পবিত্র আশুরার প্রথম প্রহরেই রাজধানীতে শোক মিছিল ও মাতম করেছেন শিয়া মুসলিমরা। মূল আনুষ্ঠানিকতা শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ১০টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে পুরান পল্টনের ইমামবাড়ার সামনের সড়কে জড়ো হন শত শত নারী-পুরুষ।
শোকাবহ পরিবেশে তারা ‘ইয়া হোসাইন, ইয়া হোসাইন’ ধ্বনি দিতে থাকেন। অনেককে শরীরে ব্লেড দিয়ে আঘাতের মাধ্যমে রক্ত ঝরিয়ে মাতম করতে দেখা যায়। পরে রাত ২টার দিকে হোসাইনী দালান ইমামবাড়া উত্তর গেট থেকে মিছিল বের হয়। মিছিলটি পুরান ঢাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এ সময় তাদের হাতে দেখা যায় কালো ব্যানার, লাল-সবুজ নিশান খচিত বেহেস্তা, পাঞ্জা আলম মাতমসহ নানা শোক নিদর্শন। শিয়া সম্প্রদায়ের সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও তাদের মাতম ও শোকানুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন।
অংশগ্রহণকারীরা জানান, শুক্রবার সকাল ১০টায় পুরান ঢাকার হোসাইনী দালান থেকে মূল তাজিয়া মিছিল শুরু হবে। বিভিন্ন ইমামবাড়া থেকে শোভাযাত্রা নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা সেখানে সমবেত হবেন। পরে মিছিলটি ধানমন্ডির জিগাতলা মোড় পর্যন্ত গিয়ে শেষ হবে।
হিজরি পঞ্জিকা অনুযায়ী, মহররম মাসের দশম দিনই পবিত্র আশুরা। ইসলাম ধর্মে ঐতিহাসিকভাবেই বেশ তাৎপর্যপূর্ণ এই দিনটি। আসমান-জমিন, পাহাড়-পর্বত, সবকিছুর সৃষ্টি হয়েছিল এই দিনে। হযরত আদম থেকে শুরু করে সবশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত, প্রত্যেকের জীবনেই উল্লেখযোগ্য ঘটনা রয়েছে আশুরার দিনে।
হযরত আদমকে সৃষ্টি ও জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছিল এ দিনটিতেই, প্রলয়ঙ্করী মহাপ্লাবন শেষে নূহ (আ.) এর জুদি পাহাড়ে অবতরণের ঘটনাও আশুরাতেই। জালিম শাসক নমরুদের অগ্নিকুণ্ড থেকে ইব্রাহিম (আ.) মুক্তিলাভ করেছিলেন ১০ মহররম, দীর্ঘ ৪০ দিন দজলা নদীতে মাছের পেটে থাকার পর মুক্তি পান ইউনূস (আ.)।
মুসা ও বনী ইসরাইলকে আল্লাহ ফেরাউনের হাত থেকে মুক্ত করেন বিশেষ এই দিনেই। হযরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় গিয়েছিলেন মহররমের দশম দিনে। ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদের অন্যায়ের কাছে মাথানত না করে হযরত মুহম্মদ (সা.) এর দৌহিত্র হযরত হোসাইনের জীবন উৎসর্গ আশুরার একটি কালো অধ্যায়। এদিন ইয়াজিদের সৈন্যদের হাতে ৭৭ জন সঙ্গীসহ নির্মমভাবে শাহাদাতবরণ করেন ইমাম হোসাইন।








