উৎসব-পার্বণে সবার সাথে ডায়াবেটিক রোগীরাও এখন মাঝেমধ্যে মিষ্টিমুখ করতে পারবেন। তবে তার জন্য মানতে হবে বিশেষ কিছু কৌশল। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, মিষ্টি বা কার্বোহাইড্রেট (শর্করা) জাতীয় খাবার শুধু না খেয়ে, তার সাথে ফাইবার (আঁশ) বা প্রোটিনযুক্ত করে নিলে রক্তে সুগারের মাত্রা হঠাৎ বাড়ে না।
নিউইয়র্কের ‘ওয়েইল কর্নেল মেডিসিন’-এর এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথমে প্রোটিন ও ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়ার পর কার্বোহাইড্রেট বা মিষ্টি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা আচমকা বাড়ে না। এ সমীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, এই নিয়মে খাওয়ার ৩০ মিনিট পরে শর্করার মাত্রা ২৯ শতাংশ কমেছে। ৬০ মিনিট পরে তা কমে হয়েছে ৩৭ শতাংশ। ১২০ মিনিট পরে তা ১৭ শতাংশে নেমে গেছে। তাই রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখার মূল সূত্র হলো— প্রথমে খেতে হবে ফাইবারসমৃদ্ধ সবজি এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, আর একদম শেষে আসবে শর্করা বা মিষ্টি।
মিষ্টি খাওয়ার সঠিক উপায়
বাদাম খেয়ে মিষ্টি খাওয়া : মিষ্টি খাওয়ার ঠিক আগে ৪ থেকে ৫টি আখরোট বা কাঠবাদাম খেয়ে নেওয়া ভালো। বাদামে থাকা ফাইবার, প্রোটিন ও ভালো ফ্যাট মিষ্টির শর্করাকে শরীরে দ্রুত শোষিত হতে বাধা দেয়।
মিষ্টি ফলের নিয়ম : বিকেলের দিকে খালি পেটে রসালো বা বেশি মিষ্টি ফল না খেয়ে, ফাইবারযুক্ত অন্য কোনো খাবার খাওয়ার পর এই ফলগুলো খাওয়া নিরাপদ।
ক্যালরির ভারসাম্য : যদি কোনো দিন একটি মিষ্টি বা আইসক্রিম খাওয়া হয়েই যায়, তবে ক্যালরির ভারসাম্য ঠিক রাখতে ওই দিনের অন্য বেলার খাবার থেকে শর্করার পরিমাণ কমিয়ে দিতে হবে।
চিকিৎসকেরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য নিয়মিত মিষ্টি খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়। তবে মাঝেমধ্যে মন চাইলে এই স্বাস্থ্যকর পন্থা মেনে মিষ্টি খাওয়া যেতেই পারে।
সূত্র : আনন্দবাজার





