আন্ত নগর কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের গন্তব্য নেত্রকোনার জারিয়া পর্যন্ত বর্ধিত করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশন চত্বরে ‘আমরা কিশোরগঞ্জ জেলাবাসী’ ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক নিয়মিত রেলযাত্রী অংশ নেন।
মানববন্ধন চলাকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস স্টেশনে পৌঁছালে আন্দোলনকারীরা ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনে রেললাইনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইকরাম হোসেন, পৌর মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক ফরিদ আহাম্মদ, সাবেক কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম, সমাজসেবক মুরাদ ভূঁইয়া, ব্যবসায়ী আবু সাঈদ ও মাসুদুজ্জামানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা।
বক্তারা বলেন, কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস শুধু একটি ট্রেন নয়, এটি জেলার লাখো মানুষের রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন চাকরি, ব্যবসা, চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনে হাজারো মানুষ এ ট্রেনে যাতায়াত করেন। ট্রেনটির গন্তব্য জারিয়া পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হলে যাত্রাপথ দীর্ঘ হবে এবং সময়সূচিতে পরিবর্তন আসার আশঙ্কা রয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে কিশোরগঞ্জের নিয়মিত যাত্রীদের ওপর।
তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় জনগণের মতামত ও বাস্তব চাহিদা বিবেচনা না করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিশোরগঞ্জবাসীর স্বার্থে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করে ট্রেনটির গন্তব্য আগের মতো কিশোরগঞ্জ পর্যন্ত রাখার দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরো বলেন, দ্রুত এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
সমাবেশ থেকে কিশোরগঞ্জ জেলার সংসদ সদস্যদের এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জেলার মানুষের স্বার্থ ও সম্ভাব্য জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নিয়মিত যাত্রীরা বলেন, কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসের বর্তমান রুট ও সময়সূচি দীর্ঘদিন ধরে জেলার মানুষের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ট্রেনটির গন্তব্য পরিবর্তন করা হলে যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় লাগবে এবং সাধারণ যাত্রীরা নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়বেন।





