জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে যমুনা নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজের ৭ ঘন্টা পর দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধায় উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের রাধানগর সানসেট পয়েন্ট এলাকার যমুনা নদী থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় পরিবার ও এলাকার শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
উদ্ধার হওয়া শিশুরা হলো, পিংনা ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের ফিরোজ মিয়ার ছেলে ইসমাইল মিয়া (৭) একই এলাকার শামীম মিয়ার ছেলে ওসমান (৮)। তারা দুইজনই স্থানীয় পিংনা নুরানি মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র।ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে পিংনা রাধানগর সানসেট পয়েন্ট এলাকায় তিন শিশু একসঙ্গে যমুনা নদীতে গোসল করতে নামে। গোসলের একপর্যায়ে নদীর তীব্র স্রোতে দুই শিশু তলিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান। এসময় সঙ্গে থাকা অন্য শিশুদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও ততক্ষণে শিশু দুটি পানিতে তলিয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে জামালপুরের ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ৪ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে নদী থেকে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করে।
নিহত শিশু ওসমান গণির বাবা শামীম মিয়া জানান, দুপুরে ওসমান গণিসহ তিন বন্ধু বাড়ীর পাশে সানসেট পয়েন্ট সংলগ্ন যমুনা নদীতে গোসলে নামে। তার একটু পরেই গোসল শেষ করে দ্রুত বাড়ীতে আসতে বলে রাস্তায় চলে আসি। আধাঘন্টা পরেই জানতে পাই ছেলে ওসমান গণিসহ দুইজন নদীতে নিখোঁজ হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে সন্ধার দিকে দুইজনের লাশ উদ্ধার করেছে।
জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের লিডার শহিদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, ‘যমুনা নদীতে গোসলে নেমে দুই শিশু নিখোঁজের সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। দুইজন ডুবুরি দীর্ঘ ৪ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’
এ ব্যাপারে তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে গোসলে নেমে দুই শিশু নিখোঁজ হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল চেষ্টা চালিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে লাশের সুরতহাল রিপোর্টের পর কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।




