সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট তৈরি করে এক কিশোরকে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বুধবার (১৭ জুন) রাতে জামালগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কিশোরের বড় ভাই আলী মিয়া।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কামধরপুর গ্রামের মৃত দুলাল মিয়ার ছেলে ছামিরুল ইসলামকে (১৫) সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে একই গ্রামের বর্ষা (২৮) নামের এক নারী নিজেকে অন্তঃসত্ত্বা দাবি করেন। পরে সেই দাবির সমর্থনে ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট তৈরির চেষ্টা করেন তিনি।
অভিযোগে আরো বলা হয়, বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ভুয়া রিপোর্ট তৈরির প্রস্তাব দেন ওই নারী। তবে একাধিক স্থানে ব্যর্থ হওয়ার পর কৌশল পরিবর্তন করে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীকে সঙ্গে নিয়ে জামালগঞ্জের মেহেরুন্নেছা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান তিনি। সেখানে ওই নারীর আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট নিজের নামে নেওয়ার চেষ্টা করেন বর্ষা। পরে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে। এ সময় স্থানীয়রা জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান তিনি।
মেহেরুন্নেছা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মিসবাহ উদ্দিন বলেন, বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় অভিযুক্ত নারীর নামে কোনো রিপোর্ট দেওয়া হয়নি।
মেডিকো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. এফাউল মিয়া বলেন, একজন নারী ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট সংগ্রহের চেষ্টা করেন। আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি।
অভিযোগকারী আলী মিয়া বলেন, আমার ভাই এখনো অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাকে ফাঁসিয়ে আমাদের পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য এ পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
অভিযুক্ত বর্ষা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি মানহানির মামলার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বন্দে আলী বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






