• ই-পেপার

পাবনায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ

পিকআপ চালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে যুবদল নেতা বহিষ্কার

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
পিকআপ চালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে যুবদল নেতা বহিষ্কার
সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এক পিকআপ চালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক টেরা সোয়েব মুন্সিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভুইয়ার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনবিরোধী নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. সোয়েব মুন্সিকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। 

এতে আরো বলা হয়, বহিষ্কৃতের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়দায়িত্ব দল নিবে না। যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নির্দেশনা ও আইন শৃঙ্খলাবাহিনীকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ জুন রাত ১১টার দিকে গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ডের সতীশা এলাকায় বাসস্ট্যান্ডে বসা ছিলেন স্থানীয় আজিজুল ইসলামের ছেলে পিকআপচালক মানিক মিয়া (৪৪)। সে সময় তাকে অস্ত্রের মুখে উঠিয়ে নেয় সোয়েব মুন্সি। পরে সড়কের পাশেই একটি জায়গায় নিয়ে রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে। পরে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে মানিক মারা যায়।
 

টঙ্গীতে মোটরসাইকেলে অস্ত্রের মহড়ায় আরো ৮ জন গ্রেপ্তার

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর
টঙ্গীতে মোটরসাইকেলে অস্ত্রের মহড়ায় আরো ৮ জন গ্রেপ্তার
ছবি: কালের কণ্ঠ

গাজীপুরের টঙ্গীতে মোটরসাইকেলে অস্ত্রের মহড়ার ঘটনায় আরো আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ। এ নিয়ে একই ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১১ জনে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) এ তথ্য জানায়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—রিয়াজ (ওরফে রাজন), জাহাঙ্গীর শেখ, জহির, বায়েজিদ, রাজিব, হোসাইন, রাসেল ও সাগর। এর আগে একই মামলায় মানোয়ার হোসেন, কাজী তৌহিদুল ইসলাম সজিব ও রনি খাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ২৮ জুন টঙ্গীর শিল্পাঞ্চলের পাগার এলাকায় একটি ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে কয়েকশ মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে অস্ত্রের মহড়া দেওয়া হয়। এ ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন মণ্ডলসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পাগার এলাকার ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার লিমিটেড কারখানা থেকে মালামাল বের করার সময় অভিযুক্তরা মোটরসাইকেলে এসে কারখানা ঘিরে ফেলে। পরে তারা ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং অনুমতি ছাড়া ঝুট বিক্রি না করার হুমকি দেয়।

টঙ্গী পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তুহীন জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে অভিযানে আরও আটজনকে আটক করা হয়েছে। অস্ত্র প্রদর্শনকারী কিশোরসহ অন্য জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, কয়েকশ মোটরসাইকেলের বহর কারখানার সামনে অবস্থান নেয়। একটি মোটরসাইকেলের পেছনে বসা এক কিশোরকে দেশীয় লম্বা অস্ত্র হাতে প্রদর্শন করতে দেখা যায়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ভোলায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

ভোলা প্রতিনিধি
ভোলায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার কাচিয়া উইনিয়েনের আলোচিত গৃহবধূ আফজুন বেগম হত্যা মামলার রায়ে তার স্বামী মোক্তার হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ভোলা জেলা ও দায়রা জজ শরীফ এ এম রেজা জাকের এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মোক্তার হোসেনের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আফজুন বেগম। প্রায় ১৫ বছরের সাংসারিক জীবনে তাদের দুই সন্তান রয়েছে। মোক্তার হোসেন তার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া শালিকে বিভিন্ন সময়ে খারাপ ইঙ্গিত দিতেন। তার এসব বিষয় বড় বোন আফজুন বেগমকে জানালে তিনি স্বামীকে বিষয়টি জিজ্ঞেস করায় তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এ বিষয়ে নিয়ে আফজুন বেগমকে তার স্বামী প্রায়ই মারধর ও নানা ধরনের নির্যাতন চালাতেন।

২০১৯ সালের ৩০ জুন রাতে মোক্তার হোসেন ঘরের মধ্যে আফজুন বেগমকে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে জামাতা মোক্তার হোসেনকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় দীর্ঘ সাত বছর পর বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণসহ আসামির ১৬৪ ধারা জবানবন্দির আলোকে তাকের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

মামলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. তৈয়ব বলেন, এ মামলায় আসামি তার স্ত্রীকে গলাটিপে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। মামলাটি তদন্ত হয়েছে এবং আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। সাক্ষী এবং নিহতের ময়নাতদন্তের রিপোর্টসহ সব বিষয় পর্যালোচনা করে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করেন এবং রশিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন। এ রায়ে আমরা খুশি, আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি।

মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. ফরিদুর রহমান জানান, মামলায় যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন তারা কেউ বলেননি যে আসামি হত্যা করেছেন। তবে আসামি নিজে স্বীকার করেছেন তিনি তার স্ত্রীকে হত্যা করেছেন, আর এ আলোকেই হাকিম তাকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন। এ মামলা আপিলে গেলে সাজা কমে আসতে পারে।

কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে প্রবেশপত্র আসেনি ৯ পরীক্ষার্থীর, ইউএনওর হস্তক্ষেপে পরীক্ষা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে প্রবেশপত্র আসেনি ৯ পরীক্ষার্থীর, ইউএনওর হস্তক্ষেপে পরীক্ষা
ছবি : কালের কণ্ঠ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৯ শিক্ষার্থী ফরম পূরণের টাকা জমা দেওয়ার পরও প্রবেশপত্র না পাওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন চরম ভোগান্তিতে পড়েন। কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে তারা দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকলেও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিন দেখা যায়, প্রবেশপত্র ছাড়া কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করলে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের আটকে দেন। এতে তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন। পরে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বোর্ডের বিশেষ অনুমতিতে বিলম্বিত সময়ে ওই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, দেরিতে পরীক্ষায় অংশ নিতে হওয়ায় তারা মানসিক চাপে পড়েন। কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় দিলেও সেটি পর্যাপ্ত ছিল না বলে তাদের দাবি।

ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা হলেন—মানবিক বিভাগের শারমিন আক্তার, মাসুমা আক্তার, তানিয়া আক্তার, আয়েশা আক্তার নাজমিন, দিপা কাহার, পল্লবী ঠাকুরিয়া, শ্রাবন্তী শীল এবং অনিয়মিত পরীক্ষার্থী বৃষ্টি আক্তারসহ মোট ৯ জন।

কলেজের অধ্যক্ষ অসিত রঞ্জন পাল বিষয়টির দায় স্বীকার করে বলেন, প্রবেশপত্র না আসার বিষয়টি তার জানা ছিল না। এ ঘটনায় কম্পিউটার অপারেটর অনিক দেব এবং নিজের দায় রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইউএনও মো. জিয়াউর রহমান বলেন, এটি স্পষ্টতই দায়িত্বহীনতার ফল। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক কেন্দ্রে এসে বিষয়টি তদন্ত করে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বোর্ডের অনুমতি এবং জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

তিনি আরো জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে অভিযুক্ত কম্পিউটার অপারেটর অনিক দেবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হওয়ায় তারা শিক্ষাজীবন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।