। ১৮ কোটি মানুষের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হয় যেকোনো সরকারকে। বিপুল ভর্তুকি দিয়েও চাহিদা মেটানো যায় না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে জ্বালানি তেলের সরবরাহে চরম সংকট সৃষ্টির পর জ্বালানী রূপান্তরের প্রয়োজনটা সবাই হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন। বাড়তি দাম দিয়েও সময়মতো জ্বালানি পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় মূলত চড়া দামের তেল আর গ্যাসে। অথচ বিনা মূল্যের জ্বালানী উৎস সূর্য সারা বছর আমাদের আলো দিতে পারে। সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ চার ভাগের একভাবে নামিয়ে আনতে পারে। প্রাথমিক স্থাপনার চড়া মূল্যের কারণে এতদিন সৌর বিদ্যুতে মানুষের আগ্রহ কম ছিল। এবার সরকার নজর দিয়েছে সেই দিকেই।

সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারলে কতটা লাভ, সেটার প্রমাণ পেতে খুব বেশি দূর যেতে হবে না। পাকিস্তান আর ভিয়েতনামের দিকে তাকালেই হবে। তাও এই দুই দেশে বিপ্লবটা হয়েছে বেশি দিন আগে নয়। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানী তেলের দাম বেড়ে গেলে অন্য অনেক দেশের মত পাকিস্তানও বিপাকে পড়ে যায়। পাকিস্তান সরকার সোলার আমদানির শুল্ক শূন্য করে দেয়। ফলও পেয়েছে হাতে হাতে। ২০২০ সালে জ্বালানি খাতে সোলারের অংশ ছিল ২ দশমিক ৯ ভাগ, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৩ ভাগে। বর্তমানে প্রতি চারটি পাকিস্তানি পরিবারের মধ্যে একটি কোনো না কোনোভাবে সোলার ব্যবহার করছে। এই ছোট উদ্যোগ তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমিয়েছে দারুণভাবে।

ভিয়েতনাম থেকেও শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ আছে। ২০১৮ সালেও ভিয়েতনামে বিদ্যুতে সোলারের অবদান ছিল কার্যত শূন্য। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার মেগাওয়াটে।

এবার বাংলাদেশের পালা। প্রস্তাবিত বাজেটে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, লিথিয়াম ব্যাটারি, ডিসি ক্যাবল এবং মাউন্টিং স্ট্রাকচারের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। আগে যা ছিল ২০ শতাংশ। সোলারের অন্যান্য যন্ত্রাংশের ওপর থেকেও কাস্টমস ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক কমিয়ে শূন্য করা হয়েছে। ব্যাটারি স্টোরেজের শুল্ক ৬১ দশমিক ৮ ভাগ থেকে কমিয়ে শূন্যে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাণিজ্যিক সোলার বিনিয়োগ ২০৩৫ সাল পর্যন্ত পূর্ণ আয়কর অবকাশ পাবে। আর খুচরা ও শিল্প গ্রাহকদের যারা সোলার স্থাপন করবেন, তারা বিদ্যুৎ বিলে ৫ ভাগ রেয়াত পাবেন। 

বাজেটে সোলারের শূল্ক প্রস্তাবনা কার্যকর হলে এক মেগাওয়াট রুফটপ সোলার স্থাপনে খরচ ২৫ থেকে ৩০ ভাগ কমে আসবে। একটি এক-কিলোওয়াট-ঘণ্টার স্টোরেজ ব্যাটারি যার দাম ছিল ৩০০ ডলার, তা এখন ১৬০ ডলারে পাওয়া যাবে। এক মেগাওয়াট স্থাপনার খরচ প্রায় ৫০ লাখ টাকা কমবে। এতদিন যা ছিল স্বপ্ন, কথামালার অংশ; এখন তা হতে পারে লাভজনক বাস্তবতা।

সব ঠিক থাকলে দুই বছরের মধ্যে ছাদ থেকেই ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত পাওয়া সম্ভব। আগামী এক দশকেই বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের চিত্র। লাভের অঙ্কটা আরেকটু মিালয়ে নিন। জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পেতে শিল্প-কারখানাগুলোকে অফ-পিক আওয়ারে প্রতি ইউনিট ১১ টাকা ৫৬ পয়সা আর পিক আওয়ারে ১৬ টাকা খরচ করতে হয়। নতুন ব্যবস্থায় সোলারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারলে প্রতি ইউনিটে খরচ হতে পারে মাত্র ৩ টাকা।

সোলারের সবচেয়ে বড় বাধা ছিল কাঠামো স্থাপনের উচ্চ ব্যয়। সরকার সেটা নাগাল এনে দিচ্ছে। তবে মাথায় রাখতে হবে, শূন্য শুল্কের সুযোগে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ঢুকে সোলারের সম্ভাবনাকে শুরুতেই যেন আটকে না দেয়। নিম্নমানের যন্ত্রাংশের কারণে স্থাপিত সোলার কাঠামো দ্রুত কার্যক্ষমতা হারাতে পারে। যাতে লাভের গুড় পিঁপড়ার পেটে যেতে পারে। মানুষ সোলারের বাপারে আগ্রহ হারাতে পারে। তাই শুল্ক কমানোর পাশাপাশি আমদানি করা যন্ত্রাংশের মানের দিকটিও কঠোরভাবে নজরদারিতে রাখতে হবে।

সব মিলিয়ে সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশ এখন সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। সরকার তার কাজটুকু ঠিকমতই করেছে। এখন এগিয়ে আসতে হবে উদ্যোক্তাদের। তবে লাভের হিসাবটা ঠিকঠাকমতো করতে পারলে এবার ছাদভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এগিয়ে যাওয়ার পথে আর কোনো দ্বিধা থাকার কথা নয়। আশা করা যায়, বাংলাদেশের ছাদে ছাদে এখন হাসবে সোলার প্যানেল, নিছক দেখানোর জন্য নয়, সে প্যানেল থেকে আসা বিদ্যুৎ আলোকিত করবে বাংলাদেশকে। নিজের ভালো ভাই পাগলেও বোঝে।

মানুষকে সম্মান দিতে টাকা লাগে না

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
মানুষকে সম্মান দিতে টাকা লাগে না
এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকী ছবি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিদিন লাখো কনটেন্ট শেয়ার করা হয়। প্রতিদিন কোটি মানুষ তা দেখেনও। কিন্তু মাঝে মধ্যে দুয়েকটা ছোট কনটেন্ট মানুষকে মুগ্ধ করে, মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়, মানবতাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে।

নয়াদিল্লীর ব্যস্ত এলাকা কনট প্লেসে মাকিন ইনফ্লুয়েন্সার স্টিভ ইয়ালোর সঙ্গে এক কলম বিক্রেতা বৃদ্ধার কথোপকথন রীতিমত ভাইরাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ১ মিনিট ২০ সেকেন্ডের ভিডিও প্রমাণ করে উদারতা, মানবতা আসলে অমূল্য। মানুষকে সম্মান করতে, তার মর্যাদাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে টাকা লাগে না। তারচেয়ে বড় কথা হলো, একজন মানুষ আরেকজনের মানুষের সাথে সংযোগ সৃষ্টির জন্য ভাষা কোনো বাধা নয়। একজন ভালো মানুষ চাইলেই হৃদয়ের উষ্ণতা দিয়ে আরেকজন মানুষের হৃদয় জয় করতে পারেন।

হেঁটে যাওয়ার সময় স্টিভ ইয়ালো দেখতে পান এক বয়োবৃদ্ধা কনট প্লেসের ফুটপাতে বসে কলম বিক্রি করছেন। কিন্তু তেমন কেউ তার কাছ থেকে কলম কিনছেন না। আসলে স্মার্ট ডিভাইসের যুগে কলমের চাহিদাও কমে গেছে। স্টিভের হয়তো কলম দরকারও ছিল না। তবু তিনি বৃদ্ধাকে দেখে এগিয়ে যান। 
কেমন আছেন? জানতে চাইতেই বৃদ্ধা উত্তর দেন ফোকলা দাঁতের হাসিতে। এই হাসিতেই এক ভারতীয় বৃদ্ধার সঙ্গে এক মার্কিন তরুণের দারুণ এক সংযোগ ঘটে। এ সংযোগ পারস্পরিক মর্যাদা, ভালোবাসা আর সম্মানের। স্টিভ জানতে চান, কলমের দাম কত? কাশফুলের মত সাদা চুলের বৃদ্ধা হেসে উত্তর দেন, ‘ফিফটি’। সম্ভবত এই একটি ইংরেজি শব্দই তাকে কেউ শিখিয়ে দিয়েছে। এরপর  স্টিভ তার নাম জানতে চান। বৃদ্ধার উত্তর ছিল গালভরা হাসি। স্টিভ প্রথমে একশ রুপি দিয়ে দুটি কলম কেনেন। পরে কেনেন আরো দুটি। এক পর্যায়ে গুনে দেখেন বৃদ্ধার হাতে মোট ১৮টি কলম আছে। ক্যালকুলেটরে হিসাব করে দেখেন, দাম মোট ৯০০ রুপি। কিন্তু স্টিভের কাছে ছিল সাকুল্যে ৫৫০ রুপি। নিজের সর্বস্ব তিনি বৃদ্ধার হাতে তুলে দেন। বৃদ্ধার জন্য শুভকামনা জানিয়ে যাওয়ার সময় স্টিভ নিয়ে যান শুধু দুটি কলম।

কথোপকথনের এক পর্যায়ে কলম বিক্রেতা বৃদ্ধা বলছিলেন, তিনি একা মানুষ, একা থাকেন। কিস্তু স্টিভ আবার হিন্দি বোঝেন না। বলছিলেন পরে অনুবাদ করে বুঝে নেবেন। একদম হিন্দি না বোঝা মার্কিন পর্যটকের সঙ্গে ‘ফিফটি’ ছাড়া আর কোনো ইংরেজি শব্দ না বোঝা ভারতীয় বৃদ্ধার এক মিনিট ২০ সেকেন্ডের কথোপকথনই এখন হয়ে উঠেছে সারল্য, উদারতা আর মানবতার স্মারক। তাদের কথোপকথন বুঝতে কারো দোভাষি লাগেনি। হাসি আর ভালোবাসার কোনো অনুবাদ লাগে  না।

অনেকেই সেই পোস্টে মন্তব্য করতে গিয়ে তাদের ভালোলাগার অনুভূতির কথা জানিয়েছেন। তাদের এই কথোপকথনকে বর্ননা করেছেন, দয়া ও মানবিক বন্ধনের শক্তির এক হৃদয়ছোঁয়া চিহ্ন হিসেবে। আসলে ছোট ছোট উদারতাও অনেক সময় দুই পক্ষের মধ্যেই সম্পর্কের দারুণ রসায়ন সৃষ্টি করতে পারে। আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘কখনও কখনও আমরা কাউকে সবচেয়ে মূল্যবান যে জিনিসটি দিতে পারি তা টাকা নয়, সেটি হলো এক মুহূর্তের মর্যাদা এবং উদারতা।’

আসলেই টাকা দিয়ে সবকিছু কেনা যায় না। মানুষকে মর্যাদা দিতে, সম্মান করতে লাগে একটি উদার, মানবিক হৃদয়।

ডাইনির টুপির পেছনে শত বছরের ইতিহাস, নিপীড়ন থেকে ফ্যাশনের প্রতীক

অনলাইন ডেস্ক
ডাইনির টুপির পেছনে শত বছরের ইতিহাস, নিপীড়ন থেকে ফ্যাশনের প্রতীক

লম্বা, কালো এবং সুচালো টুপি দেখলে অনেকের মনেই প্রথমে ডাইনির কথা আসে। সিনেমা, টেলিভিশন, বই কিংবা হ্যালোইনের সাজ—সব জায়গাতেই এই টুপিকে ডাইনির পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। তবে এই পরিচিত টুপির ইতিহাস শুধু কল্পকাহিনি বা বিনোদনের জগতে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ধর্মীয় বৈষম্য, সামাজিক নিপীড়ন এবং শত শত বছরের পুরোনো নানা ঐতিহাসিক ঘটনা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডাইনির টুপির প্রকৃত উৎস নিয়ে এখনো একমত হওয়া যায়নি। তবে আধুনিক সময়ে এই টুপিকে জনপ্রিয় করে তুলতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ১৯৩৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘দ্য উইজার্ড অব ওজ’। এই  ছবিতে ‘উইকেড উইচ অব দ্য ওয়েস্ট’ চরিত্রটিকে কালো পোশাক ও সুচালো টুপিতে দেখানো হয়েছিল। এর পর থেকেই ডাইনির পরিচিত চেহারা হিসেবে এই টুপির ব্যবহার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

এই সিনেমাটি ডাইনির বেশভূষা ও চেহারাকে জনপ্রিয় করলেও ইতিহাসবিদরা বলছেন, সূচালো টুপিকে অশুভ বা ভয়ংকর কিছু হিসেবে দেখার ধারণা এরও বহু আগে থেকে চলে আসছে।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ত্রয়োদশ শতকে ক্যাথলিক গির্জার নেতারা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় সভা আয়োজন করেন, যা পরে ‘গ্রেট কাউন্সিল’ নামে পরিচিত হয়। ওই সভায় এমন একটি নীতি গ্রহণ করা হয়, যার মাধ্যমে ইহুদি ও মুসলমানদের খ্রিস্টানদের থেকে আলাদা করে চেনার জন্য বিশেষ পোশাক পরতে বাধ্য করা হয়।

সে সময় ইহুদিদের একটি বিশেষ সুচালো টুপি পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই টুপির নাম ছিল ‘জুডেনহাট’। অনেক গবেষক মনে করেন, এটি ছিল ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক আচরণের একটি উদাহরণ।

সাবেক যাজক ও লেখক জেমস ক্যারল তার বই 'কন্সট্যানটাইন্স সোর্ড : দ্য চার্চ অ্যান্ড দ্য জিউস : এ হিস্টোরি'-এ এই নিয়মকে পরবর্তীকালে নাৎসি জার্মানিতে ইহুদিদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কুখ্যাত হলুদ ব্যাজ ব্যবস্থার পূর্বসূরি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এর প্রায় এক শতক পর ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে জাদুবিদ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত নারীদের ওপরও একই ধরনের নিপীড়ন চালানো হয়। হাঙ্গেরির জাগরেব এলাকায় অভিযুক্ত নারীদের প্রকাশ্যে অপমান করার জন্য দেবদূতের ছবি আঁকা সূচালো টুপি পরানো হতো। পরে তাদের জীবন্ত পুড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো।

ফলে অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, ডাইনির টুপি শুধু কল্পনার জগতের কোনো পোশাক নয়; বরং এটি বহু মানুষের ওপর চালানো বৈষম্য ও নিপীড়নের স্মৃতিও বহন করে।

তবে ডাইনির টুপির উৎস নিয়ে আরেকটি জনপ্রিয় ব্যাখ্যাও রয়েছে। ভেষজ বিশেষজ্ঞ ও নিজেকে ডাইনি হিসেবে পরিচয় দেওয়া মিশেল গেরেরোর মতে, এই টুপির সঙ্গে মধ্যযুগের নারী বিয়ার ব্যবসায়ীদেরও সম্পর্ক থাকতে পারে।

ইতিহাস বলছে, প্রায় ষোড়শ শতক পর্যন্ত ইউরোপে বিয়ার তৈরি ও বিক্রির কাজ মূলত নারীরাই করতেন। এসব নারী ব্যবসায়ী বাজারে নিজেদের সহজে আলাদা করে দেখাতে লম্বা ও সুচালো টুপি পরতেন। এতে ক্রেতারা দূর থেকেই তাদের চিনতে পারতেন।

পরে তাদের বিরুদ্ধে নিম্নমানের বা দূষিত বিয়ার বিক্রির অভিযোগ তোলা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের ব্যবসা ও সামাজিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেকের মতে, সেখান থেকেও সূচালো টুপি পরা নারীদের নিয়ে নেতিবাচক ধারণার জন্ম হতে পারে।

তবে সময়ের সঙ্গে ডাইনিদের চিত্র বদলাতে শুরু করে। আগে চলচ্চিত্র ও গল্পে ডাইনিদের সাধারণত দুষ্ট, ভয়ংকর এবং অশুভ চরিত্র হিসেবে দেখানো হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক দশকগুলোতে তাদের উপস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে।

'চার্মড', 'সাবরিনা দ্য টিনেজ উইচ', এবং 'বাফি দ্য ভ্যাম্পায়ার স্লেয়ার'–এর মতো জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজে ডাইনিদের শক্তিশালী এবং ইতিবাচক চরিত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তারা নিজেদের ক্ষমতা মানুষের উপকারে ব্যবহার করত।

একইভাবে ১৯৯৮ সালের ‘প্র্যাক্টিক্যাল ম্যাজিক’ চলচ্চিত্রে দুই বোনকে অতিপ্রাকৃত শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে দেখা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে ‘আমেরিকান হরোর স্টোরি :কোভেন' এবং 'দ্য চিলিং অ্যাডভেঞ্চারস অফ সাবরিনা'–এর মতো সিরিজও নতুন প্রজন্মের কাছে ডাইনিদের নতুনভাবে পরিচিত করেছে।

এর প্রভাব ফ্যাশন জগতেও পড়েছে। বর্তমানে অনলাইনে ডাইনিবিষয়ক পোশাক, অলংকার ও সাজসজ্জার সামগ্রীর জনপ্রিয়তা বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া পণ্যের একটি হলো আধুনিক ডাইনির টুপি।

এই টুপিগুলো সাধারণত আকারে ছোট হয়। অনেক সময় বোনা কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয় এবং দেখতে কিছুটা নরম ও ঝুলে থাকা ধরনের হয়। অনেকের কাছে এগুলো 'হ্যারি পটার' সিরিজের বিখ্যাত ‘সর্টিং হ্যাট’-এর মতো মনে হয়।

বর্তমানে অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে এসব টুপির চাহিদা বাড়ছে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের অনেক মানুষ ডাইনি সংস্কৃতি ও এর প্রতীকগুলোর প্রতিও আগ্রহ দেখাচ্ছে।

তবে এই জনপ্রিয়তা নিয়ে সবার মতো এক নয়। কেউ কেউ মনে করেন, যে প্রতীক একসময় নিপীড়ন ও বৈষম্যের সঙ্গে জড়িত ছিল, সেটিকে নিছক ফ্যাশনের অংশ বানানো ইতিহাসের প্রতি সংবেদনশীলতার অভাব প্রকাশ করে।

অন্যদিকে মিশেল গেরেরোর মতো অনেকে বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। তার মতে, মানুষ যদি ফ্যাশনের অংশ হিসেবে ডাইনির টুপি পরে, তাহলে সেটি ক্ষতিকর কিছু নয়।

তিনি বলেন, ডাইনিরা দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতা, আত্মবিশ্বাস এবং নিজের ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়ার প্রতীক হিসেবে পরিচিত। আধুনিক সংস্কৃতিতে সেই পরিচয়ই এখন আরো বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে।

গেরেরোর ভাষায়, ডাইনিদের সাহসী, রহস্যময়, আকর্ষণীয় কিংবা শক্তিশালী হিসেবে দেখা হয়। তারা কেমন হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে মানুষ তাদের কিভাবে কল্পনা করছে তার ওপর। আর এ কারণেই ডাইনির টুপি আজও মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।