• ই-পেপার

দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপি সব সময় আপসহীন : রাশেদ খান

সিরাজগঞ্জ

লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত তাঁত শিল্প, সড়কে মালিক-শ্রমিক

তাড়াশ-রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত তাঁত শিল্প, সড়কে মালিক-শ্রমিক
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে শনিবার ধানগড়া পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়। ছবি: কালের কণ্ঠ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিংয়ের  প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে তাঁত মালিক ও শ্রমিকরা। এ সময় তারা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে রায়গঞ্জ পৌরসভার পূর্ব লক্ষ্মীকোলা এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তাঁত মালিক ও শ্রমিকরা। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ধানগড়া পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ করেন তারা।

বিক্ষোভকারীরা লোডশেডিং বন্ধ করতে হবে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে হবে ইত্যাদি স্লোগান দেন। পরে তারা বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়ে সমাবেশ শেষ করেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পল্লী বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে তাঁতকলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায়  বন্ধ রাখতে হচ্ছে তাঁতকল। এতে মালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং কমে যাচ্ছে শ্রমিকদের কাজের ক্ষেত্রও।

সমাবেশে পূর্ব লক্ষ্মীকোলা এলাকার তাঁত মালিক ও শ্রমিকদের পক্ষ থেকে মো. মোত্তাকি বলেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় তাঁতকলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সময়মতো অর্ডারের কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে মালিক-শ্রমিক সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমরা দ্রুত লোডশেডিং কমিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানাচ্ছি।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাকিম বলেন, ‘বিদ্যুতের সমস্যায় শুধু তাঁতকল নয়, সাধারণ মানুষও ভোগান্তিতে পড়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন কাজও ব্যাহত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।’

এ ব্যাপারে রায়গঞ্জ উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের ভূঁইয়াগাঁতী জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. নিজামুল ইসলাম বলেন, বিক্ষোভের সময় আমি কার্যালয়ে ছিলাম না। তবে বিক্ষোভকারী মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেছি। তিনি বলেন, তাঁতকলের সংযোগ লাইনটি অনেক পুরনো হওয়ায় অধিকাংশ সময় নানা ত্রুটি দেখা দেয়। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, যেন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়।

কুমিল্লায় প্রতিবন্ধী যুবককে জবাই করে হত্যা, নারী আটক

লালমাই-সদর দক্ষিণ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
কুমিল্লায় প্রতিবন্ধী যুবককে জবাই করে হত্যা, নারী আটক
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় এনায়েত রহমান বাহার (৩৫) নামের এক শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবককে ঘরে ডেকে নিয়ে গলা কেটে (জবাই করে) হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত জুমা আক্তার নামে সেই নারীকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বাগমারা উত্তর ইউনিয়নের দত্তপুর পূর্বপাড়া এলাকায় সৌদিপ্রবাসী সুমন চৌধুরীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শারীরিক প্রতিবন্ধী এনায়েত রহমান ও প্রবাসী সুমন চৌধুরী প্রতিবেশী। কয়েক বছর আগে দুই পরিবারের মধ্যে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সুমন চৌধুরী প্রায় এক মাস আগে দেশে ছুটিতে এসে তার স্ত্রীর প্রতি নিহতের অসদাচরণের অভিযোগ তোলেন। কিন্তু  নিহত এনায়েত রহমান শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যায়। গত চার দিন আগে সুমন আবারও সৌদি আরব ফিরে যান। আজ ফজরের নামাজের পর শারীরিক প্রতিবন্ধী এনায়েত রহমান হাঁটতে বের হন। তখন সুমনের স্ত্রী তাকে ঘরে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন।

নিহতের মা নেহারা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিল। দুই হাতের কবজি ও আঙুল অকার্যকর থাকায় স্বাভাবিকভাবে কোনো কাজ করতে পারত না। প্রতিবেশীদের সঙ্গে জমি ও সীমানা নিয়ে বিরোধ ছিল। আজ সকালে ফজরের নামাজের পর হাঁটতে বের হলে আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে ওই নারী। আমি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসি দাবি করছি।’

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত নারীকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

রেললাইনে বসে ফোনালাপ, নাটোরে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর

নাটোর প্রতিনিধি
রেললাইনে বসে ফোনালাপ, নাটোরে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর
ছবি : কালের কণ্ঠ

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় রেললাইনের ওপর বসে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় ট্রেনের ধাক্কায় মধু হোসেন (৪০) নামের এক গরু ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে উপজেলার মালঞ্চি রেলস্টেশনের অদূরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মধু হোসেন লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মধু হোসেন রেললাইনের ওপর বসে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। এ সময় ঢাকাগামী লালমনিহাট এক্সপ্রেস ট্রেনটি ওই পথে অতিক্রম করলে তিনি ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পটিয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় নারী নিহত, আহত ১

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
পটিয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় নারী নিহত, আহত ১
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের পটিয়ায় রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় নুর নাহার (৫৫) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো এক নারী।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুর ১টার দিকে পটিয়া পৌর সদরের বাহুলী শ্রীমাই ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নুর নাহার কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার হোয়ালক ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রাজুয়ারঘোনা এলাকার মো. মালেকের স্ত্রী। আহত রাশেদা বেগম (৬৫) একই গ্রামের সমিউদ্দিনের স্ত্রী।

পুলিশ, হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নুর নাহার ও রাশেদা বেগম বাহুলী এলাকার একটি কৃষিজমিতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করছিলেন। দুপুরে খাবার খেতে যাওয়ার সময় রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করলে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেন তাদের ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নুর নাহারের মৃত্যু হয়। অপরদিকে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় রাশেদা বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা এস এম রেজা রিপন বলেন, ট্রেনের বিকট শব্দ ও মানুষের চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, একজন নারী মারা গেছেন এবং আরেকজন গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ও পটিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতসহ প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম শুরু করা হয়।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মুনতাহিনা জানান, আহত রাশেদা বেগমের মাথার বাম পাশে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং রক্ত জমাট বেঁধেছে। তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

পটিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) যুযুৎসু যশ চাকমা বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এটি দুর্ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।’

রেলওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক অসীম চন্দ্র ধর বলেন, ‘রেললাইন পারাপারের সময় ট্রেনের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার সবদিক তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাহুলী শ্রীমাই ব্রিজ এলাকায় নিরাপদ রেলপারাপারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে মানুষ রেললাইন অতিক্রম করে। এ কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। ভবিষ্যতে প্রাণহানি এড়াতে সেখানে নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।