• ই-পেপার

১৮ বছরের বঞ্চনার অবসান, সিন্ডিকেট গুঁড়িয়ে দিলেন এমপি দিপু

উখিয়ায় ৬০ হাজার ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
উখিয়ায় ৬০ হাজার ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক

কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে জেলের ছদ্মবেশে ইয়াবা পাচারের সময় ৬০ হাজার ইয়াবাসহ মাদককারবারি রাশেদুলকে (২৫) আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল (২৯ জুন) বিকেলে অভিযানটি পরিচালনা করে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর বালুখালী বিওপি-এর একটি বিশেষ টহলদল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ নলবনিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ধাওয়া করে আটক করা হয়।

‘আনুমানিক বিকেল সাড়ে ৪টার পর মায়ানমার থেকে জেলের ছদ্মবেশে এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরের দিকে আসতে দেখে বিজিবি টহলদলের সন্দেহ হয়। বিজিবি সদস্যরা তাকে চ্যালেঞ্জ করলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়। তল্লাশির সময় আটক ব্যক্তির কোমরে বাঁধা অবস্থায় এবং হাতে থাকা মাছের টুকরির ভেতর বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা খাকি রঙের প্যাকেট থেকে নীল রঙের বায়ুরোধী ৬টি কার্টনে সংরক্ষিত মোট ৬০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।’

আটক রাশেদুল উখিয়ার বালুখালী নলবুনিয়া গ্রামের মাহাবুব আলমের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি স্বীকার করেছেন, তিনি মায়ানমার সীমান্ত থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে অধিক মূল্যে বিক্রির উদ্দেশে বাংলাদেশে নিয়ে আসছিলেন।

তিনি আরো জানান, নিজে এবং তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে মাছ ধরার জাল ও মাছের টুকরির মধ্যে ইয়াবা লুকিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে পাচার করে আসছিলেন। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান।

উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, মাদক সরবরাহকারী চক্র এবং তাদের সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি আরো জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শিক্ষকের সঙ্গে গোসলে নেমে পানিতে ডুবে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
শিক্ষকের সঙ্গে গোসলে নেমে পানিতে ডুবে শিক্ষার্থীর মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

সাভারের আশুলিয়ায়  বংশাই (গাজীখাল) নদীতে শিক্ষকের সঙ্গে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে রাতুল হাসান রিফাত (১৪) নামের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আশুলিয়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিক্ষকের অবহেলায় মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারটির। 

নিহত রাতুল হাসান রিফাত (১৪) জামালপুরের ইসলামপুর পৌরসভার উত্তর কিসমত জাল্লা এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে। সে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে আশুলিয়ার কোনাপাড়া এলাকায় আবুল হোসেনের ভাড়া বাড়িতে বসবাস করত এবং স্থানীয় আল-কলম প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।  

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বিকেল ৪টার দিকে শিক্ষক ইমরান নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাতসহ ৯ শিক্ষার্থীকে নিয়ে গাজীরখালে গোসল করতে আসেন। পানিতে নেমে রিফাতসহ আরো ২-৩ জন পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। এ সময় দুইজনকে পানি থেকে উঠাতে পারলেও পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয় রিফাত। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় এক ঘণ্টা পর রাহাতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে দ্রুত হাসপালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

স্থানীয় আমছু রহমান জানান, ‘আল কলম স্কুলের শিক্ষককে বারবার নিষেধ করা হয়েছে যে এখানে পানির স্রোত বেশি, নাইমেন না। এরপরও ৯ জন বাচ্চা নিয়ে সে নদীতে নামে। আধাঘণ্টা পরেই হঠাৎ ওই শিক্ষকসহ আরো দুই শিক্ষার্থী পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। পরে দুইজন উঠে আসতে পারলেও রিফাত নিখোঁজ হয়। এরপর স্থানীয় আরো বেশ কয়েকজনকে নিয়ে খোঁজাখোঁজি করে প্রায় এক ঘণ্টা পরে তার মরদেহ পাওয়া যায়।

স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, আল ক্বলম স্কুল থেকে কয়েক দিন পরপরই শিক্ষার্থীদের বিনোদনের নাম করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। আর আজকে এমনি করে নদীতে নিয়ে আসা হয়েছিল। একজন শিক্ষকের অবহেলায় এক মায়ের বুক খালি হলো। এ ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের শাস্তির দাবি জানাই। 

এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে স্কুলটির কর্ণধার খোরশেদ আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে সাংবাদিক পরিচয়ে তথ্য চাইলে তিনি ফোনটি কেটে দেন। পরে বারবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ ছাড়া একাধিকবার চেষ্টা করেও অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরানের কোনো বক্তব্য সংগ্রহ করা যায়নি।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। মরদেহ বর্তমানে ঢাকা কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালে রয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

গভীর সমুদ্রে বিকল ফিশিং বোটসহ ১০ জেলে উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
গভীর সমুদ্রে বিকল ফিশিং বোটসহ ১০ জেলে উদ্ধার

সেন্টমার্টিনের উত্তর-পশ্চিম গভীর সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে থাকা একটি ফিশিং বোটসহ ১০ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

সোমবার (২৯ জুন) রাতে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সূচনালগ্ন থেকেই বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের সুবিশাল সমুদ্র উপকূলীয় এবং নদী তীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এসব এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ ও সহায়তা প্রদান এবং সমুদ্রে মৎস্য আহরণে নিয়োজিত জেলেদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড মানুষের মাঝে নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

কক্সবাজারের টেকনাফ থানার শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রিপাড়া ঘাট থেকে ‘এফবি সামিহা’ নামক একটি ফিশিং বোট ১০ জন জেলেসহ গত ২৫ জুন ২০২৬ বৃহস্পতিবার মাছ ধরার উদ্দেশে সমুদ্রে যায়। গত ২৯ জুন সোমবার সকাল ৯টায় সেন্টমার্টিনের উত্তর-পশ্চিম গভীর সমুদ্র এলাকায় বোটটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে সমুদ্রে ভাসতে থাকে। পরবর্তীতে, দুপুর ১টায় বোটে থাকা একজন মাঝি মোবাইল কলের মাধ্যমে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট শাহপরীর নিকট সহায়তা চান।

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, তাৎক্ষণিকভাবে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট শাহপরী কর্তৃক উক্ত এলাকায় একটি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে বিকল হওয়া বোটসহ ১০ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় এবং তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত ১০ জন জেলেসহ ফিশিং বোটটি মালিকপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

তিনি আরো বলেন, জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

কর্ণফুলীতে লাইটার জাহাজডুবি, ১২ জন উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
কর্ণফুলীতে লাইটার জাহাজডুবি, ১২ জন উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলের কর্ণফুলী নদীর বঙ্গোপসাগর মোহনায় দুটি লাইটার জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ‘এমভি বে হারবার-২’ নামে পাথরবোঝাই একটি লাইটার জাহাজ নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে।

সোমবার (২৯ জুন) রাত ৩টার দিকে বন্দর চ্যানেলের ২ ও ৩ নম্বর বয়ার মাঝামাঝি স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর জাহাজের ১২ জন নাবিক নিখোঁজ হলেও কোস্ট গার্ড ও স্থানীয়দের যৌথ তৎপরতায় তাদের সবাইকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

বন্দর ও কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, রাতে ঘন কুয়াশার কারণে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি জাহাজের সঙ্গে ‘এমভি বে হারবার-২’-এর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে জাহাজটির খোল ফেটে গিয়ে দ্রুত পানি ঢুকতে শুরু করে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই জাহাজের ১২ জন নাবিক উত্তাল সাগরে তলিয়ে যান। খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের একটি উদ্ধারকারী দল মেটাল শার্ক ও বিশেষ উদ্ধারকারী বোট নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

তারা তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে সমুদ্রের বুক থেকে ৮ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে তীব্র স্রোতের কারণে বাকি ৪ জন নাবিক মূল দুর্ঘটনাস্থল থেকে ভেসে যান। পরবর্তী সময়ে প্রায় কয়েক কিলোমিটার দূরে আনোয়ারা উপজেলার পারকি সমুদ্রসৈকত এলাকায় তারা ভেসে উঠলে স্থানীয় জেলেরা ও সৈকতে থাকা লোকজন তাদের নিরাপদে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসেন।

কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের এক কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের টিম সাগরে উদ্ধার অভিযানে নামে। রাতের অন্ধকার ও সমুদ্রের তীব্র স্রোতের কারণে অভিযান বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, স্থানীয়দের সহযোগিতায় আমরা ১২ জন নাবিকের সবাইকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করতে পেরেছি। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. নাছির উদ্দিন বলেন, ‘পাথরবোঝাই লাইটার জাহাজটি ডুবে গেলেও চট্টগ্রাম বন্দরের মূল চ্যানেলে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটি মূল চ্যানেল থেকে কিছুটা দূরে ডুবে যাওয়ায় অন্য কোনো বড় জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে না। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে এবং দুর্ঘটনাস্থলে লাল বয়া বসানোর প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে উদ্ধারকৃত সব নাবিক সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছেন। জাহাজটি উদ্ধারে পরবর্তী আইনি ও কারিগরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’