• ই-পেপার

শেষ বয়সে নিজের ঘরে মরতে পারবো কিনা জানি না—ভাঙনে বৃদ্ধের হাহাকার

মসজিদে নামাজরত যুবককে কুপিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
মসজিদে নামাজরত যুবককে কুপিয়ে হত্যা
সংগৃহীত ছবি

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মসজিদে নামাজরত ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে। রবিবার (২১ জুন) দুপুরে উপজেলার কাজিরহাট থানার আন্দারমানিক ইউনিয়নের কাঞ্চন সরদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

হত্যাকাণ্ডের শিকার মো. নজরুল সরদার (৪৫)। তিনি আন্দারমানিক ইউনিয়নের কাঞ্চন সরদারের ছেলে। অভিযুক্ত বড় ভাই হারুন সরদার। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।

পরিবার ও থানা সূত্রে জানা যায়, কাঞ্চন সরদারের বড় ছেলে হারুন সরদার ও চতুর্থ ছেলে মজিবুর সরদারের মধ্যে জমিজমার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। তৃতীয় ভাই সৌদিপ্রবাসী মো. নজরুল সরদার তার চতুর্থ ভাই মজিবুর সরদারের পক্ষে কথা বলায় ক্ষিপ্ত হনবড় ভাই হারুন সরদার। জোহরের নামাজ পড়া অবস্থায় মো. নজরুল সরদারকে এলোপাতাড়ি পেটে ও শরীরে কুপিয়ে জখম করেন হারুন। ভুক্তভোগীর ডাকচিৎকার শুনে আত্মীয়-স্বজন ও আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মুলাদী হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কাজিরহাট থানা পুলিশের ওসি মো. সিদ্দিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ভাইদের মধ্যে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এক ভাই ওপর ভাইয়ের পক্ষে কথা বলায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নজরুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

প্রক্সি পরীক্ষায় চাকরি, যোগদান করতে এসে নোয়াখালীতে আটক ৩; পলাতক ১

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ
প্রক্সি পরীক্ষায় চাকরি, যোগদান করতে এসে নোয়াখালীতে আটক ৩; পলাতক ১
ছবি: কালের কণ্ঠ

প্রবেশপত্রে ছবি জালিয়াতি করে প্রক্সি পরীক্ষার মাধ্যমে কর অঞ্চল নোয়াখালীর নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া চার প্রার্থী চাকরিতে যোগদান করতে এসে ধরা পড়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে, আরেকজন পালিয়ে গেছেন।

রবিবার (২১ জুন) রাত ও সোমবার সকালে নোয়াখালীর মাইজদী বাজারস্থ কর অঞ্চল কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত কামাল উদ্দিন, অফিস সহায়ক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত নাসফুর উল্যাহ হুমায়ুন এবং মো. সুজন। অপর অফিস সহায়ক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত রাশেদ উদ্দিন আটক হওয়ার আশঙ্কা টের পেয়ে পালিয়ে যান।

কর বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন অনুষ্ঠিত লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার মাধ্যমে ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডে ১১২ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচিতদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ যোগদানের নির্দেশনা দেওয়া হলে রবিবার তারা কার্যালয়ে উপস্থিত হন।

যোগদান করতে আসা কয়েকজনকে দেখে নিয়োগ কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। পরে তাদের কাগজপত্র ও হাতের লেখা যাচাই করে দেখা যায়, তারা নিজেরা পরীক্ষায় অংশ নেননি। বরং অন্য ব্যক্তির মাধ্যমে প্রক্সি পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা বিষয়টি স্বীকারও করেন।

রবিবার রাতে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ ও সিআইডিকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে আটক করে। সোমবার সকালে আরো দুজন এলে সুজনকে আটক করা হলেও রাশেদ উদ্দিন পালিয়ে যান।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানান, ঢাকার একটি জালিয়াত চক্রের সঙ্গে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের চুক্তি হয়েছিল। ওই চক্র সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী সরবরাহ করে থাকে। চাকরির আবেদনের সময়ই পরীক্ষার্থীর ছবি পরিবর্তন করে জালিয়াতির ব্যবস্থা করা হয়।

নোয়াখালী কর অঞ্চলের উপ-কর কমিশনার এনামুল হোসেন নোমান বলেন, ‘নিয়োগপ্রাপ্তদের পরীক্ষা আমরা নিয়েছি, তাই তাদের চিনি। সন্দেহ হওয়ায় হাতের লেখা মিলিয়ে নিশ্চিত হই যে তারা প্রক্সি পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হয়েছে। এরপর তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পলাতক রাশেদকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. লিয়াকত আকবর জানান, আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি এ জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

পীরগাছায় ইয়াবা-গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি
পীরগাছায় ইয়াবা-গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১
সংগৃহীত ছবি

রংপুরের পীরগাছায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত মাদক সম্রাট শাহিন মিয়াকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ৩৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৫০ গ্রাম শুকনা গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে গ্রেপ্তার শাহিন মিয়াকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার শাহিন মিয়া উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের পরান এলাকার মৃত হাবিবুল্লাহর ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২১ জুন) রাত ১টা ২০ মিনিটে পীরগাছা থানার ওসি একেএম খন্দকার মুহিব্বুল ইসলামের নেতৃত্বে উপজেলার পরান এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে এসআই ফিরোজ, এসআই রফিকুল, এসআই শাহ আলম, এসআই শামীম, এএসআই রেজাউল ও এএসআই সেলিমসহ পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় রুহুল আমিনের বাড়ির সামনে থেকে শাহিন মিয়াকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ৩৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৫০ গ্রাম শুকনা গাঁজা উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১২টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া একটি জিআর মামলায় আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও ছিল।

পীরগাছা থানার ওসি একেএম খন্দকার মুহিব্বুল ইসলাম বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে পীরগাছা থানা পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে। অভিযানে একজন চিহ্নিত মাদক কারবারিকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

ডাকযোগে চিঠি পাঠিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে হত্যার হুমকি

জামালপুর প্রতিনিধি
ডাকযোগে চিঠি পাঠিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে হত্যার হুমকি
সংগৃহীত ছবি

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় ডাকযোগে চিঠি পাঠিয়ে মোহাম্মদ সবুজ নামের স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২২ জুন) দুপুরে মোহাম্মদ সবুজ তার ফেসবুক আইডিতে চিঠির ছবি প্রকাশ করে হুমকির বিষয়টি জানান।

হুমকির শিকার মোহাম্মদ সবুজ ইসলামপুর উপজেলার ৩ নম্বর চিনাডুলী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক। তিনি ওই ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।

চিঠির খামের ওপর প্রাপকের ঠিকানায় লেখা রয়েছে, মোহাম্মদ সবুজ, পিতা জাহাঙ্গীর আলম। খামের বাম পাশে মুজিব শতবর্ষের লোগো এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি রয়েছে।

চিঠিতে লেখা হয়, ‘তুই নিজেকে অনেক বড় নেতা ভাবিস। অপেক্ষা করতে থাক। তুই পুলিশকে নিয়ে বড়াই করিস। আমরা পুলিশ ব্যবহার করব না, তোকে গাছের সঙ্গে লটকিয়ে মারব, ইনশাআল্লাহ। অপেক্ষা করতে থাক। তোর কোন বাপ আছে, তোকে বাঁচাবে না।’

মোহাম্মদ সবুজ বলেন, ‘আমি তখন বাড়ির বাইরে ছিলাম। পরে শুনতে পাই, আবু তালেব নামের এক ব্যক্তি আমাদের বাড়ির সামনে এসে চিঠিটি ফেলে চলে যায়। পরে ডাকঘরে গেলে তারা জানায়, চিঠিটি ইসলামপুরে এসেছে এবং ঠিকানামতো দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপি বা আওয়ামী লীগের কারো সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। কে বা কারা এ চিঠি পাঠিয়েছে, তা বলতে পারছি না। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি করিনি।’

ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’