• ই-পেপার

জবিতে ২ দিনব্যাপী রবীন্দ্র-নজরুল উৎসবের উদ্বোধন

শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম আটকে দেওয়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সরকার : শিক্ষামন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম আটকে দেওয়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সরকার : শিক্ষামন্ত্রী

মামলা করে নিয়োগ কার্যক্রম আটকে দেওয়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বুধবার (২৪ জুন) সকালে রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটরিয়ামে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ উপলক্ষে চার শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময়সভায় তিনি এ তথ্য জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ৯ মাসের পিটিআই ট্রেনিং, পিএসসির ব্যাকলগ কিংবা এনটিআরসিএর শিক্ষক নিয়োগে সব জায়গায় মামলা দিয়ে স্থবিরতা তৈরি করা হচ্ছে। ১৫ হাজার শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার পরও মামলা করে নিয়োগ আটকে দেওয়া হয়েছে। একটি গ্রুপ ও অ্যাসোসিয়েশনের কিছু লোক এই মামলার সঙ্গে জড়িত। আমি তাদের চিহ্নিত করছি।

তিনি বলেন, যারা জাতি গঠনের অগ্রযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করে, তারা রাষ্ট্রের শত্রু, দেশের শত্রু। এ বিষয়ে মহামান্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সরকারও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

নকল প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নকল এখন নেই, এটা আমরা বিশ্বাস করি। কিন্তু নকলের রূপ চেঞ্জ হয়েছে। করোনার মতো ভ্যারিয়েন্ট চেঞ্জ হয়েছে। সে জন্য আমরা ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষার আইন পরিবর্তন করেছি। কেবিনেট পাস করেছে, এবার সংসদে সেটা পাস হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানে নকল পাওয়া গেল। একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী, তার বয়স ১৬ বছর। একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ককে (জুভেনাল) আমরা শাস্তি দিতে পারি না। আমরা তাকে প্রভিশনে পাঠাতে পারি, কিন্তু নকলটা যে প্রতিষ্ঠানে পাওয়া গেল, প্রতিষ্ঠান প্রধান রেসপন্সিবল। তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
 

উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণে ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করছে ইউজিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণে ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করছে ইউজিসি
ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে একটি জাতীয় নীতি কাঠামো (ন্যাশনাল ফ্রেমওয়ার্ক) প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এই কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং একই সঙ্গে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বৈশ্বিক অংশীদারি সম্প্রসারণ সহজ হবে।

বুধবার (২৪ জুন) ইউজিসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত অগ্রগতি হয়। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস, ব্রিটিশ হাইকমিশন এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ সভায় সভাপতিত্ব করেন।

উচ্চশিক্ষা নীতি বিশেষজ্ঞ ও ফুলব্রাইট স্পেশালিস্ট ড. গ্রেস মুকুপা এই জাতীয় নীতি কাঠামো তৈরিতে সহযোগিতা করছেন। নীতিমালা প্রণয়ন ও পর্যালোচনার জন্য ইউজিসি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত কাঠামো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ডুয়াল ডিগ্রি, জয়েন্ট ডিগ্রি, শিক্ষক–শিক্ষার্থী বিনিময় এবং যৌথ গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, উচ্চশিক্ষা খাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে দেশে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় উচ্চশিক্ষা পরিবেশ গড়ে তোলাও এর উদ্দেশ্য।

নীতিমালার আওতায় ‘টু প্লাস টু’ মডেল চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এই ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা প্রথম দুই বছর বাংলাদেশে এবং পরবর্তী দুই বছর অংশীদার বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করবেন। সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করলে শিক্ষার্থীরা উভয় প্রতিষ্ঠানের পৃথক ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবেন।

বৈঠকে ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক জেসমিন পারভীন, আমেরিকান সেন্টারের পাবলিক এনগেজমেন্ট ডিরেক্টর স্কট হার্টম্যান, পাবলিক এনগেজমেন্ট স্পেশালিস্ট রায়হানা সুলতানা ও  পাবলিক এনগেজমেন্ট কো-অর্ডিনেটর ফারোহা সোহরাওয়ার্দী, ব্রিটিশ হাইকমিশনের ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট বিষয়ক পরিচালক সাকিব এরশাদ, ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজার সৈয়দ হাবিবুর রহমান, ব্রিটিশ কাউন্সিলের হেড অব এডুকেশন তৌফিক হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইবির সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড স্থগিত

ইবি প্রতিনিধি
ইবির সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড স্থগিত
সংগৃহীত ছবি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টায় বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়। 

রেজিস্ট্রার দপ্তর জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রার্থী উপস্থিত না হওয়ায় সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করা হয়েছে।

এর আগে গত ৪ মার্চ কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয়টির সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা। এ ঘটনায় ইবি থানায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান এবং বিভাগটির সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার, হাবিবুর রহমানসহ আরো এক কর্মকর্তাকে আসামি করে মামলা করা হয়। এ ছাড়া বিভাগটির অন্য আরেকজন শিক্ষক শিক্ষা ছুটিতে রয়েছেন। এতে বিভাগটি শিক্ষক শূন্য হয়ে পড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগটির সহকারী অধ্যাপকের জন্য একটি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় প্রশাসন। এতে তিনজন প্রার্থী আবেদন করেন। আজ বুধবার নিয়োগের বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এতে মাত্র দুজন প্রার্থী উপস্থিত হন। ফলে নিয়োগ বোর্ডের শর্ত পূর্ণ না হওয়ায় বোর্ড স্থগিত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদিকে ৩০ জুনের আগে নিয়োগ সম্পন্ন না হলে পদ বাতিল হয়ে যাবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, নিয়োগ বোর্ড সম্পন্ন করার জন্য ন্যূনতম তিনজন প্রার্থীর উপস্থিতি প্রয়োজন। সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডে তিনজন উপস্থিতি না থাকায় বোর্ড স্থগিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

গান নয়, শিক্ষার্থীদের অভিযোগে ঢাবির সেই শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
গান নয়, শিক্ষার্থীদের অভিযোগে ঢাবির সেই শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত
সংগৃহীত ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তাশরিক-ই-হাবিবকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গাওয়ার কারণে নয়, বরং আর্থিক অনিয়ম ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতেই সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান পরিবেশন করে তিনি আলোচনায় আসেন। তবে বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা দেখা দেয়।

অনেকে প্রশ্ন তোলেন, গান গাওয়ার কারণে কি তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

বাংলা বিভাগের একাডেমিক কমিটি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিবের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, বিভাগীয় শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এবং নন-একাডেমিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত ও আলোচনা চলছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগীয় একাডেমিক কমিটি সর্বসম্মতভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে।

বাংলা বিভাগের একাডেমিক কমিটির একাধিক সভায় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৩ মে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার জবাব একাডেমিক কমিটির কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি।

অধ্যাপক তরিক মনজুরের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে এমফিল ও পিএইচডি গবেষকদের কাছ থেকে বিধিবহির্ভূতভাবে অর্থ গ্রহণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, তার লেখা বা প্রকাশিত বই না কেনার কারণে নম্বর বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সাম্প্রতিক পোস্ট ও ভিডিও নিয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয় বলে জানা গেছে।

বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট সভায় তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ‘গান গাওয়ার কারণে নয়; বরং আর্থিক অনিয়ম ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এবং বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই সিন্ডিকেট তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।’