বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শিক্ষার উন্নয়ন, মানবসম্পদের মানোন্নয়ন এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জনের ওপর নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন। তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এ জন্য শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (১৭ জুন) পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) দুই দিনব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন পাওয়ার, ইলেকট্রনিকস, কমিউনিকেশনস, কম্পিউটিং অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার-২০২৬’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য এবার প্রথমবারের মতো বাজেটে আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। উদ্ভাবনী শক্তির মাধ্যমে সরকারের সাফল্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন দেশের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষকদের সংযোগ স্থাপনের সুযোগ তৈরি করে। এতে নতুন গবেষণার প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়বে।
সম্মেলনে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের গবেষক, বিজ্ঞানী, শিল্পবিশেষজ্ঞ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিকস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থা, যোগাযোগ প্রযুক্তি, নেটওয়ার্ক ও নিরাপত্তা, স্মার্ট প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো এবং উন্নত ইলেকট্রনিকস, ভিএলএসআই ও এমবেডেড সিস্টেমসহ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হচ্ছে।
প্রথম দিনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাপানের আইজু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জুংপিল শিন। আয়োজকেরা জানান, প্রথম দিনে শতাধিক গবেষক ১৮০টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। দুই দিনে মোট ৩৯টি সেশনে ৩০৮টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপিত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সম্মেলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মো. শামীম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শুধু শিক্ষার্থী তৈরি করা নয়, সামাজিক সমস্যার সমাধানে জ্ঞানভিত্তিক ভূমিকা রাখা। বিশ্ব দ্রুত প্রযুক্তিগত রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে থাকতে হবে।
তিনি আরো বলেন, নবীন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সামনে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। গবেষণার অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। এ ধরনের সম্মেলন তরুণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করে, যা গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান, বুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ আনোয়ারুল ফাত্তাহ, অধ্যাপক ড. সিলিয়া শাহনাজ, অধ্যাপক ড. মো. ইমামুল হাসান ভূঁইয়া এবং সম্মেলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সম্মেলনের সমাপনী দিনে দেশি-বিদেশি শতাধিক গবেষক তাঁদের গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন।




