ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। আজ বৃহস্পতিবার (০২জুলাই) দুপুরে উপজেলার কাচিয়া উইনিয়েনের আলোচিত গৃহবধূ আফজুন বেগম হত্যা মামলার রায়ে তার স্বামী মোক্তার হোসেনকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়। ভোলা জেলা ও দায়রা জজ শরীফ এ. এম. রেজা জাকের এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে, মোক্তার হোসেনের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আফজুন বেগম। প্রায় ১৫ বছরের সাংসারিক জীবনে তাদের দুই সন্তান রয়েছে। মোক্তার হোসেন তার ৭ম শ্রেণিতে পড়ুয়া শালীকে বিভিন্ন সময়ে খারাপ ইঙ্গিত দিতেন। তার এ সকল বিষয় বড় বোন আফজুন বেগমকে জানালে সে স্বামীকে বিষয়টি জিজ্ঞেস করায় তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এ বিষয়ে নিয়ে আফজুন বেগমকে তার স্বামী প্রায়ই মারধর ও নানা ধরনের নির্যাতন চালাতো।
২০১৯ সালের ৩০ জুন রাতে মোক্তার হোসেন ঘরের মধ্যে আফজুন বেগমকে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে জামাতা মোক্তার হোসেনকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় দীর্ঘ সাত বছর পর বিভিন্ন স্বাক্ষী প্রমানসহ আসামির ১৬৪ধারা জবানবন্ধীর আলোকে তাকের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
মামলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. তৈয়ব বলেন, এ মামলায় আসামি তার স্ত্রীকে গলাটিপে নির্মমভাবে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছেন। মামলাটি তদন্ত হয়েছে এবং আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। স্বাক্ষী এবং নিহতের ময়নাতদন্তের রিপোর্টসহ সকল বিষয় পর্যালোচনা করে সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় আদালত আসামির মৃত্যুদন্ডাদেশ প্রদান করেন এবং রশিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার আদেশ দেন। এ রায়ে আমরা খুশি, আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি।
মামলায় আসামী পক্ষের আইনজীবী মো. ফরিদুর রহমান জানান, মামলায় যারা স্বাক্ষী দিয়েছে তারা কেউ বলেনি যে আসামী হত্যা করেছে। তবে আসামে নিজে স্বীকার করেছেন সে তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে, আর এ আলোকেই হাকিম তাকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে। এ মামলা আপিলে গেলে সাজা কমে আসতে পারে।




