• ই-পেপার

ইউএনওর কাছে গাঁজা সেবনের টাকা চেয়ে আটক যুবক

নুজসাত আত্মহত্যা মামলা : গ্রেপ্তার প্রাইভেট শিক্ষকের রিমান্ড শুনানি রবিবার

রংপুর অফিস
নুজসাত আত্মহত্যা মামলা : গ্রেপ্তার প্রাইভেট শিক্ষকের রিমান্ড শুনানি রবিবার
ছবি: কালের কণ্ঠ

রংপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী নুজসাত জাহানের (১৮) মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রাইভেট শিক্ষক শাহরিয়ার আহমেদ সাকিনের (২৪) জামিন ও রিমান্ড শুনানি আগামী রবিবার অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে রংপুর সিএমএম আদালতে শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক জুলকার নাইন এই আদেশ দেন। 

আদালত উপ-পুলিশ পরিদর্শক রিয়াজু ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব নির্ধারিত জামিন শুনানি হয়নি, তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদন করায় আগামী রবিবার জামিন এবং রিমান্ড শুনানি হবে।

গ্রেপ্তার শাহরিয়ার আহমেদ সাকিন নগরীর চিকলিভাটা এলাকার ফোরকান আলীর ছেলে। তিনি রংপুর মেডিক্যাল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।

গত ২৩ জুন নুজসাতের বাবা নজরুল ইসলাম রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানায় এজাহার দিলে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে শাহরিয়ার আহমেদ সাকিনের নাম উল্লেখ করা হয়। পরে সাকিনকে গ্রেপ্তার করে মহানগর ডিবি পুলিশ। 

রংপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী জানান, প্রাথমিক তদন্তে সাকিনের সঙ্গে নুজসাতের ৯ থেকে ১০ মাসের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে টেক্সট আদান-প্রদান ও কথোপকথনের কিছু প্রমাণ পুলিশের হাতে এসেছে। মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের মধ্যে অনেক কথা হয়েছে।

পুলিশ ও সিসিটিভি ফুটেজ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২২ জুন) বিকেলে নুজসাত বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে বের হন। বিকেল ৪টা ৫৪ মিনিটে তিনি একা হোটেল নর্থ ভিউ অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করেন এবং লিফটে করে সরাসরি ভবনের ছাদে চলে যান। সেখানে তিনি প্রায় এক ঘণ্টার মতো অবস্থান করেন এবং ফোন ব্যবহার করছিলেন। একপর্যায়ে বিকেল ৫টা ৪২ মিনিটের দিকে ছাদের রেলিংয়ের ওপর বসার সময় তিনি উল্টো দিকে নিচে পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

হালুয়াঘাটে মাদকবিরোধী অভিযানে ১০ জনের ১২ মাসের কারাদণ্ড

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ
হালুয়াঘাটে মাদকবিরোধী অভিযানে ১০ জনের ১২ মাসের কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে ১০ জনের প্রত্যেককে ১ বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার বিকেলে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নতুন বাসস্ট্যান্ডে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন শেরপুর জেলার ডোবারচর গ্রামের নাজিমউদ্দীনের পুত্র মো. সামিদুল ইসলাম (৩০), ফুলবাড়িয়া এলাকার মো. হোসেন আলীর পুত্র আলামিন (৩০), হালুয়াঘাট পৌরসভার উত্তর খয়রাকুড়ি এলাকার ইব্রাহিম হোসেনের পুত্র মো. ইসমাইল হেসেন (৩৬), আকনপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল হাসিম খানের পুত্র মো. লিটন মিয়া (৪৪), নেত্রকোনা জেলার মুক্তারপাড়া গ্রামের মো. তারা মিয়ার পুত্র মো.আলামিন মিয়া (৪২), হালুয়াঘাটের সদর ইউনিয়নের শাপলা বাজারের মৃত আবুল কাসেমের পুত্র মো. শাহ আলম (২৮), উত্তর আকনপাড়া গ্রামের মুনসুর আলীর পুত্র মারুফ (২৬), মধ্য আকনপাড়া গ্রামের জাকির হোসেনের পুত্র মো. তিতাস (২৭), ইসলামপুর গ্রামের মো. বাবুল মিয়ার পুত্র মো. উজ্জল মিয়া (৩৫) ও দক্ষিণ মনিকুড়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের পুত্র মো. সুরুজ মিয়া (৩২)।

সাজাপ্রাপ্তরা হালুয়াঘাট ও বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা।

জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে মাদক সেবন ও বিক্রির সময় ১০ জন ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমেদ। এ সময় থানা পুলিশের সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমেদ বলেন,  ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ সাজা দেওয়া হয়। পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬ (৫) ধারায় ১ (এক) বছরের জেল দুই শত টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে ৩ (তিন) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

তিনি আরো জানান, উপজেলায় মাদক নির্মূলে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এ ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

ভালুকায় ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা, এলাকায় আতঙ্ক

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ভালুকায় ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা, এলাকায় আতঙ্ক
সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের মাস্টারবাড়ী এলাকায় অবস্থিত এসকিউ কারখানার ঝুট (ওয়েস্টেজ) ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে কয়েক শ লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে এলাকায় মিছিল ও মহড়া দেয়। এ সময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এসকিউ কারখানার ঝুট সংগ্রহ ও বিক্রির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে স্থানীয় বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরেই সাম্প্রতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের কারণে এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তারা যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এবং প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এর আগেও একই বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম বাসান বলেন, আওয়ামী লীগের কিছু লোক ও মামলার আসামিরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করছিল। তাদের প্রতিহত করতেই মিছিল বের করা হয়।

অন্যদিকে এসকিউ কারখানার ঝুট ব্যবসার কার্যাদেশ দাবিদার উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোহাম্মদ মুর্শেদ আলম দাবি করেন, তিনি দীর্ঘ ২২ বছর ধরে ওই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর একটি পক্ষ তার ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কারখানা থেকে ঝুট বের করতে পারেননি।

এ বিষয়ে ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, মাস্টারবাড়ি এলাকায় গোলযোগের কোনো ঘটনার বিষয়ে তার কাছে তথ্য নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, ঝুট ব্যবসা নিয়ে এর আগেও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ হয়েছিল। কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা নিজেদের সিদ্ধান্তে মালামাল বের না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কোনো ভূমিকা নেই বলে তিনি জানান।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চু বলেন, ফ্যাসিবাদপন্থী লোকজন একত্রিত হওয়ার খবর পেয়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল করেছেন। তবে এ ঘটনায় কারখানার ব্যবসা-সংক্রান্ত কোনো বিষয় তার জানা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ড দেখার জন্য সড়ক বিভাজকের ২৫টি গাছ কর্তন, থানায় মামলা

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ড দেখার জন্য সড়ক বিভাজকের ২৫টি গাছ কর্তন, থানায় মামলা
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বিজ্ঞাপনের বড় বিলবোর্ড দেখার জন্য সড়ক বিভাজনের ২৫টি বিভিন্ন জাতের ফুল গাছ রাতের আঁধারে কেটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বিজ্ঞাপনের বড় বিলবোর্ড গুলো মহাসড়কের বিভাজনের গাছের কারণে দেখতে সমস্যা হওয়ায় মহাসড়কের বিভাজনের লাগানো ২৫টি বিভিন্ন জাতের ফুল গাছ রাতের আঁধারে কেটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামের শামুকসার এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা করেছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগ। 

মহাসড়কের বিভাজকে থাকা সারি সারি ফুল গাছ যে কারোরই মন কেড়ে নেয়। গাছগুলো দেশের ব্যস্ততম এই মহাসড়কের সৌন্দর্যও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মহাসড়কটির সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য এসব গাছ লাগিয়েছিল সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উদ্যোগে। অথচ রাতের আঁধারে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা কর্তন করেছে গাছ গুলো। 

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শামুকসার এলাকায় মহাসড়কের বিভাজকের লাগানো প্রায় ২৫টি ফুল গাছ রাতের আঁধারে এ দুর্বৃত্তরা কর্তন করেছে। স্থানীয়রা জানায় মহাসড়কের পাশে ক্রাউন সিমেন্টের একটি বিজ্ঞাপন বিলবোর্ড রয়েছে। সড়কের বিভাজনের কাজগুলোর জন্য বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ড দেখতে সমস্যা হওয়ায় বিলবোর্ডের স্থানীয় দায়িত্বে থাকা রুবেল নামের এক লোক রাতের আঁধারে কাজগুলো কেটে নিয়েছেন। 

কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্য সহকারী মোবারক হোসেন বলেন, চৌদ্দগ্রাম থানাধীন উজিরপুর ইউনিয়নের শামুকসার মেসার্স শাহ নেওয়াজ ব্রিকফিল্ডের পূর্ব পাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাঝখানের বিভাজনের মধ্য থেকে কে বা কারা গাছগুলো কেটে নিয়ে গেছে।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফ হোছাইন গাছ কাটার ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা হয়েছে। মামলার তদন্ত প্রক্রিয়াধীন।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুমিল্লার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আদনান ইবনে হাসান বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম সামুসার এলাকায় মহাসড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য গাছগুলো লাগানো হয়েছিল। কিছু দুর্বৃত্ত গাছগুলো কেটে নিয়েছে। গাছ কাটার ঘটনায় আমরা থানায় মামলা করেছি।‌’